কুমিল্লায় পিতার হাতে শিশু খুন

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২২:৫৮
কুমিল্লায় তাহসিন ইসলাম নামের ৮ মাসের এক শিশুকে গলাটিপে হত্যা করেছে পাষণ্ড পিতা। এছাড়া হারিজা বেগম নামে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করে হত্যা ও নিলুফা বেগম নামে আরো এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, চান্দিনা উপজেলার কৈকরি গ্রামের শাকিল মিয়া (৩২) বুড়িচংয়ের শাহাদৌলতপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল। গত সোমবার শাকিল তার ৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান তাহসিন ইসলামকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করে। শিশুটির মা সোনিয়া আক্তার জানান, ‘সোমবার সন্ধ্যায় তার স্বামী ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাহসিনকে নিয়ে যায়। আধা ঘণ্টা পর শাকিল বাড়িতে ফিরে বলে বাচ্চাকে চেম্বারে রেখে এসেছি। তুমিও আমার সাথে ওখানে চলো। পরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে বাচ্চার মরদেহ দেখতে পাই। দেড় বছর আগেও ২ মাস বয়সী তাদের প্রথম সন্তানকে একইভাবে হত্যা করলে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে এর মীমাংসা হয়।’ তাহসিনের মা মঙ্গলবার বিকালে শাকিলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শাকিলকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এদিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মনগোছ গ্রামের প্রবাসী সাইদুল ইসলামের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী হারিজা বেগমকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার থানায় মামলা হয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন হারিজা বেগমকে (৩০) প্রায়ই নির্যাতন করতো। সোমবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হলে কুমিল্লা নেয়ার পথে তিনি মারা যান। গতকাল সকালে পুলিশ স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা রেহান উদ্দিন গতকাল বিকালে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চাচা শ্বশুর বাচ্চু মিয়া, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, পুত্র শাহাদাত হোসেন ও বিল্লাল হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জের ঢালকরপাড়া থেকে গতকাল পুলিশ নিলুফা বেগম (৪০) নামে এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে। ঐদিন দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জের ঢালকরপাড়া মরা নদীর পাড়ে নিলুফার লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রহমত আহম্মদকে (৫২) আটক করে। ঐ মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।