গান তরুণ প্রজন্মকে সবসময় মোহিত করে। তরুণ প্রজন্মকে সুরের ছোঁয়ায় নাড়া দিয়ে যায়, নিয়ে যায় স্বর্গীয় এক জগতে। এ রকম সাড়া জাগানো একজন সংগীতশিল্পী হচ্ছেন এভরিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবার তিনি ফিরছেন তরুণদের মাতাতে। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
‘হ্যালো কিটি’ নতুন অ্যালবামের এই গান দিয়ে ইউটিউব মাতাচ্ছেন এভরিল। মুক্তির সাথে সাথেই ভিডিওটি বেশ ভালো হিট করেছে। গানগুলোও তার আগের অ্যালবামের সব গানের তুলনায় ব্যতিক্রম। নতুন ধারায় কাজ করেছেন এই অ্যালবামে। তিনি চেয়েছিলেন একটু নতুনভাবে শ্রোতাদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে। আর ভক্তদের কাছে সে চেষ্টা খুব ভালোমতোই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কানাডিয়ান এ সংগীতশিল্পী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংগীতজগতে নিজের অবস্থান পাকাপাকি করে নিয়েছেন। শুধু গান গাওয়াই না, গান লেখা, ফ্যাশন ডিজাইনিং, অভিনয়েও খ্যাতি কুড়িয়েছেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার প্রথম অ্যালবাম বের হয়। তিনি অভিনয় করেছেন কয়েকটি টিভি শো এবং মুভিতে। প্রথম অভিনয় করেন ২০০২ সালে ‘সাবরিনা, দ্য টিনেজ উইচ’-এ। মানবসেবামূলক কাজেও এভরিলের সুনাম রয়েছে। যুক্ত আছেন মেক সাম নয়েজ, আমেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল, ইরেজ এমএস, আমেরিকান সিপিআর অরগ, ম্যাজিক ক্লিয়ারিং, ইউএস চ্যাম্পিয়ন ফর বার্মা, মেক অ্যা উইশ ফাউন্ডেশন এবং ওয়ার চাইল্ডের মতো দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে। ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ সালে জন্ম নেওয়া এই গায়িকার বেড়ে ওঠা কানাডার বেলেভিল নামক শহরে। এ শহরের কথা এভরিলের গানের মাঝে উঠে এসেছে। সেখানকার সম্ভ্রান্ত ও ধনী এক পরিবারে তার জন্ম। তার বাবা জিন ক্লাউড অনেক বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। বাবার দেওয়া নাম—এভরিল আজ দেশে-বিদেশে আলোকিত একটি নাম। তার এ অবস্থানে আসার যাত্রাটা শুরু হয় মাত্র ২ বছর বয়স থেকে। এভরিল তার মায়ের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গাওয়া শিখতেন। তার মা জুডি ছিলেন একজন সংগীতশিল্পী। তাদের ইচ্ছে ছিল এভরিল একদিন অনেক বড় গায়িকা হবে। তাদের স্বপ্ন পূরণও হয়েছে। এর কারণ—গানের প্রতি এভরিলের ছিল তুমুল আগ্রহ। তিনি ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি প্রচণ্ড টান অনুভব করতেন। ধীরে ধীরে এ গান নিয়ে গড়ে ওঠে তার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের হাত ধরে তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে পথচলা শুরু করেন। তার এক বড় ভাই এবং ছোট বোন আছে। তারা তিনজনই এক স্কুলে পড়াশোনা করতেন। আর তার ভাই তাকে পড়াশোনার ফাঁকে সাহায্য করতেন গান লেখায়। এভরিলের বয়স যখন ৫ বছর, তিনি সপরিবারে অন্টোরিওর ন্যাপানি শহরে চলে আসেন। এরপর তার জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য গান হারিয়ে যায়। তিনি পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। কিন্তু খুব বেশিদিন এ কাজটি চালিয়ে যেতে পারেননি। গানের প্রতি মায়া জেগে ওঠে তার। আর এ কারণে তিনি অসংখ্যবার ক্লাস মিস দিয়েছেন। এ কারণে তাকে শাস্তিও পেতে হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ে ক্লাসের বাইরেই থাকতে হয়েছে তার। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি তার পরিবারের সহায়তাও পেয়েছেন অনেক। আর এজন্যই হয়তো এমন খামখেয়ালিপনা শোধরানোর কোনো চেষ্টাই করেননি তিনি। কিছুদিনের মাথায়ই তার বাবা তাকে কি-বোর্ড, গিটার, পিয়ানো কিনে এনে দিয়েছিলেন। বাসার বেজমেন্টে তিনি তার স্টুডিও বানালেন। একা একাই গান গাইতেন। একবার এক গানের প্রতিযোগিতার জন্য গান লিখেছিলেন, গানটি সিলেক্টও হয়েছিল। তার প্রথম লেখা এবং গাওয়া গানটি হলো, ‘কান্ট স্টপ থিংকিং অ্যাবাইট ইউ’। গানটি তিনি তার টিনেজ ক্রাশ নিয়ে লিখেছিলেন। তার আরো কিছু ভালো ভালো গানের মধ্যে রয়েছে ‘কমপ্লিকেটেড’, ‘হোয়েন ইউ আর গন’, ‘টেক মি অ্যাওয়ে’, ‘ডোন্ট টেল মি’, ‘স্মাইল’ এবং ‘স্কেটার বয়’ ইত্যাদি। সম্প্রতি এই গায়িকা আবার ফিরছেন তার নতুন গানের অ্যালবাম নিয়ে। এ ব্যাপারে পপতারকা এভরিল ল্যাভেইন জানালেন তার নতুন অ্যালবামের জন্য ধরাবাঁধা রোমান্টিক গানের বাইরে নতুন ধরনের কিছু লেখার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি এভরিল, নিকেলব্যাক ফোর্টম্যানের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে খোলাসা করেছেন। তিনি জানালেন, নিজের গানের ধারায় কিছুটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন তিনি। এই পপতারকা তার ৫ম অ্যালবামের সমস্ত প্রস্তুতিই নিয়ে ফেলেছেন। আর এবার তিনি তার শ্রোতাদের ভিন্নধর্মী কিছু উপহার দিতে যাচ্ছেন। এভরিল বলেন, ‘এ অ্যালবামে প্রেম এবং বন্ধুত্ব নিয়ে তেমন কোনো গান থাকছে না। আমি এবার শৈল্পিক কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
