নজরুলের জীবনী পর্যালোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট, তত্কালীন ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাঁকে যতই দমিয়ে রাখার অপকৌশল অবলম্বন করেছে তিনি ততই ‘বাঁধনহারা’র মতো অবিরাম ছুটেছেন। ক্ষিপ্র সে গতি। কখনো উল্কার বেগ, কখনোবা প্রলয়ঙ্করী মহাঝড় কিংবা মহাপ্লাবণ হয়ে। তিনি যে পথ মাড়িয়েছেন, তা ভেঙেচুরে একাকার করে দিয়েছেন। কাঁপিয়ে দিয়েছেন ইংরেজ শাসকের ভিত। তারুণ্যতেজোদীপ্ত নজরুল কবিতার মাধ্যমে তত্কালীন ইংরেজ শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা করলেও সাহিত্যের অপরাপর শাখা যেমন—নাটক, গল্প, উপন্যাস ও সংগীতেও বিপ্লবের ধারা সচেতনভাবেই এগিয়ে নিয়েছেন। সাংবাদিকতার সময় লিখেছেন শক্তিশালী ও ক্ষুরধার প্রবন্ধ। কালক্রমে ওই প্রবন্ধগুলোই হয়ে উঠেছে বিপ্লবের সমার্থক।
রাষ্ট্রীয় শোষণ থেকে জনমুক্তির উপায় হিসেবে সাধারণ নাগরিকের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাহিত্যিক প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি লিখেছিলেন প্রবন্ধ। কবিতা ও গানের তুলনায় তাঁর প্রবন্ধ সংখ্যা কম হলেও এসব প্রবন্ধে প্রত্যক্ষ করা যায় তত্কালীন ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের চিত্র এবং নজরুল মানসে তাঁর অভিঘাতের পরম্পরা।
সাংবাদিক জীবনে নজরুল ‘নবযুগ’, ‘ধূমকেতু’, ‘গণবাণী’ ও ‘লাঙল’ পত্রিকায় যেসব সম্পাদকীয় প্রবন্ধ প্রকাশ করেন, মূলত সেগুলোই পরবর্তী সময়ে পরিমার্জন করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। নজরুলের চারটি প্রবন্ধগ্রন্থ পাওয়া যায়। এগুলো হচ্ছে—‘যুগবাণী’ (১৯২২), ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ (১৯২৩), ‘রুদ্র-মঙ্গল’ (১৯২৬) এবং ‘দুর্দিনের যাত্রী’ (১৯২৬)। ১৯২০ সালের খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন প্রবল হয়ে উঠলে তত্কালীন ভারতের হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। সাধারণের মধ্যেও তীব্র হতে থাকে ইংরেজবিরোধী অবস্থান। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলনের চেতনা গভীরভাবে উঠে আসে নজরুলের প্রবন্ধে। তাঁর প্রবন্ধ পাঠে বিপ্লবী চেতনা সাধারণ জনমানসে সঞ্চারিত করার প্রয়াস লক্ষ করা যায়। ‘যুগবাণী’ গ্রন্থে রয়েছে ২১টি প্রবন্ধ। প্রবন্ধগুলোতে পরাধীনতার গ্লানি দূর করার প্রত্যক্ষ চেতনা ও প্রতিরোধের প্রবল সুর স্পন্দিত হয়েছে। প্রথম প্রবন্ধ ‘নবযুগ’-এ তিনি বলেন—‘মারো অত্যাচারীকে। ওড়াও স্বাধীনতা-বিরোধীর শির। ভাঙো দাসত্বের নিগঢ়। এ বিশ্বে সবাই স্বাধীন। মুক্ত আকাশের এই মুক্ত মাঠে দাঁড়াইয়া কে তাহার অধীনতা অস্বীকার করিবে; এই ‘খোদার উপর খোদকারী’ শক্তিকে দলিত কর।’
ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য কাঙ্ক্ষিত বিপ্লবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ ভারতীয় সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ তিনি প্রত্যাশা করেছেন। তাই অন্তরে মানবতার মশাল জ্বালিয়ে সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিত প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি এ প্রবন্ধে—‘এস ভাই হিন্দু! এস মুসলমান! এস বৌদ্ধ! এস ক্রিশ্চিয়ান! আজ আমরা সব গণ্ডী কাটাইয়া, সব সংকীর্ণতা, সব মিথ্যা, সব স্বার্থ চিরতরে পরিহার করিয়া প্রাণ ভরিয়া ভাইকে ভাই বলিয়া ডাকি। আজ আমরা আর কলহ করিব না। চাহিয়া দেখ, পাশে তোমাদের মহাশয়নে শায়িত ঐ বীর ভ্রাতৃগণের শব।’
