কাওছার আলী হাওলাদার,মাস্টার ট্রেইনার
ডিজিটাল কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন
ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
আমার ছাত্রাবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিকের একটি প্রাণিবিজ্ঞান ক্লাসে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক DNA মডেল বুঝতে গিয়ে বোর্ডে অনেক চিত্র ও তথ্য উপস্থাপনের পর আমার মত দুর্বল শিক্ষার্থীকে বোঝাতে না পেরে যে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ছিল তা আমি আজও উপলব্ধি করি। আমি নিজেও একজন প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, কিন্তু এখন আমি যখন ক্লাস শেষ করে বের হয়ে আসি তখন তৃপ্তির একটা দীর্ঘশ্বাস আমার ভিতর থেকে বের হয়। মনে হয় আমি আজ সফল কারণ আমার পরিকল্পিত শিখনফলের অনেকটাই আমি শিক্ষার্থীর দ্বারা অর্জন করাতে পেরেছি। আমার সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের জ্ঞান-গরিমার কাছে আমি আজও তুচ্ছ, কিন্তু ক্লাসরুমে আমার পাঠের বিষয় উপস্থাপনার কৌশল এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট বা আধুনিক টিচিং ও লার্নিং টুলস আমায় সফলতা এনে দিয়েছে শতভাগ। আমার মত এদেশের হাজার হাজার শিক্ষকগণ জীবিবিজ্ঞানের DNA অনুলিপন রেচন প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, পদার্থবিজ্ঞানের আলো, শব্দ, তরঙ্গ, স্পন্দন এবং রসায়নের পারমানবিক বিস্ফোরনের মত জটিল ও বিমূর্ত বিষয়কে খুব সহজেই বাস্তব ভিজুয়্যালাইজেশন করে শিক্ষার্থীদের বোধগম্য করে তুলতে পারে। আর এসব কারণেই কমছে শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার সংখ্যা এবং বাড়ছে ক্লাসরুমে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের গুরুত্ব।
ক্লাসরুমে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের গুরুত্ব
ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষক পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী আকর্ষণীয় ও
ফলপ্রসূ পাঠ দান করতে পারে।
শিক্ষক কেন্দ্রিক থেকে শিক্ষার্থী কেন্দ্রীক পাঠদান প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাঠের বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষার্থীদের
অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করানো যায়।
শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি জাগিয়ে তোলা যায় এবং শিখনের বিষয়বস্তু তাদের কাছে সহজ, আকর্ষণীয়, বোধগম্য ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলা যায়।
ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, ফলে শিখন উপভোগ্য হয়।
ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে একক কাজ, দলীয় কাজ এবং মূল্যায়ণ এর মাধ্যমে ক্লাসরুমেই শিক্ষার্থীদের পাঠের বিষয় বোঝানো সম্ভব হয় ফলে পড়াশুনাকে তাদের কাছে বাড়তি চাপ মনে হয় না।
ডিজিটাল কন্টেন্ট শিক্ষার্থীদের অনুধাবন, পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান, মূল্যায়ন ইত্যাদি
দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বাস্তবের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ সৃষ্টি হয় ফলে শিখন বাস্তবমুখী হয়।
দূর্বল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মিথস্ক্রিয়া ঘটানো সম্ভব হয় এতে শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায় এবং শিক্ষার্থী আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠে।
শিক্ষক অল্প পরিশ্রমে ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।
পাঠের বিষয়বস্তুতে ভিজুয়্যালাইজ করনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় মনে রাখা নিশ্চিত করে ফলে শিখন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মুখস্থ নির্ভরতা কমে আসে।
শিখনে বৈচিত্র আনয়ন সম্ভব হয় ফলে শিখন আকর্ষণীয় হয়।
বড় জিনিসকে ছোট এবং ছোট জিনিসকে বড় করে দেখানো, দ্রুত প্রক্রিয়াকে ধীর গতিতে এবং ধীর প্রক্রিয়াকে দ্রুত গতিতে দেখানো সম্ভব হয়। গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, পরমাণুর বিস্ফোরণ, মাইটোসিস, মিয়োসিস, DNA অনুলিপন ইত্যাদি কঠিন ও জটিল বিষয়কে সহজে উপস্থাপন করানো যায় এবং বোধগম্য করে তোলা হয়।
শিক্ষার্থীর অধিক সংখ্যক ইন্দ্রিয় ব্যবহার নিশ্চিত করে ফলে শিখন মনোবিজ্ঞান সম্পন্ন হয়।
ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে অধিক তথ্য, চিত্র, এনিমেশন, ভিডিও ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প মেধা, স্থুলবুদ্ধি, পাঠে ধীরগতি সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করানো যায়।
মতামত জানাতে ০১৭১৪৭০৫৭২৭,০১৭২০৫৭৭১৮০
