প্রশ্নটা ছিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের ২৪ দিন গত হচ্ছে। পুলিশ এখনও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার করতে পারল না কেন ? জবাবে মামলা তদন্তে সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোন প্রশ্নেরই জবাব দেব না। কাকে ধরেছি, কাকে ধরতে পারিনি তা নিয়েও কোন মন্তব্য করতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, তদন্ত তার নিজ গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে। কোন রকম সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ নেই। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
এ শিগগিরইটা কত দিন ? ধরেন ২/৪ বা ৪/৫ দিন , হয়তো একটু বেশি। গত ২৭ এপ্রিল অপহূত হন প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি পরের দিন ২৭ এপ্রিল নূর হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা করেন। আর ঘটনার চারদিন পর অপহূত সাত জনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু মামলার এজাহারভুক্ত কোন আসামিকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে এর মধ্যে মামলার তিন নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হাসমত আলী হাসুকে বেনাপোল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করে। ২৫ আসামির মধ্যে বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ও মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের গাড়ি চালক মহিবুল্লাহ ও সহযোগী রফিকুল ইসলাম রতন।
অপরদিকে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কালো ব্যাজ ধারণ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদ হোসেন ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান প্রকৃত আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ২৪ দিন গত হতে চললো, এখনো পুলিশ এজারহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রধান আসামি নূর হোসেনের সহযোগীরা এখনও এলাকায় বিচরণ ও চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। তারা নূর হোসেনের মাছের খাবারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালিয়ে তার দায় আমাদের ওপর চাপাবার চেষ্টা করছে ।
উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তারেক সাঈদ
গ্রেফতারকৃত র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এজন্য তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। ঐ ওষুধের মাত্রা ঠিক আছে কী না সেটা জানতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একজনকে পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. দুলাল চন্দ্র চৌধুরী জানান, এসপির লিখিত আবেদনের প্রেক্ষাপটে গতকাল সকালে মেডিক্যাল অফিসার প্রবীর কুমারকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা তিনজনের ওষুধ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ওষুধ পরীক্ষা করে ডাক্তার আবার চলে এসেছে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিউদ্দিন জানিয়েছিলেন, রিমান্ডে থাকা আসামিদের ওষুধ পরীক্ষা কিংবা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাক্তার দেখানোর বিধান আছে। কারণ রিমান্ডের আগে আসামিদের যেভাবে আদালত থেকে আনা হয়েছে সেভাবেই রিমান্ড শেষে আদালত হস্তান্তর করতে হবে।
সূত্র জানায়, রিমান্ডে থাকা র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, এম এম রানা ও মো: আরিফকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন আর আই আর ভবনের দোতলার তিনটি আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে তারেক সাঈদ মোহাম্মদ উচ্চরক্ত চাপে ভুগছেন। কখনো তার প্রেসার বাড়ছে আবার কখনো কমছে। তবে এম এম রানা ও মো: আরিফের অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
নূর হোসেনের বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্র হত্যা মামলা
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকাতে টিপু সুলতান নামের এক স্কুল ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে অভিযুক্ত করে একটি পৃথক মামলা হয়েছে। মামলায় নূর হোসেনের আরো পাঁচজন সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা না দেয়ায় এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার প্রায় ৮ বছর পর নিহতের বাবা কাজী আক্তার হোসেন বাদি হয়ে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এইচ এম শফিকুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে মামলাটি গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিরা হলো - নূর হোসেনের সহযোগী রফিকুল ইসলাম রতন (গ্রেপ্তারকৃত) আমিনুল, রোস্তম আলী, জাকির, সুন্দর আলী জামান। মামলায় ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।
মামলায় বলা হয়, ২০০৬ সালের ২০ আগস্ট আসামিরা বাদি কাজী আক্তার হোসেনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় মহিউদ্দিন আদর্শ কিন্ডার গার্টেনের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র টিপু সুলতানকে ওই বছরের ২৬ আগস্ট বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়।
