২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা, ২০০৫ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, সে হিসাবে পুরনো প্রতিষ্ঠান নয় মাইলস্টোন স্কুল এ্যান্ড কলেজ। কম সময়েই সেরাদের তালিকায় স্থান নেয়ায় উচ্ছ্বসিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। কিভাবে এই ভালো ফল সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকেন। ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া প্রতি শ্রেণিকক্ষে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীর বেশি নয়। শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানের কারণেই ভালো ফল সম্ভব হয়েছে।
গতকাল প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীর ভিড়। অনেকেই মিষ্টি নিয়ে এসেছেন শিক্ষক সহপাঠীদের জন্য। অনেকের সাথে এসেছেন বাবা মা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে চলে প্রাণবন্ত আড্ডা।
এবছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ৯০৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দেয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৬৬ জন এবং এ গ্রেড অর্জন করে ৪২ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৯৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ৬১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৫ জন জিপিএ-৫ এবং ৮ জন এ গ্রেড পায়। বাণিজ্য বিভাগ থেকে ২৯৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৬১ জন জিপিএ-৫ এবং ৩৪ জন এ গ্রেড পেয়েছে।
ভালো করার কারণ হিসাবে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল নূরন্ নবী (অব.) বলেন, স্বপ্ন ছিল একটি ভালো মানের প্রতিষ্ঠান করার। তাই নিজের অর্জিত জ্ঞান ও কলাকৌশল কাজে লাগিয়েছি। ভালো মানের শিক্ষক নিয়েছি। প্রতি শিক্ষার্থীর প্রতি আলাদা যত্ন নিয়েছি। খুব অল্প দিনেই পরিণত হয়েছে রূপকথার গল্পের ন্যায় এক স্বপ্নময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সুশিক্ষা আর নিয়মানুবর্তিতা মিলেমিশে আমাদের ভবিষত্ প্রজন্ম যেখানে লিখছে স্বপ্ন জয়ের এক অনবদ্য গল্প। মাইলস্টোন কলেজ সবসময় গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করে থাকে। যে শিক্ষা শুধুই ভালো পাস নয়; একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হতে সহায়তা করবে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সায়মার বক্তব্য, শিক্ষকদের কথামতো পড়াশোনা করলে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভালো করবেই। আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের নজরদারিতে ছিলাম। দুর্বল শিক্ষার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
রফিকুল নামে এক অভিভাবক বললেন, ভালো ফলাফলের জন্য স্কুলের ব্যবস্থাপনা, শিখন পদ্ধতি, শিক্ষকদের মনিটরিং প্রয়োজন। যা এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের আলোকে অন্য দুর্বলমানের প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে তারাও ভালো করবে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এসএসসির ফলাফলে ঢাকা বোর্ডের অধীনে শতভাগ পাসসহ মাইলস্টোন কলেজ দশম স্থান অর্জন করে। ২০০৯ সালে কলেজটি পরপর দু’বার বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান লাভ করে। ২০০৯ সালে প্রকাশিত এসএসসির ফলাফলে শতভাগ পাস ও জিপিএ অর্জনের ভিত্তিতে ঢাকা বোর্ডে ৫ম স্থান এবং সারাদেশের বিবেচনায় সেরা ৬ষ্ঠ কলেজের সম্মান লাভ করে।