এ গ্রন্থের ‘গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা মানুষ হ’ প্রবন্ধে তিনি মনুষ্যত্ব, বিবেক ও কর্তব্যকে সবার ওপরে স্থান দিতে বলেছেন। নজরুল বিশ্বাস করতেন স্বচ্ছ বিবেকশক্তির অধিকারী ও সঠিক কতর্ব্যজ্ঞান সম্পন্ন মানুষই জাতির সঙ্কটকালে পথ নির্দেশ করতে পারেন। ব্রিটিশ বন্দিদশায় আচ্ছন্ন মানুষের অধিকার লঙ্ঘনে মর্মাহত নজরুল আত্মমর্যাদাহীন, পরাধীন জাতিকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত করার প্রয়াস পেয়েছেন। ফলে প্রবন্ধটিতে জাতিকে জাগিয়ে তোলার তীব্র চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। নজরুল বলেছেন—‘... বাহিরের স্বাধীনতা গিয়াছে বলিয়া অন্তরের স্বাধীনতাকেও আমরা যেন বিসর্জন না দেই। আজ যখন সমস্ত বিশ্ব মুক্তির জন্য, শৃঙ্খল ছিঁড়িবার জন্য উন্মাদের মত সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করিতেছে, স্বাধীনতা যজ্ঞের হোমানলে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা দলে দলে আসিয়া নিজের হূিপণ্ড উপড়াইয়া দিতেছে, তাহাদের মুখে শুধু এক বুলি, ‘‘মুক্তি-মুক্তি-মুক্তি’’।’
আবার দেশমাতাকে আহ্বান করেছেন তার দুর্দশার চিত্র সবার মাঝে সঞ্চারিত করে তাদের জাগিয়ে দিতে—‘... তোমাকেই আঘাত দিয়া আমাদের জাগাইতে হইবে’ বলে। নজরুলের প্রবন্ধগুলো গণজাগরণের পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রূপের জন্য লিখিত হলেও এসব প্রবন্ধে তিনি আত্মসমালোচনাও করেছেন। অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীকে নির্লজ্জভাবে সমর্থন, কাপুরুষতা ও জনগণের আত্মসম্মানবোধের প্রতিও কটাক্ষ করেছেন তিনি। তিনি বিশ্বাস করতেন, ব্রিটিশ শাসকদের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ, একজন যোগ্য নেতাই হতে পারেন একটি জাতির মুক্তির দূত। ব্রিটিশ অত্যাচারে নিহত বাল গঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুর গভীর বেদনা বুকে নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য’ নামে প্রবন্ধ। ১৯২০ সালে হিজরত আন্দোলন সংগঠিত হয় ভারতবর্ষে। এ আন্দোলনে হাজার হাজার মুসলমান অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে আফগান চলে যান। এ ঘটনা নজরুল মানসে দারুণভাবে আঘাত করে। স্বাধীন সত্তা ও মুক্ত হয়ে জন্মানোর পরও মানুষ কেন পরাধীন, দাসত্বকে মেনে নেবে? নজরুল এই দাসত্বকে মুক্তির প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিজেকে তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন?’ একটা বিষয় বেশ স্পষ্ট যে, নজরুলই ছিলেন পরাধীন ভারতবর্ষের মুক্তির সত্যিকারের দূত, যিনি সবসময় দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে জাতির মুক্তির উপায় খুঁজেছেন।
