অর্থ আর অপরাধ এবারের লোকসভায় আর্শীবাদ

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২২:০১
লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বেশ কিছু রেকর্ডের মধ্যে এবার হতে চলেছে আরো একটি নতুন রেকর্ড। অর্থ আর অপরাধই যেন আশীর্বাদ হয়ে ঠাঁই পাচ্ছে ষোড়শ লোকসভায়। গত দুইবারের তুলনায় লোকসভায় এবারই সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা রয়েছে এমন এমপি’র সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকছে। তাছাড়া, ২০০৪ সালের পর এবারই সবচেয়ে ধনী সংসদ সদস্যরা আসছেন লোকসভায়। ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর) বলছে, লোকসভার নতুন এমপি’দের ৩৪ শতাংশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ মামলা রয়েছে। —বিডিনিউজ নির্বাচন কমিশনে দেয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানায়, ২০০৯ সালের লোকসভায় ৩০ শতাংশ এমপি’র বিরুদ্ধে এবং ২০০৪ সালে ২৪ শতাংশ এমপি’র বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল। ২০০৪ সাল থেকেই প্রার্থীদের এ ধরনের হলফনামা জমা দেয়ার প্রচলন শুরু হয়। বড় দলগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) চার এমপি’র মধ্যে সবার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে। এছাড়া, শিব সেনার ১৮ এমপি’র মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে একই অভিযোগ। ‘ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি’র পাঁচ এমপি’র মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা আছে। বিজেপি’র নবীন এমপি’দের এক তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি কম। ১৮ শতাংশ এবং ৭ শতাংশ। এডিআর এর তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন দলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন পরিচিতি থাকা প্রার্থীর তুলনায় মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের এমপি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে দ্বিগুণেরও বেশি। মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে অপরাধকাণ্ডে জড়িতরা এমপি হয়েছেন বেশি। এমপি’দের ৮২ শতাংশই এক কোটি রুপিরও বেশি অর্থ-বিত্তের মালিক। যেখানে ২০০৯ সালে কোটিপতি ছিলেন মাত্র ৫৮ শতাংশ এমপি এবং ২০০৪ সালে ৩০ শতাংশ এমপি। ফলে অর্থের দিক থেকেও সবচে’ ধনী এমপিদের লোকসভা হচ্ছে এবার। অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি দল ‘তেলেগু দেশম পার্টি’ (টিডিপি), ‘তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি’ (টিআরএস) এবং ‘যুব, শ্রমিক ও কৃষক কংগ্রেস পার্টি’র (ওয়াইএসআরসিপি) এমপিরা সবচেয়ে বেশি ধনী। গড়ে হিসাব করলে দেখা যায়, এই তিন দলের প্রত্যেক এমপি’র রয়েছে ৫০ কোটিরও বেশি রুপি।