তন্বী তানহা

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২০:১২
যদি অটুট লক্ষ্য আর উদ্যম থাকে জীবনের স্বপ্নগুলোকে পাখা মেলে ধরতে তবে শত বাধাও পিছুটান হয়ে থাকতে পারে না। আর এই কথাটাই প্রমাণ করলেন চলচ্চিত্র জগতে পা রাখা নবীন চিত্রনায়িকা তানহা জাফরিন। শত কাঠখড় পুড়িয়ে চোখে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন ২০০৫ সালের লাক্স-চ্যানেল আই প্রতিযোগিতায়। বগুড়া জেলা থেকে নির্বাচিত হয়ে ঢাকায় আসার প্রস্তুতি যখন শুরু হয় ঠিক তখনই প্রথম স্বপ্নের ট্রেনটা থেমে যায়। পারিবারিক কারণেই আর ঢাকা আসা হলো না তানহার। অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন পরবর্তী কোনো সুযোগের। এই দিকে মঞ্চ নাটকে অভিনয় চলতে থাকে নিয়মিতই। চতুর্থ শ্রেণীতে থাকতেই মঞ্চে যাত্রা শুরু তার। এরপর প্রায় অনেক বছর মঞ্চে অভিনয় করেন তিনি। তবে পারিবারিক বাধার কারণেই বগুড়ার বাইরে পা রাখা হয়নি তানহার। একসময় পরিবারের অনেকটা অবাধ্য হয়েই খালার সাথে চলে আসেন ঢাকায়। এরপর বেশকিছু ফ্যাশন হাউজের মডেল হিসেবে ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন তানহা। এবার আবারও চলতে শুরু করে থেমে যায় স্বপ্নের ট্রেনটা। তবে পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবেই আছেন তানহা। কিন্তু মা পুরোপুরিই পাশে আছেন তার। এই গল্প বলতে বলতেই অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে যান তানহা। কণ্ঠ ভারী হয়ে যেতে থাকে তার। তানহার কথায়, ‘আমার বাবা আমাকে কখনো সাপোর্ট করেননি এবং এখনও না। পরিবারের একমাত্র আমার মা, যিনি আমাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেন। তবে আমার বিশ্বাস যে বাকিরাও একদিন আমার কাজের প্রশংসা করবে। সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি।’খালার মাধ্যমেই পরিচয় হয় পরিচালক রিজভি আহমেদের সাথে। পরিচয়ের কিছুদিন পরই প্রস্তাব পান বড়পর্দায় অভিনয়ের। তানহার সামনে চলে আসে নিজের স্বপ্নের ক্যানভাসটি। যেখানে সাদাকালো হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো রঙিন হয়ে ভাসছে। এর আগেও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান তানহা। যেখানে তার সহ-নায়িকা ছিলেন মাহি। তবে প্রস্তাবটি কোনো চিন্তা ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে দেন। এ প্রসঙ্গে তানহা বলেন, ‘এখন যেসব নায়িকা কাজ করছেন তাদের চেয়ে কোনো অংশে কম নই আমি। হতে পারে নতুন শুরু করছি। তবে আমি ঠুনকো নই। আমি চেয়েছিলাম আমি প্রথম যেই ছবিতে কাজ করব সেখানে আমি একাই নায়িকা হিসেবে থাকব।’ রিজভি আহমেদের ‘বড় বানাবো তোমাকে’ ছবিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তানহা। যেখানে একজন গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এর আগে কখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো হয়নি তানহার। সরাসরি বড়পর্দায় কাজ শুরু করেছেন। প্রথম রেড ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার। তবে আত্মবিশ্বাস ছিল তুখোড়। তানহার কথায় কিঞ্চিত্ পরিমাণেও নার্ভাস ছিলেন না তিনি। মাত্র তিন টেকেই শট ওকে। এরপর আরও বেশকিছু ছবির প্রস্তাব আসতে থাকে তানহার কাছে। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই বেশ সচেতনভাবেই কাজ বাছাই করছেন তানহা। এ মুহূর্তে ব্যস্ত আছেন তার দ্বিতীয় ছবি ‘নো মোর লাভ’ নিয়ে। নিজেকে বাংলা চলচ্চিত্রের নক্ষত্র হিসেবে দেখতে চান তানহা। যেই নক্ষত্র কখনও ঝরে পড়বে না। শাবানা, ববিতার মতো একটা ইমেজ তৈরি করতে চান নিজের। আর সেই ট্রেনটি ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাবার যাত্রা।