তারার সাথে একদিন

প্রাণবন্ত তিশার সঙ্গে ...

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২০:০৮
ধারাবাহিক নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিশা। নাটকের নাম ‘খেয়া’। এটি পরিচালনা করছেন সকাল আহমেদ। উত্তরার একটি শুটিং হাউজে এর চিত্রায়ণের কাজ চলছে। তিশার সঙ্গে এই নাটকে আরও অনেক গুণী শিল্পী অভিনয় করেছেন। তিশার সঙ্গে সেদিন দুপুর থেকে বিকেলে কাটানো সময়েরই গল্প শুনবেন আজ আনন্দ বিনোদনের পাঠক। লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি একটু আগেই একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেল। তাই ‘খেয়া’ ধারাবাহিক নাটকের শুটিং স্পটে নির্ধারিত সময়ের ত্রিশ মিনিট পর পৌঁছাতে হলো। ততোক্ষণে নাটকের পরিচালক সকাল আহমেদ তিনটি দৃশ্য ধারণ করে ফেলেছেন। আর কয়েক মিনিট আগে এলে হয়তো তিশাকে একটু অবসর পাওয়া যেত। কারণ তিনটি দৃশ্যে তিশার তেমন কোনো কাজ না থাকায় তিনি এই ফাঁকে একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছিলেন। আমি প্রবেশ করা মাত্রই সহকারী পরিচালক রাজীব এসে তিশাকে ডেকে নিয়ে উপরে চলে গেলেন। তাই অপেক্ষা তো করতেই হবে। করলাম, গুনে গুনে একঘণ্টারও বেশি সময়। ‘খেয়া’ একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। তাই তিশাও কাজ করছেন ভীষণ মনোযোগ দিয়ে। আমি নিজেও খুব বেশি বিরক্ত করিনি পাছে চরিত্রে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর তিশা এলেন, তখন আকাশে মেঘের ঘনঘটাও থেমে গেছে। বললাম, চলুন মূল দুটি কাজের একটি আগে সেরে নিই। তিশা যথারীতি চলে গেলেন শুটিং হাউসের বারান্দায়। কিছু ছবি তোলা হলো। কিন্তু কেমন যেন এবার ছবিতে প্রাণবন্ত তিশাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বললাম, ‘আপু, ছবিতে প্রাণ নেই, একুট হাসি খুশি থাকলে, আরেকটু ভালো ছবি পেতাম।’ তিশা আবার এলেন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন। মুহূর্তেই বদলে গেলেন তিশা। তিশা বলেন, ‘চরিত্রের প্রয়োজনে আমাদের কত কী যে করতে হয় তা বলে বুঝানো যাবে না। ধরুন ভীষণ মন খারাপ আমার, কিন্তু কেউ এসে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছেন? জবাবে কিন্তু হাসিমুখেই উত্তর দিতে হয়। কারণ তিনি কিন্তু আমার মন খারাপের বিষয়টি বুঝবেন না। তাই আপনিও ভালো ছবি চাইছেন, আপনি কিন্তু আমার ভালোর জন্যই তা চাইছেন। তাই ভালো কিছু ছবি তোলার জন্য একটু হাসিখুশি হয়ে উঠলাম।’ তিশা এর আগে নাম ভূমিকায় আরও কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। এত গুণী গুণী শিল্পীদের সঙ্গে ধারাবাহিক নাটকে এটাই তিশার প্রথম কাজ। যেমন এই নাটকে আছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আল মনসুর, শর্মিলী আহমেদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলিসহ আরও অনেকে। তিশার স্বামী গুণী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার জন্মদিন ছিল গত ২ মে। সেইদিন ফারুকীর বিজ্ঞাপনের শুটিং থাকায় কক্সবাজারে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। নিজের জীবনের চাইতে প্রিয় যে মানুষটি সে মানুষটির জন্মদিনে পাশে থাকতে পারবেন না এটা কী করে হয়! জন্মদিনেই উড়াল দিলেন তিশা হেলিকপ্টারে চড়ে। দিনটি জীবনের কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে রইল। আবার সহকারী পরিচালত রাজীব এলেন, পরবর্তী দৃশ্যের জন্য তিশার কল। মধ্যাহ্ন ভোজের সময় পেরিয়ে বিকেলের ঢাকা তখন ব্যস্ত হওয়ার জন্য অস্থির। তিশার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কাওরান বাজারে ইত্তেফাক ভবনের দিকে আমার তখন যাত্রা শুরু।