প্রবন্ধের ভেতর দিয়ে কাজী নজরুলকে পাওয়া যায় সার্বিক দুঃশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে। তিনি দেখতে পেয়েছিলেন শোষণ শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সমাজ জীবনের সর্বত্র এই শোষণের বিষবাষ্প ছড়িয়ে রয়েছে। যাদের পরিশ্রমে দেশ ধীরে ধীরে উন্নতির পথে ধাবিত হয় সেই শ্রমিক শ্রেণির বঞ্চনা নজরুলের মনে যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছে। তিনি নিজেই এসব প্রত্যক্ষ করেছেন, দেখেছেন অত্যাচারীর খড়্গ কীভাবে কয়লাখনি শ্রমিকদের দিনের পর দিন শোষণ করেছে। সঙ্গত কারণে ব্যথাতুর নজরুল কয়লাখনি শ্রমিকদের পক্ষ হয়ে আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ধর্মের সত্য, সুন্দর ও উদারতার দিকও গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বুঝেছিলেন, দেশের উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীসহ সবাইকে এক আদর্শে সমবেত করা না গেলে ভারতবাসীর আদৌ মুক্তি ঘটবে না। তাই মুক্তির আদর্শের পথে এগিয়ে আসার জন্য তিনি হিন্দু-মুসলমান, ধনী-দরিদ্রসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর থেকে মনুষ্যত্বের আলো জ্বালিয়ে একই কাতারে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ‘ছুঁত্মার্গ’ প্রবন্ধে তিনি বলেছেন—‘হিন্দু হিন্দু থাক, মুসলমান মুসলমান থাক, শুধু একবার ঐ মহাগগনতলের সীমাহারা মুক্তির মাঝে দাঁড়াইয়া মানব-তোমার কণ্ঠে সেই আদিম বাণী ফুটাও দেখি। বল দেখি , ‘‘আমরা মানুষ ধর্ম’’।’
কাজী নজরুলের বহুল আলোচিত প্রবন্ধ ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। এ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় (১৯২২, ২৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যায়) ব্রিটিশকে কটাক্ষ করে লেখা ‘আনন্দময়ীর আগমন’ কবিতার জন্য নজরুল রাজরোষের শিকার হন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর। ১৯২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইন হো’র আদালতে হাজির করা হলে তিনি আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন, সে বক্তব্য ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় প্রকাশ করা হয় ২৭ জানুয়ারি সংখ্যায়। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হয় গ্রন্থটি। নজরুলের এ জবানবন্দি শুধু আত্মজৈবনিক প্রতিবেদন নয়, বরং তা তত্কালীন ভারতবর্ষের নির্যাতিত কোটি কোটি কণ্ঠের এক আওয়াজ। তিনি বলেন—‘আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ রাজকারাগারে বন্দি এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত।... একজন রাজা, হাতে রাজদণ্ড; আরজন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজার পক্ষে নিয়ুক্ত রাজ বেতনভোগী রাজকর্মচারী। আমার পক্ষে সকল রাজার রাজা, সকল বিচারকের বিচারক, আদি অনন্তকাল ধরে সত্য জাগ্রত ভগবান।... আমার হাতের ধূমকেতু এবার ভগবানের হাতের অগ্নিমশাল হয়ে অন্যায় অত্যাচারকে দগ্ধ করবে। আমার বহ্নি-এরোপ্লেনের সারথি হবেন এবার স্বয়ং রুদ্র-ভগবান। অতএব, মাভৈ; ভয় নাই।’
ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে যেখানে কোনো শক্তিই দানা বাঁধতে সাহসী হয় না, সেখানে একজন বাঙালি কবির কণ্ঠে বলিষ্ঠ এ বক্তব্যের পর ইংরেজ শাসকের ভিত কি একটুও কেঁপে ওঠেনি—এ প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। সত্যিকার অর্থে এ বক্তব্যটি ‘শুধু সমকালীন অন্যায়ের বিরুদ্ধে পৌরুষদীপ্ত ঘোষণাই নয়, বরং তা ভবিষ্যতের সব অন্যায়ের প্রতিবাদে শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণার প্রতীকীরূপ’ বলেই ধরে নেয়া যায়।
