এ ক্স ক্লু সি ভ কা ন চ ল চ্চি ত্র উ ত্ স ব ২ ০ ১ ৪

কানে নামলো পরী!

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২০:৫৩
এতদিন যেন এটুকুনেরই একটা অপূর্ণতা ছিল। বলিউড সুন্দরী ঐশ্বরিয়া রায় ছাড়া যে অর্থহীন কান। সৌন্দর্যেও কোথায় যেন খানিকটা ঘাটতি হয়। সে কথাই জানান দিল—রেড কার্পেটে আসতেই এত ক্যামেরা ফ্ল্যাশ, কৌতূহল আর আলোর ঝলকানি খুব কম দেখা গেছে। আসলে এই ভ্রমণ মূলত রথ দেখা কলা বেচার মতোই। যা গতকাল আলোচনা করেছি। অর্থাত্ একটি প্রসাধনীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এসে নিজের ছবির ক্যাম্পেইনও চালিয়ে নিচ্ছেন বেশ। রেড কার্পেটে আসার আগে সেই লরিয়েলের অনুষ্ঠানে খানিক দেখা পেলাম। তারা তখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোনম কাপুর আর, ঐশ্বরিয়া আর ফ্রিদা পিন্টো। জমসে আড্ডা দিচ্ছেন। এই তিনজন অনিন্দ্য সুন্দরীর ভিড়ে আমার মতো কৃষ্ণবর্ণের যেতেও যেন খানিক দ্বিধা লাগল! তবু তাদের প্রস্তুতি শেষে কথা হলো। কোনো রকম অহংবোধ নেই। সাবলীলভাবে বললেন, ‘বাংলাদেশে তো আমাদের মুভি এক্সপোর্ট হয় না। বাংলাদেশি ছবির ভালো অফার পেলে তো অবশ্যই করব। আমি তো ঋতুপর্ণ দাদার কাছে বাংলাদেশের গল্প শুনেছি। আমার ‘দেবদাস’ ছবির ড্রেস আনা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।’ বোঝা গেল ঋতুপর্ণের কল্যাণে আধাকাঁচা বাংলা বেশ ভালোই রপ্ত করেছেন। এরপরই লরিয়েলের পক্ষ থেকে ফটোশুটে ব্যস্ত হলেন। সোনমকে আমার ‘পরবাসিনী’র ক্লিপিং দেখালাম। বলল, ‘ওয়াও।’ বেশিক্ষণ আড্ডা মারার আর সুযোগ কই। রেড কার্পেটে দেখা গেল খোদ কান ডিরেক্টর থিয়েরি ফ্রিমক্স ছবি তুললেন স্বপ্রণোদিত হয়ে। পাশে দাঁড়িয়ে পোজ দিতেই জোরে বললেন, ‘আমি আজ এক পরীর পাশে দাঁড়িয়ে আছি। সবাই আমাকে দেখো।’ সতিই যেন দূর আকাশের পরীই আজ নেমে এসেছে কানের লাল গালিচায়। বের হতেই লাঞ্চ আওয়ারের পরে দেখা হলো থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিস ক্যানমের সাথে। গত দুইদিন ধরেই তার সাথে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ চলছে। তাকে দেখেই বললাম, তোমার দেশে তো খুবই বাজে অবস্থা। ক্যানম হেসে উড়িয়ে দিল। বলল, ‘ওসব পলিটিশিয়ানদের বিষয়। আমরা আমাদের মতো আছি।’ আমি ভাবি, ইশ, আমরাও যদি এভাবে বলতে পারতাম!