ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিত্সক ও নার্সদের মধ্যকার অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেট নার্সিং কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলেও সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা হল ত্যাগ করেননি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা হল ত্যাগ করবেন না।
গত রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালের কয়েকজন ইন্টার্ন (শিক্ষানবীশ) চিকিত্সক সহকর্মী নার্সদের পিটিয়ে আহত করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে সোম ও মঙ্গলবার তারা কালো ব্যাজ ধারণ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী ইত্তেফাককে জানান, সোমবার কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন ৩ দিনের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু এখন তদন্তের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৭ দিন করা হয়েছে। তাছাড়া হল থেকে আমাদের তাড়িয়ে দিয়ে তদন্ত সুষ্ঠু হতে পারে না মন্তব্য করে তারা বলেন, অপর পক্ষকে তো হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় আমরাও হল ত্যাগ করতে পারি না।
পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের বিভিন্ন নার্সিং কলেজ তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক তন্ময় ভট্টচার্য জানান, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে নার্সিং কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে একজন অধ্যাপককে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত টিমের প্রধান প্রফেসর ডা. ডি. হাসান। কমিটি গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে। হাসপাতালের চিকিত্সা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
‘তারা মানসিকভাবে অসুস্থ’
এদিকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা সংবাদ সম্মেলন করে ঐ দিনের ঘটনায় নার্সদের দোষারোপ করেছেন। গতকাল দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রোগীদের সেবা না দিয়ে ডিউটিরত অবস্থায় গল্প করা, ডাক্তারের সাথে দুর্ব্যবহার ও অশালীন গালিগালাজ করা, মিডিয়ায় ডাক্তারদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করায় আমরা মনে করি, তারা (নার্সরা) মানসিকভাবে অসুস্থ ও পেশার যোগ্য নয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ইন্টার্ন চিকিত্সক পরিষদের সভাপতি ডা.জয় সাহা।
