অর্থ সঙ্কটে দক্ষিণাঞ্চল কৃষি উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা

আপডেট : ১৯ মে ২০১৪, ২২:০৮
দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ জেলায় কৃষি উন্নয়নে গৃহীত দশবছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন ৫৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যার ৮১ ভাগ অর্থের সংস্থান হয়নি। তুলনামূলক অনগ্রসর অথচ সম্ভাবনাময় দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সার্বিক উন্নতির জন্য এ পরিকল্পনাটি ২০১৩ সালে গ্রহণ করা হয়। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যয় করা সম্ভব হবে মোট চাহিদার ১০ শতাংশ। মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ইউএনডিপি, বিশ্বব্যাংক, এডিপি, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে রবিবার আগারগাওস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে মহাপরিকল্পনার উপর এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিগণ এতে উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির জন্য এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ অঞ্চলের উন্নয়নে ৮৫টি উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও তাতে উন্নয়নসহযোগীদের অংশগ্রহণ সীমিত। কিছু প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলেও কিছু প্রকল্পে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন। আসছে বজেটের বরাদ্দেও এর প্রতিফলন থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ অঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে এ অঞ্চলে কৃষি উত্পাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। দক্ষিণাঞ্চলে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের এক-পঞ্চমাংশ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। কৃষি সচিব ড. এস এম নাজমুল ইসলাম, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি, জাপানের রাষ্ট্রদূত সিরো সাদোসিমা, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা ই কাইমস, এফএও প্রতিনিধি মাইক রবসন বক্তব্য রাখেন। বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিষয়টি স্থান পাবে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ক্রিষ্টিনা ই কাইমস। মহাপরিকল্পনাটিতে গোটা উপকূলীয় জেলাসমূহের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার পর্যালোচনা করে একটি সার্বিক কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। সেমিনারে জানানো হয়, অগ্রাধিকারভুক্ত খাত হিসাবে ফসল, মত্স ও প্রাণিসম্পদ, পুষ্টি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পোল্ডার ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি বাণিজ্য, কৃষি ঋণ, কৃষিখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়সমূহকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ১৪টি জেলাঃ- সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলায় কৃষি নির্ভর খাতসমূহের উন্নয়নের জন্য প্রণীত এ মহাপরিকল্পণাতে ২৬টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৮৫টি প্রযুক্তিকৌশল চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে প্রায় ৫৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বা ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন। অন্যদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সরকারের নিজস্ব অথায়ন রয়েছে ৮৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার যা কর্মসূচির ১০ শতাংশ।