বিস্ময় বালিকা মারকো

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২০:২১
কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর পরম বিস্ময়কর এক বালিকা মেসিডোনিয়ার মারকো কালাসান। মাত্র ৮ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে এমসিএসএ কম্পিউটার সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরের যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। এর এক বছর পর তিনি সর্বকনিষ্ঠ কম্পিউটার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারের এমসিএসএ সার্টিফিকেট অর্জন করেন। বর্তমান ১৪ বছর বয়সী এই বালিকা ১২ মাইক্রোসফট সার্টিফিকেট অর্জনকারী। তবে ৮ বছর বয়সেই কিন্তু তার প্রথম পুরস্কার প্রাপ্তি নয়! তার প্রথম পুরস্কার প্রাপ্তি মাত্র ৬ বছর বয়সে মাইক্রোসফটের কাছ থেকে। মাইক্রোসফটের এক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে ডিভিডি এবং গেমস উপহার পান! কিন্তু কেউ যদি তার এতোসব অর্জনের জন্য প্রশংসা করে, সে এসবের ব্যাপারে তেমন আগ্রহী নয় বলে সোজা জানিয়ে দেন। মারকোর পদার্থ এবং গণিত বিষয়ে খুবই আগ্রহ। মাত্র ২ বছর বয়স থেকে সে লিখতে এবং পড়তে শিখে ফেলে। ৪ বছর বয়স থেকে অনর্গল ইংলিশে কথা বলতে শেখে মারকো। মারকো তার প্রথম ব্যবহূত কম্পিউটার সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, প্রায় ৩ বছর বয়স থেকেই আমি কম্পিউটারের দক্ষতা অর্জন করে ফেলি। প্রথমে আমি উইন্ডোজকে পার্সোনালাইজিং এবং ইন্সটল করা শিখি। এরপর ওয়ার্কস্টেশনের সাথে কম্পিউটারের সংযোগ এবং সার্ভার প্রভৃতি কাজ শুরু করি। মারকো যখন প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রী, তখন তিনি ৮ম থেকে ১১তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বেসিক কম্পিউটার শিখাতেন! এরই মধ্যে তিনটি ভাষা তার নখদর্পণে, আরেকটি ভাষাও শিখছেন। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মেসিডোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি আইটি ল্যাব উপহার দিয়েছেন। এখানে তিনি তার ভবিষ্যত্ প্রোজেক্টগুলো নিয়ে কাজ করবেন। ২০১০ সালে মারকো একটি বই লেখেন। উইন্ডোজ ৭ এর ইন্সটলেশন নিয়ে এই বইয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেন তিনি। বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩০৫! মেসিডোনিয়া সরকার নিজস্ব উদ্যোগে বইটি ছাপানোর ব্যবস্থা করে এবং সকল স্কুলে বইটি বিনামূল্যে বিতরণ করে। মারকো তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, আমি কম্পিউটারের সহজ ব্যবহার নিয়ে সকলের উপযোগী কিছু বই লিখতে চাই। যাতে করে সকলের মাঝে কম্পিউটারের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে।