বাংলাদেশের প্রথমসারির একজন গল্পকার, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। পেশাগত জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। শিক্ষকতার পাশাপাশি একাধিক গল্প, উপন্যাস ছাড়াও লিখেছেন প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার এবং কাগজ সাহিত্য পুরস্কার। ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
জানাচ্ছেন— সাইদুর রহমান খান
আমার প্রিয় শিক্ষক
আমার প্রিয় শিক্ষকদের মধ্যে একজন হলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ছিলেন আমার অনুপ্রেরণার একটি অংশ। তিনি পড়াতেন অত্যন্ত যত্ন নিয়ে এবং একই সাথে আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করতেন। তার চিন্তা-ভাবনায় সমাজ এবং মানুষ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তার কাছ থেকে একটা মানবিক মূল্যবোধ নেয়ার চেষ্টা ছিল সব সময়ই। এছাড়াও যারা আমার মনে দাগ কেটেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আহসানুল হক, রাজিয়া খান আমিন, মুনির চৌধুরী, ড. জি সি দেব প্রমুখ।
স্কুল জীবনের স্মৃতি
স্কুল জীবনে আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন মহিউদ্দিন স্যার। খুব ধার্মিক ছিলেন। ক্লাসে এসেই সবাইকে বলতেন একটি ভাল ও একটি খারাপ কাজের তালিকা প্রস্তুত করতে। স্বভাবতই ভাল কাজের তালিকাটা সব সময়ই ছোট হতো এবং খারাপ কাজেরটা বড়। এরপর তিনি বোঝাতেন কোনটা করা উচিত আর কোনটা অনুচিত। তখন আমরা ভাবতাম যে তিনি মজা করার জন্যই এইসব করছেন কিন্তু তিনি যে আমাদের নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার জন্য এগুলো করতেন তা তখন বুঝতে না পারলেও এখন ঠিকই বুঝি।
আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক বন্ধু ছিল আব্দুল্লাহ নামে। খুব মুখচোরা ছেলে ছিল। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা সবাই মিলে তাকে জোর করে মিছিলে নিয়ে যাই। যদিও সে কোন রাজনীতি করত না কিন্তু ভাল গীটার বাজাতো। মিছিলে গিয়ে আমরা সবাই খুব ভয় পাচ্ছি। পুলিশ চারিদিকে জলকামান ছুঁড়ছে, সবাই আতঙ্কে আছে গুলিও ছুঁড়বে কীনা। এমন সময় আব্দুল্লাহ গীটার বাজাতে বাজাতে গান গাইতে শুরু করল ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা’। এরপর মিনিট খানেকের ভিতর আন্দোলনের চেহারাই পালটে গেল। ওর গানে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সদলবলে এগিয়ে গেলাম।
শিক্ষার্থীদের বলছি...
আমাদের সময়ে আমরা খুব বই পড়তাম অথচ এখন বই পড়ার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। এখন বইয়ের জায়গা দখল করে নিয়েছে দৃশ্যমাধ্যম। আমার মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনাটা খুবই জরুরি। কারণ না পড়লে শুধুমাত্র উপরিতলেই ঘোরাঘুরি করা সম্ভব অথচ শিক্ষার্থীদের যেতে হবে গভীর থেকে গভীরে আর সেজন্য চাই প্রচুর পড়াশোনা। এটার কোনই বিকল্প নেই।
