স্টেডিয়াম নিরীক্ষণ এ সপ্তাহেই
দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্বকাপ। আর ‘বিগেস্ট শো অন আর্থের’ চাপ নিতে স্টেডিয়ামগুলো প্রস্তুত কিনা সেটা বল মাঠে গড়ানোর আগেই নিশ্চিত করতে চাইছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় আয়োজকদের সাথে নিয়ে চলতি সপ্তাহ থেকেই তারা শুরু করতে যাচ্ছেন স্টেডিয়াম নিরীক্ষণের কাজ। যদিও সাও পাওলোর একটি স্টেডিয়াম বাদে এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি অন্য কোন স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজই।
প্রথম ধাপে পরীক্ষা করা হবে সবচেয়ে সমস্যাসংকুল দু’টি স্টেডিয়াম পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুইবার দি অ্যারেনা পানটেনাল ও সাও পাওলোর স্টেডিয়াম ইতাকুয়েরোকে, যেখানে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। করিন্থিয়াস ও ফিগারেন্সের মধ্যকার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়ন্সশিপের ম্যাচ দিয়ে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়ে গেছে এই মাঠের। করিন্থিয়াসের এই মাঠেই আগামী ১২ তারিখ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি খেলবে ব্রাজিল। স্টেডিয়ামের আউটফিল্ডে কোন সমস্যা না থাকলেও মূল অবকাঠামোতে এখনও এখনও বেশ কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে বলেই জানায় স্টেডিয়ামের নির্মানকাজের সঙ্গে জড়িত থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। আর তাই ঝুকি এড়াতে কাল স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেয়া হয় ৪০ হাজার সমর্থককে। স্বাগতিক ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য সেখানে আরো ২০ হাজার অস্থায়ী আসন বসানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয় আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়ামটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত পরীক্ষামূলক ম্যাচগুলো সফলতার সঙ্গেই সম্পন্ন হবে। কোরিন্থিয়ান্স স্টেডিয়ামটি যে সেরা স্টেডিয়ামগুলোর একটি সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এর মাঠটিও সেরা মাঠগুলোর একটি।’
তবে তার কথার ঠিক উল্টোটাই বলছে প্রস্তুতিকালীন সময়ে আটজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি। গত বছর এই স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজের সময়েই ক্রেন ছিঁড়ে পড়ে দু’জন শ্রমিক মারা গিয়েছিল। ওই ঘটনায় স্টেডিয়ামটির একটি অংশেরও ক্ষতি সাধিত হয়। আর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই অংশের কাজ বন্ধ করার জন্য আদালত সতর্ক করে দিয়েছে। শুক্রবারই স্টেডিয়ামের কাজে নিয়োজিত নির্মাতা সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্টেডিয়ামটির ছাদ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা সম্ভব নয়।
এদিকে স্যান্টোস ও অ্যাথলেটিকো মিনোইরোর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পরীক্ষা করা হবে এরিনা পানটেনাল স্টেডিয়ামটির। অবশ্য এপ্রিলে এই ভেন্যুতে একটি আনুষ্ঠানিক ম্যাচ পরিচালিত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে মোট আসনের মাত্র অর্ধেক স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানকার নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়েছে।
এদিকে এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিউরিটিবায় অবস্থিত এরিনা ডি বাইক্সাদা স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ। আগামী বুধবার একটি প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে পরখ করে দেখা হবে স্টেডিয়ামটির প্রস্তুতি। আয়োজকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন ঠিকই। তবে বর্তমান ফলাফলে তারা কিছুটা স্বস্তিবোধও করছেন। এই স্টেডিয়ামটির আসন বসানোর কাজ এখনো বাকি রয়েছে। নির্মাণ কাজে ধারাবাহিক ধীরগতির কারণেই এমনটি ঘটেছে।
এদিকে গত শনিবার ব্রাসিলিয়ার এস্তাদিও নেসিওনাল ভেন্যুর পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেছে বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটি। গত বছর কনফেডারেশন কাপকে সামনে রেখে নির্মিত ৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে একটি হচ্ছে ওই স্টেডিয়াম। ফিফার মতে, অন্য ছয়টি স্টেডিয়ামের পরীক্ষা গত বছরই হয়ে গেছে। নির্মাণ কাজে বিলম্ব ছাড়া এগুলোর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।-বাসস/ওয়েবসাইট
