বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র প্রদর্শন নিয়ে ফের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। সমপ্রতি ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ চলচ্চিত্রটির সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র মেলে। এর পরপরই পরিচালক সমিতি ছাড়পত্র বাতিলের দাবি তুললে ছবিটি প্রদর্শনের ব্যাপারে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। বাংলাদেশের নির্মাতা অনন্য মামুন ও কলকাতার নির্মাতা অশোক পতি যৌথভাবে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
এ প্রসঙ্গে পরিচালক সমিতির সভাপতি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘ওরা কোনোভাবেই যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের নীতিমালা মেনে ছবিটি তৈরি করেনি। তাই আমরা এই ছবিটির সেন্সর বাতিলের দাবি তুলেছি। এ ব্যাপারে আমরা শিল্পী-কলাকুশলীরা সম্মিলিত ভাবেই এই দাবি তুলেছি। সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের আমরা লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেছি। কারণ, এই ছবিতে সমান ভাগে দুই দেশের শিল্পীরা অংশ নেয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়া কলকাতায় এই ছবির পোস্টারে আমাদের দেশের পরিচালকের নাম পর্যন্ত নেই। তার নাম দেয়া হয়েছে সহ-পরিচালক হিসেবে। এই অবস্থায় বিষয়টি আমরা অনৈতিক মনে করছি।’
এদিকে, ছবিটির প্রমোশন ও নির্মাণে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে বাংলাদেশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট। এই ছবির গান ও ট্রেইলর বিভিন্ন চ্যানেলেও প্রচার হয়েছে। কিন্তু শিল্পী সমিতি ও পরিচালক সমিতির দ্বন্দ্ব চলচ্চিত্রটিকে একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগর বলেন, ‘ছবিতে আমি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছি। এছাড়া ছবিতে বাংলাদেশের পাঁচজন শিল্পী অন্তর্ভুক্ত আছেন। আমার কাছে মনে হয়, বাংলা চলচ্চিত্রকে আরো বড় প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে হবে। এ জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। যে ছবি মাত্র দুটি হলেই চলে না, সেই ছবি বিদেশি হলেও সমস্যা নেই। অথচ ব্যবসা সফল ছবির ক্ষেত্রে আমরা যেন উঠে পড়ে লাগি, ছবিটি বন্ধ করার জন্য।’
ছবিটির বাংলাদেশের পরিচালক অনন্য মামুন বলেন, ‘আমি নীতিমালা মেনেই ছবি করেছি। হয়তো নায়ক বা মূল নায়িকা চরিত্রে কেউ নেই। কিন্তু মিশা সওদাগর, ডন, মেঘলাসহ দেশের শক্তিমান অভিনেতারা এই ছবিতে কাজ করেছে। এছাড়া আমি সেন্সর সার্টিফিকেট পাবার পরই ছবিটির প্রমোশন ও প্রদর্শনের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছি। ’
তিনি বলেন, ‘নীতিমালা প্রসঙ্গই যদি আসে তাহলে আমার প্রশ্ন এর আগে গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’ ছবিটি কোন নিয়মে প্রদর্শিত হয়েছিল। সেই ছবির অধিকাংশ শিল্পীই তো কলকাতার। আমার ছবিটি শতাধিক হল পেয়েছে বলেই কি এখন এত সংকট। আমি মনে করি এই ছবিটির মাধ্যমে আমাদের গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আরো উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দুই বাংলার একাধিক চলচ্চিত্রে একাধিক দেশীয় তারকা কাজ করছেন। গেল বছরের শেষ দিকে কলকাতার ‘আবর্ত’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের জয়া আহসান। এছাড়া ওপার বাংলার ‘পরিচয়ে’ কাজ করেছেন বাংলাদেশের নিপুন। বর্তমানে কলকাতার মহুয়া চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রখ্যাত অভিনেতা পরমব্রত’র বিপরীতে কাজ করছেন বাংলাদেশের মডেল-অভিনেত্রী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি। এছাড়া বর্তমানে বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রতের পরিচালনায় ‘যুদ্ধশিশু’ ছবিটি সারাদেশের মোট ১০টি সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিপীড়িত নারীদের নিয়ে তৈরি।