১৯২৬ সালে আটটি প্রবন্ধ নিয়ে ‘রুদ্র-মঙ্গল’ এবং সাতটি প্রবন্ধ নিয়ে ‘দুর্দিনের যাত্রী’ গ্রন্থ দুটি প্রকাশিত হয়। এসব প্রবন্ধেও ইংরেজ শাসকের অত্যাচারে উত্পীড়িত জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান এবং সর্বহারা মানুষের অধিকার চেতনার দিক তুলে ধরা হয়েছে। এ দুটি গ্রন্থের অধিকাংশ প্রবন্ধে অসহযোগ আন্দোলন ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে যে নৈরাজ্য, হতাশা, হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হওয়ার প্রেরণা, সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষাপট ও জাতীয় জাগরণের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি ‘রুদ্র-মঙ্গল’ গ্রন্থের নাম প্রবন্ধে দেশের দুর্দশামোচনে ভয়ঙ্করের বেশে সুন্দরের আহ্বান করেছেন—‘জাগো জনশক্তি! হে আমার পদপিষ্ট কৃষক, আমার মুটে মজুর ভাইরা! তোমার হাতের এ-লাঙল আজ বলরাম স্কন্ধে হলের মত ক্ষিপ্ত তেজে গগনের মাঝে উিক্ষপ্ত হয়ে উঠুক, এই অত্যাচারীর বিশ্ব উপড়ে ফেলুক-উলটে ফেলুক। আন তোমার হাতুড়ি, ভাঙ ঐ উত্পীড়কের প্রাসাদ-ধুলায় লুটাও অর্থ পিশাচ বল-দর্পীর শির।’
একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট যে, নজরুলকে ইংরেজ শাসক যত আঘাত করেছে, তিনি তার সবটুকুই ফিরিয়ে দিয়েছেন কয়েকগুণ বেশি শক্তি দিয়ে। তাঁর এ শক্তি সত্যের, ন্যায়ের এবং জনতার একাত্মতার। কারণ, তাঁর সাহিত্যের মধ্য দিয়ে ধীরে হলেও ভারতবর্ষের নিপীড়িত জনগণের চেতনার দুয়ার খুলে গেছে সম্পূর্ণরূপে। জর্জরিত, শোষিত জনগণ প্রবল শক্তি সংগ্রহ করে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাঁর। তাঁর প্রবন্ধ পাঠান্তে জোর দিয়েই বলা যায়, বাঙালির ধর্মীয় আবদ্ধতা, গোঁড়ামি এবং চিন্তা-চেতনার নিশ্চলতার মধ্যে অশেষ প্রজ্ঞার সঙ্গে সমগ্র বাঙালি জাতিকে একাই জাগিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। অবহেলিত, নিরন্ন, নিষ্পেষিত মানুষের মননে জ্বালিয়েছেন আত্মদর্শী চেতনার অবিনাশী শিখা। তাই তিনি বাঙালি জীবনে একটি গণজাগরণ, একটি ইতিহাস ও একটি অবিস্মরণীয় ঘটনার নাম। বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত, সর্বহারা মানুষের পথের দিশারী এবং বেঁচে থাকার অন্যতম প্রেরণা। নজরুলের কবিজীবন যেমন অখণ্ডিত, তেমনি প্রাবন্ধিক জীবনও অবিচ্ছিন্ন, অনমনীয় ও আপোসহীন সংগ্রামের এক উজ্জ্বল ইতিহাস।
সহায়ক তথ্য
১. নজরুল সাহিত্যে বিপ্লবী চেতনা, পারভীন আক্তার জেমী, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।
২. নজরুল রচনাবলী, ১ম খণ্ড সম্পাদনা আব্দুল কাদির, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।
৩. স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙলা, নরহরি কবিরাজ, কলিকাতা।
৪. বাংলা সাহিত্যে নজরুল, আজহার উদ্দীন খান, কলকাতা।
৫. নজরুল কেন নজরুল, শান্তনু কায়সার, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, ২০১৩।
