৩০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সাভার উপজেলার সেনওয়ালিয়া মৌজার একটি আবাসন প্রকল্পে সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে ওই প্রকল্পের নিরাপত্তা কর্মীসহ আহত হয়েছেন ২০ জন। সন্ত্রাসীরা প্রকল্পের অফিস ব্যাপক ভাংচুরসহ টেলিভিশন, ল্যাপটপ, নিরাপত্তারক্ষীদের ১০ টি ওয়ারলেস সেট ও নগদ অর্থসহ লুটপাট করেছে প্রায় ৯ লক্ষাধিক টাকার মালামাল। এ ঘটনায় ওই প্রকল্পের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা দুলাল কবিরাজ বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মঙ্গলবার মামলা করেছেন। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ ওরফে জাপানি ফারুককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা হচ্ছেন, কুরগাঁও এলাকার শওকত আলীর পুত্র সোহাগ, চারিগাঁওয়ের জাহাঙ্গীরের পুত্র মোঃ বাবুল, জহিরুল হক জহির, শাহাদাত্ মজুমদার, রফিকুল ইসলাম রফিক, এমএ কালাম, মাহফুজ এ এসএম জিহাদুজ্জামান, মহিউদ্দিন কন্ট্রাকটর।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিগত কিছুদিন যাবত জাপানি ফারুক, সোহাগ, রফিক, কালামের নেতৃত্বে একদল সস্ত্রাসী সেনওয়ালিয়া মৌজায় অবস্থিত ‘নোফেল রিয়েল এস্টেট লিঃ’ নামক আবাসন কোম্পানির কাছে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গতকাল দুপুরে আসামিদের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জোরপূর্বক প্রকল্পে প্রবেশ করে। এ সময় মূল গেটে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা সাথে সাথে রড, হকিস্টিক ও বন্দুকের বাট দিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে এবং গুলিবর্ষণ করে আতংক সৃষ্টি করে। এতে নিরাপত্তা কর্মী দুলাল জসিম ও মনিরসহ আহত হন ২০ জন। আহত ৩ জনকে আশংকাজনক আবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নোফেল রিয়েল এস্টেট এর এমডি আহমেদ করিম অভিযোগ করে বলেন, জাপানি ফারুক ও তার বাহিনী তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে গতকাল প্রকল্পে গোলাগুলি, মারধর, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাপানি ফারুকের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।
এ ব্যাপারে ফারুক আহমেদ ওরফে জাপানি ফারুকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন বলে জানান।
