নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, রিমান্ডে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। যা তদন্তের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। এসব তথ্য এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এদিকে নূর হোসেনের দুই সহযোগী শিপন ও আতিককে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, র্যাবের সাবেক তিনজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। তিনি বলেন, এ মামলা নিয়ে কোন ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করা হলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিরাপদ স্থানে রেখে রিমান্ডের আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে কেউ অসুস্থ হলে তাকে চিকিত্সা দেয়ার বিধান রয়েছে। পুলিশ সেভাবেই ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। তবে দুপুরে পুলিশ সুপারের বক্তব্যের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. দুলাল চন্দ্র চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, গত ১৭ মে সকালে জেলা পুলিশ সুপার আমাদের কাছে চিঠি দিয়ে ডাক্তার চেয়েছিলেন। সেদিনই দুইজন ডাক্তার প্রেরণ করা হয় দুইজন আসামীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে। কিন্তু সেদিন বিকেলে মিডিয়ার মাধ্যমে দুইজনকে রিমান্ডে নেয়ার খবর জানতে পেরে ডাক্তার দু’জনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কারণ রিমান্ডের আসামিকে চিকিত্সা দেয়ার কোন বিধান নেই। এই কারণে ডাক্তার দু’জনকে আর পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, র্যাব-১১ এর সাবেক কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ ও মেজর আরিফ হোসেনের ৫ দিনের রিমান্ডের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। আর র্যাব-১১ এর স্পেশাল ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানীর সাবেক ইনচার্জ লে. কমান্ডার এম এম রানার ৭ দিনের রিমান্ডের গতকাল ছিল প্রথম দিন। রিমান্ডের পর তিনজনকে মাসদাইরে জেলা পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারী টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
নূর হোসেনের দুই সহযোগী রিমান্ডে
রবিবার রাতে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের দুই সহযোগী শিপন ও আতিককে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল বিকেলে তাদেরকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেয়া নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শিপন ওরফে শ্যূটার শিপন ও আতিক কেরানীগঞ্জের আটি এলাকায় নূর হোসেনের মাদক ব্যবসা দেখভাল করতো বলে জানা গেছে।
