২৫ পেরিয়ে ইত্যাদি

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২০:০৭
শুধু এদেশেই নয়, সারা বিশ্বের জরিপেও যদি রাখা হয় তবুও অনন্য রেকর্ডেই থাকবে ‘ইত্যাদি’। টানা দুই যুগ পেরিয়ে দর্শক জনপ্রিয়তা বা চাহিদার শীর্ষে থাকার রেকর্ড বিশ্বে আর কারো নেই। অনুষ্ঠানের নিজস্ব গুণেই এটি আজ শুধু একটি ম্যাগাজিন নয়, ‘ইত্যাদি’ সমাজের সঙ্গতি-অসঙ্গতি তুলে ধরার অন্যতম স্লোগানের নাম। যার আকণ্ঠ সুধা পান করিয়ে চলেছেন নিরন্তর এক গুণীজন। তিনি হানিফ সংকেত। ‘ইত্যাদি’র সফল পদচারণায় ২৫ বছর পেরুনোর খানিক গল্পই তুলে ধরেছেন তানভীর তারেক দৃশ্য :১ গত বছরের নভেম্বরের অনুষ্ঠানে দেশসেরা টিভি অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে দেখানোর জন্য পুরো ইউনিট গেল লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বাড়িতে। যিনি ২০০৫-এর ৬ জানুয়ারি দুর্ঘটনা কবলিত হন। একই সাথে এই দুঃসংবাদের সাথে নিষ্ঠুর নিয়মে তিনি তার চাকরিও হারান। ‘ইত্যাদি’ ইউনিট যাওয়ার পর তাই মহিউদ্দিন বিরক্ত, ‘এইসব কইরা কিসসু হবে না। অনেক চ্যানেলে বলেছি। কোনো কাজেই আসে নাই।’ অতঃপর ‘ইত্যাদি’ টিমের কথা শুনে শেষ ভরসায় তিনি কথা বললেন। ফলাফল :মহিউদ্দিনের চোখে আনন্দ অশ্রু ফুটেছিল। প্রতিবেদনটি প্রচারের পর তিনি তার খোয়ানো চাকরি ফিরে পেয়েছিলেন। নতুনভাবে প্রাণ পেয়েছিল একটা জীবন, একটা পরিবার, একটা সংসার। দৃশ্য :২ দেশবরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত থাকেন ধানমন্ডিতে। অন্যদিকে ফাগুন অডিও ভিশনের অফিস মিরপুরে। অন্য কোনো আউটডোর শুটিং বা জরুরি মিটিং না থাকলে তিনি সকাল থেকে নিজ অফিসেই সময় কাটান। এক সকালে তেমনি অফিসে ঢুকতেই দেখলেন এক বৃদ্ধা ও যুবক (বৃদ্ধার ছেলে) দাঁড়িয়ে। হানিফ সংকেতকে দেখেই ছেলেটি তার পা জড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। সেই বৃদ্ধা হানিফ সংকেতকে কাছে ডেকে মাথায় হাত বুলালেন। তিনিও অঝর ধারায় কাঁদলেন। হানিফ সংকেত এ পরিস্থিতিতে হতবাক। কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। ‘ইত্যাদি’র সহকারী জানালেন, তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এসেছেন কিছুদিন আগে। ‘ইত্যাদি’তে প্রচারিত বাগেরহাট মোড়েলগঞ্জ থানার বীরেন্দ্রনাথ মজুমদারের মায়ের প্রতি অকৃত্রিম অনুরাগ দেখে নিজের বিবেকের দংশনে এই ছেলে তার মাকে বৃদ্ধাশ্রম থেকে বাসায় নিয়ে এসেছেন। মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এ কথা শুনে কেঁদে ফেললেন নির্মাতা হানিফ সংকেত নিজেও। দৃশ্য :৩ ‘আর ইউ মিস্টার হানিফ সংকেত?’ ফোনের ওপাশ থেকে ভিনদেশি এক কণ্ঠ। ফরাসি ধাঁচের ইংরেজি শব্দ তার পরিচিত। সেই সূত্রেই কণ্ঠ শুনেই বুঝে ফেলেন কলটা এসেছে ফ্রান্স থেকে। ফ্রান্সের খ্যাতনামা টিভি অনুষ্ঠান ‘আর্তে’ বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে। সেই সূত্রেই টিভি মিডিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশে জরিপ করে তারা পেয়েছেন হানিফ সংকেতকে। অতঃপর আর্তের ডকুমেন্টারিতে তিনি অংশ নিলেন। ‘ইত্যাদি’র এই ২৫ বছর পেরিয়ে হানিফ সংকেত বলেন, ‘দর্শকরাই আমার পুরস্কার। তারাই আমাকে আজকের অবস্থানে এনেছেন। তাদের জন্যই এই ‘ইত্যাদি’, তাদের জন্যই এই একুশে পদক থেকে শুরু করে সবকিছু।’ দৃশ্য :৪ এটিএন বাংলা থেকে একবার প্রস্তাব এসেছিল হানিফ সংকেতের কাছে। তার একটি একক ইন্টারভিউ এক্সক্লুসিভলি প্রচারের জন্য। যথারীতি তিনি রাজি হননি। এদেশে দু’একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ করেই অনেকে সবগুলো চ্যানেলে মুখ দেখানোর জন্য অস্থির হয়ে যান। সেদিক থেকে হানিফ সংকেত আবারও ব্যতিক্রম। তবে মজার ব্যাপার হলো এটিএন বাংলার মার্কেটিং টিম হানিফ সংকেতের এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউয়ের জন্য স্পন্সরশিপ খোঁজেন তাকে না জানিয়েই। মাত্র ৭ দিনে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা থেকে তার এক ঘণ্টা স্ক্রিনিংয়ের স্পন্সর মানির প্রস্তাব এসেছে ৫ কোটি টাকা। যা বিটিভি ও স্যাটেলাইটের ইতিহাসে রেকর্ড। কিন্তু টিভিতে এভাবে আপাতত ইন্টারভিউ দেবেন না বলে সেটাতেও রাজি হননি তিনি। এ ক স্লি প ই ত্যা দি বাংলাদেশে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত প্রথম অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। ‘ইত্যাদি’ বাংলাদেশের প্রথম প্যাকেজ অনুষ্ঠান। ‘ইত্যাদি’ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মূল্যের স্পন্সরড অনুষ্ঠান। ‘ইত্যাদি’র বিভিন্ন পর্ব সিএনএন ও গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডে দেখানো হয়েছে। সিএনএন ইত্যাদির তিনটি পর্ব প্রদর্শন করে। গান চিত্রায়ণে তারকা মডেলদের ইন্ট্রোডিউজ করে ‘ইত্যাদি’। আক্ষরিক অর্থে মিউজিক ভিডিওর রূপকার। ‘ইত্যাদি’ কৌতুকের প্রচলিত ধারাকে ভেঙে নাট্যাংশের মাধ্যমে উপস্থাপন করে নতুন ধারা সৃষ্টি করে। ‘ইত্যাদি’তেই প্রথম দলীয়ভাবে আধুনিক নৃত্যের প্রচলন শুরু হয়। টিভি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। ‘ইত্যাদি’ই একমাত্র ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান যেটি দেশের জাতীয় এয়ার লাইন্স, বিমানে প্রথম প্রচার করে। ফিরে দেখা ২৫ বছর এ যাবত ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই অনুষ্ঠান শুরু করেছেন। সেগুলো হয়তো শুরু হয়েছে যত দ্রুততায়, শেষও হয়েছে তার চেয়ে বেশি গতিতে। এই অবস্থায় ‘ইত্যাদি’র স্পন্সরমানি থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান রসদ যা আছে তাতে সপ্তাহে একটা কেন প্রতিদিনও প্রচার সম্ভব। সেদিকে অর্থের লোভটা চিরকালীন রিসাইকেল বিনে রেখেই হানিফ সংকেত ‘ইত্যাদি’ তৈরি করেছেন নিষ্ঠার সাথে। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা হানিফ সংকেত জানালেন, ‘একবার এক বড় শিল্পপতি আমার অফিসে এসেছেন। তিনি ‘ইত্যাদি’ স্পন্সর করতে চান। এবং প্রতিপর্বের জন্য আমি যা চাইব তাই। আমাকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে দিলেন। হানিফ সংকেত বলেন, ‘আমি বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখলাম। শিল্পরুচি থেকে অনেকখানি দূরের এই মানুষটি। তিনি বেশ গলা উঁচিয়ে বললেন, ‘প্রতি পর্বে ১ কোটি টাকা দেবো আমি আপনাকে। এটা স্পন্সর মানি হিসেবেই গিনেজ রেকর্ড গড়বে।’ আমি হাসতে হাসতে বললাম, আমার ‘ইত্যাদি’র একাধিক সেগমেন্ট এমনিতেই গিনেজ রেকর্ডে স্থান পেয়ে বসে আছে। এই রেকর্ডটি না হলেও চলবে। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, ‘কেন দেবেন আপনি এত টাকা?’ চা খেলাম একসাথে। তার পরিকল্পনা শুনলাম। তিনি আমার স্পন্সর না পেতেই আমাকে কিছু আইডিয়া শোনালেন। যাতে তিনি আমার অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তাকে নির্ভর করে তার কিছু ফায়দা হাসিল করতে পারেন। এরপর খানিক গলা নামিয়ে বললেন, ‘বড় ভাই, দু-চারটা চ্যানেলে সারাদিন অনুষ্ঠান চালানো আর আপনার ইত্যাদির ৫ মিনিট এক কথা! তাই আপনার কাছে আসছি। ব্ল্যাঙ্ক চেকটা রাখেন।’ আমি তার প্রশংসা মাথা পেতে নিলাম। বিনয়ের সাথে বললাম, আপনি শুধু একা নন। কোনো রাজনৈতিক দল বা কোনো মহীরুহই আমার ‘ইত্যাদি’কে ব্যক্তিস্বার্থে নিতে পারেনি বলেই এই অনুষ্ঠানটি আজ সকলের।’ এমন প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত কর্পোরেট লোভকে সংবরণ করার পরই একটি ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের জন্ম হয়। ‘ইত্যাদি’র বাইরে তাই সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা হলো অনুষ্ঠানের প্রাণপুরুষ হানিফ সংকেতের সাথে - আজকাল যে হারে চ্যানেলে আত্মপ্রচার হয়। চ্যানেলগুলো নিজেদের জন্মদিনেও সারাবিশ্বকে জানিয়ে দেয় যেন এটা একটা বিশাল ঘটনা। চ্যানেলগুলো নিজেদের জন্মদিন পালনেই ব্যস্ত থাকে। প্রচলিত এই ধারার বাইরে কেন ‘ইত্যাদি’? আমি আপনাকে উল্টো প্রশ্ন করতে চাই। আপনি কি কোনোদিন বিবিসির সিইও বা সিএনএন-এর মালিক বা ডিরেক্টরকে দেখেছেন। তাদের নাম জানেন? আমাদের অধিকাংশ চ্যানেলগুলোই মালিকেরা এতটা আত্মপ্রচারে মগ্ন থাকে যেন লাইসেন্সটা দেওয়া হয়েছে তাদের জন্যই। তিনিই তখন সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রক হয়ে যান। তেমনিভাবে বিশ্বের কোথায় মিডিয়া হাউজের জন্মদিন পালনের ঘটনা নেই। সেদিক থেকে বাংলাদেশের মিডিয়া হাউজে একমাত্র ইত্তেফাক ছাড়া সকলেই নিজেদের জন্মদিনে ঢোল পেটাতে থাকেন। এছাড়া সকলেই জন্মোত্সব হয়। এতে বাণিজ্য ছাড়া দর্শক-পাঠকের কোনো বাড়তি লাভ হয় না। বরং আমি মনে করি ওই বাজেটটুকু দিয়ে কোনো প্রাসঙ্গিক জনহিতকর প্রোগ্রামে ব্যয় করলে তা সবার উপকারে আসত। বাংলাদেশের চ্যানেল ওপার বাংলায় দেখা যায় না, ওদেরটা আমরা দেদারসে দেখি—এই পুরোনো তর্কের সমাধান কী? এই সমাধান নিয়ে শুধু কিছু প্রিন্ট মিডিয়া বলছে ইদানীং। যাদের বলা উচিত তারা বলছেন না। আমার জানামতে চ্যানেলগুলোর মালিকদের একটা সংগঠন রয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো। তারা এত মিটিংয়ে এতকিছু বললেও একটা বারের জন্যও এই প্রসঙ্গে কোনো কথা তোলেননি। আজ একাধিক চ্যানেলে সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে নিজেদের বিজয়ী ভাবছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও কে কতজন শিল্পীকে এক ফ্রেমে আনতে পারলেন, সেই চেষ্টাতেই থাকেন। এ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আপনার মতামত জানতে চাই। এর জন্য আমিও অনেকটা দায়ী। কারণ এই বিষয়টি আমিই শুরু করেছিলাম। তবে এগুলোর যথেচ্ছাচার দেখে কষ্ট হয়। এবারে একটু লাইভ অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জানতে চাই। আমাদের নিউজ চ্যানেলগুলো লাইভ হয়, ঠিক আছে। কিন্তু এর বাইরে একাধিক চ্যানেল একাধিক অনুষ্ঠান কিছু হলেই লাইভ প্রচার শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন? লাইভ মানেই কি তবে বেশি দর্শক? এটা আরও এক নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। লাইভ অনুষ্ঠানেও হয়তো আপাত দৃষ্টিতে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। পৃথিবীর কোথাও এত লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার হয় না। অথচ আমরা কোনো কিছু হলেই লাইভ শুরু করি। যেমনই ‘ব্রেকিং নিউজ’ এখন হাস্যকর উপাদানে পরিণত হয়েছে। যেকোনো চ্যানেল যেকোনো খবরকেই ‘ব্রেকিং’ বলে দাবি করছে। এর চেয়ে হাস্যকর আর কী হতে পারে! ‘ইত্যাদি’র এই দীর্ঘ যাত্রা পথে নিজের অনুষ্ঠানের ছোট্ট মূল্যায়ন করতে বলা হলে আপনি কী বলবেন? আমি শুধুই বলব, কয়েক প্রজন্ম যে আমাদের এই অনুষ্ঠানটিকে নিজেদের ভেতরে ধারণ করে চলেছে—এটাই আমার কাছে সেরা স্বীকৃতি। আমি সাধারণত কোনো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাই না। চ্যানেলগুলোর শুরুতে থিম সংয়ের একটি মডেল তৈরি করেছি। স্টুডিওর সেটের বাইরে গিয়ে প্র্রাসঙ্গিকভাবে আমাদের ঐতিহ্যকে দেখানোর জন্য আমরা অনুষ্ঠান ধারণ করেছি। এত কিছু করার পরপরই অন্যেরা তা হুবহু নকল করা শুরু করেছে। আমার কষ্ট হলো, তারা একটি নতুন আইডিয়ার কেন জন্ম দিচ্ছে না, যা থেকে আমি কিছুটা নিতে পারি। এটা আমার অহংকার নয়। আত্মজিজ্ঞাসা। চ্যানেলগুলো তাদের নিজেরদের ছকে বন্দি হয়ে গেছে। এখন যেন মুখস্থ ফর্মেট। সকালে এই অনুষ্ঠান তো সন্ধ্যায় অমুক। স্পন্সররা যা বলছেন, নির্মাতা থেকে শুরু করে চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রধান ‘জি হুজুর জি হুজুর’ করে চলেছেন। এই চর্চা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কোনো উন্নতি হবে না। যাত্রার শুরু থেকেই ভিন্নপথ ১৯৯৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে প্যাকেজ অনুষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘ইত্যাদি’। এটাই ছিল বেসরকারিভাবে নির্মিত প্রথম প্যাকেজ অনুষ্ঠান। তখন একমাত্র বিটিভি ছাড়া কোনো টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই বলা যায় বেসরকারিভাবে অনুষ্ঠান নির্মাণের পথপ্রদর্শক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে ‘ইত্যাদি’ ধারণ শুরু হয় বহিরাঙ্গনে, দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে তা কেবলমাত্র অনুষ্ঠানের স্থান বৈচিত্র্যের জন্যই নয়; আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে জানার এবং জানাবার আগ্রহ নিয়ে। নতুন প্রতিভা (সংগীত ও অভিনয়ে) ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে বহু শিল্পী অভিনেতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, পরিচিত হয়েছে দর্শকদের সামনে। যেমন—সালমান শাহ থেকে শুরু করে হালের মমতাজ সবারই প্রথম আত্মপ্রকাশ ‘ইত্যাদি’তে। এ ছাড়াও আকবর, নাফিস কামাল, নকুল কুমার বিশ্বাস, প্রতিক হাসান, অর্জুন কুমার বিশ্বাস, পথিক নবী, ওয়াকীল, প্রীতম হাসান, সান্টু, পান্থ কানাই, কানিজ সুর্বণা (ইত্যাদির দর্শক পর্বে এসেছিল)। একইভাবে আজকের অনেক জনপ্রিয় অভিনয় তারকার টিভি পর্দায় প্রথম আত্মপ্রকাশ ‘ইত্যাদি’র গানের মডেল হিসেবে। যেমন—সুমাইয়া শিমু, রোমানা, মীর সাব্বির, চাঁদনী, নাদিয়া, ফারজানা ছবি, জয়রাজ।