অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে মোদীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৯ মে ২০১৪, ২৩:০৫
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদী যে কোনো সময় সরকার গঠন করতে পারেন। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। মোদীর মন্ত্রিসভা ছোট আকারের হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মোদীর বিজয় তার জন্য যেমন সৌভাগ্যের তেমনি জনগনের প্রতি আরো দায়বদ্ধতার। কারন নির্বাচনী প্রচারে তিনি দেশটির জনগনের কাছে বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের কাছে নানা অঙ্গিকার করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল দেশটির অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা। এই কাজটি পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে করাই মোদীর জন্য বড় চালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভারতের অর্ধেক জনসংখ্যার বয়স ২৫ বছরের নীচে। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আগামীর মোদী সরকারকে এক কোটি চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। এবিষয়টিতেই বেশি জোর দিয়েছেন মোদী। দেশটিতে প্রতি বছর এক কোটি লোক কাজের জন্য শহরে আসে। মোদী নির্বাচনী প্রচারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, একশত শহরকে উন্নত করা, আধুনিক প্রযুক্তির রেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উত্পাদন বৃদ্ধি করা গুরুত্ব পেয়েছিল। মোদীকে সামাজিক অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ভারতের ৪০কোটি নাগরিক চরম দারিদ্রসীমার নীচে বাস করে এবং ২১ কোটি ৭০ লাখ শিশু অপুষ্টির শিকার। মোদী মূলত উত্পাদন ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর আইন পরিবর্তনের ওপর বেশি জোর দিতে যাচ্ছেন। মোদীর আমলে প্রধানমন্ত্রীর অফিস শক্তিশালী হবে এবং এসব ইস্যু বেশি গুরুত্ব দেবে। ভারতে প্রতি বছর ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজন। অর্থাত্ শিল্প ক্ষেত্রের বিশাল বিস্তার ঘটাতে হবে। শিল্পে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে শ্রম আইন, ভূমি অধিগ্রহণ আইন এবং ভূমি ব্যবহারের দিকটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা যাতে এসব ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন না হন সেই বিষয়ে তাদের নিশ্চয়তা দিতে হবে মোদীকে। বিজেপি’র আদর্শিক সংগঠন বা তাদের পিতৃত্ব সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) ভারতের বড় ট্রেড ইউনিয়ন ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস) নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংগঠনটি শ্রম আইন সংশোধনের বিরোধিতা করে আসছে। সেক্ষেত্রে মোদীকে বড় ধরনের একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। মোদীর চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যমত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। ভারতের নিম্ন পর্যায়ে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার রয়েছে। একটা বিষয় লক্ষ্যনীয়। তাহলো থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করার জন্যও পুলিশকে অর্থ দিতে হয় সাধারন জনগনকে। অর্থাত্ এতে সহজেই বোঝা যায়, দেশটিতে জনগন তাদের আকাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। কিন্তু মোদীকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে যদি তিনি তার নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গিকার ‘সুদিন’ আনতে চান। আর সুশাসনের অর্থ দাঁড়ায়, সরকার হবে নাগরিকসুলভ এবং সেবামূলক। এই কাজটি করতে মোদীকে সংস্কার করতে হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তাহলেই একটা দায়িত্বশীল এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে বলা যতোটা সহজ কাজটি করা ততোটা সহজ হবে না। মোদীর ওপর আরএসএস’ এবং কিছু কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ একটা চাপ থাকবে। আরএসএস তাদের ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। আর এই ইশতেহারের অন্যতম একটি দিক হলো, ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এর মধ্যে রয়েছে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মান এবং সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ কাঁটাছেড়া করা। এই অনুচ্ছেদে জম্মু এবং কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপি দাবি করেছে, সরকারে আরএসএস’র কোনো ভূমিকা থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইত্তেফাককে জানিয়েছে, মোদী একজন বাস্তববাদী মানুষ। তিনি এর আগে চার চারবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মূল কাজ হবে ভারতকে আরো আধুনিক করা। মোদী তার নির্বাচনী প্রচারে রাম মন্দির নির্মানের বিষয়ে জোর দেননি। তিনি জোর দিয়েছিলেন উন্নয়নের ওপর।