ষষ্ঠ ধাপে ১২ উপজেলায় আজ সোমবার শুরু হচ্ছে ভোটের লড়াই। এছাড়া এদিন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোট গ্রহণ। ভোটে উত্সব আমেজ থাকবে নাকি পূর্বের মতো সহিংসতা হবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ভোট শুরুর আগেই বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষ এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণে এক প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের দোকানপাটে হামলা-ভাংচুর করেছে ক্ষমতাসীন প্রার্থীর কর্মীরা। তবে শংকার মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় ক্লান্ত প্রার্থীরা জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন। নির্বাচনে সার্বিক প্রস্তুতির অংশ হিসাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন-আশাবাদ ব্যক্ত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ৭৪৬টি কেন্দ্রে ২০ হাজারের অধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত রাখতে মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে ব্যালট বাক্স, পেপার, কলম, পেন্সিল, অমোচনীয় কালি, রাবার ও স্কেলসহ ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ইসির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনিটরিং সেল বসানো হয়েছে। এবার প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়েছে। এতো প্রস্তুতির মধ্যেও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী খন্দকার জহিরুল ইসলাম স্বপনের (টেলিফোন প্রতীক) এক কর্মীর দোকানপাটে গত শনিবার রাতে হামলা, ভাংচুর ও মালামাল লুট হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থী। অভিযোগে বলা হয়, টেলিফোন প্রতীকের ৬টি কেন্দ্রের পোস্টার, এজেন্ট পেপার, ভোটার স্লিপ ও ভোটার তালিকাসহ দোকানের মাল লুটপাট হয়। গাজীপুর সদর উপজেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। রংপুরের চার উপজেলায় ২৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সচিবের ব্রিফিং
ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি আশ্বস্ত করতে চাই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’ গতকাল দুপুরে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বে অনেকগুলো উপজেলায় নির্বাচন হওয়ায় আমরা পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দিতে পারিনি। এবার স্বল্প উপজেলায় নির্বাচন হওয়ায় প্রতি কেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
যেসব উপজেলায় ভোট
উপজেলাগুলো হচ্ছে-রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, বরগুনার তালতলী, টাঙ্গাইলের বাসাইল, গাজীপুর সদর, রাজবাড়ীর কালুখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কুমিল্লার আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ। সপ্তম ধাপে আরো ৭ উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে কমিশন।
