মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ সব ধরনের পণ্য আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। একইসময়ে ঋণপত্র নিষ্পত্তির হার বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গত মার্চ মাসে ৩৬২ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৪৪ কোটি ২১ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।
পণ্য আমদানিতে ২০১০-১১ অর্থবছরে এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এরপর থেকে আমদানিতে খরা শুরু হয়। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকেই আমদানির অচলবস্থা কাটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে অর্থনীতিতে গতি ফেরার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গেল মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্য পণ্যগুলোর মধ্যে চাল আমদানির জন্য ছয় কোটি ২৯ লাখ টাকার এলসি খোলা হয়েছে। আর এমাসে নিষ্পত্তি হয়েছে পাঁচ কোটি ৪১ লাখ ডলারের। একইভাবে গম আমদানিতে পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের এলসি খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে সাত কোটি ৪৭ লাখ ডলারের। চিনি আমদানির জন্য সাত কোটি ৬৫ লাখ ডলারের এলসি খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে চার কোটি ৩৮ লাখ।
আলোচ্য সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার আর নিষ্পত্তি হয়েছে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। পোশাক শিল্পের ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়েছে ৫৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার ও নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে ৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার আর নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
