রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘১৪০০ সাল’ কবিতাটি লেখেন ১৩০২ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে। কবিতাটিতে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষের পরের পাঠককে বসন্তের পুষ্পাঞ্জলি পাঠিয়েছেন—‘আজি হতে শতবর্ষ পরে/ কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি/ কৌতূহলভরে, আজি হতে শতবর্ষ পরে!’
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩৩৪ সালের আষাঢ় মাসে তাঁর ‘১৪০০ সাল’ কবিতায় এর উত্তর লেখেন। তাতে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভক্তি—‘আজি হ’তে শতবর্ষ আগে/ কে কবি, স্মরণ তুমি করেছিলে আমাদেরে/ শত অনুরাগে,/ আজি হ’তে শতবর্ষ আগে!’
রবীন্দ্রনাথের প্রতি নজরুলের মনোভাবের অকৃত্রিম পরিচয় ফুটে উঠেছে কবিতাটিতে। যদিও এদেশে প্রচার আছে—রবীন্দ্রনাথের শত্রুতার কারণেই নজরুলের যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি। এসবই মতলববাজ ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর অপপ্রচার।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ‘নোবেল পুরস্কার’ পান তখন কাজী নজরুল ইসলামের বয়স মাত্র ১৪ বছর। আমাদের দেশে সবসময়ই একটি গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে নিজেদের ঘৃণ্য স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রয়াস পেয়েছে। কে বড় এই অমূলক বা অবান্তর প্রশ্ন তুলে বহু লেখালেখি ও বলাবলি হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের দুই মহান কবির মধ্যে যে গভীর সুসম্পর্ক ছিল তা আমাদের অনেকেরই অজানা।
রবীন্দ্রনাথ যেমন অনুজ নজরুলের প্রতি আশীর্বাণী প্রদান করে প্রীত হয়েছেন, তেমনি নজরুলও অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে হয়েছেন ধন্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি কাজী নজরুলকে উত্সর্গ করেছিলেন। সেটি ছিল রবীন্দ্র পরিবারের বাইরে প্রথম কাউকে একটি বই উত্সর্গ করার ঘটনা। রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক বরাবর সৌহার্দ্যের; রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে যে কেমন স্নেহ করতেন তার আরও উদাহরণ আছে—রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘গোরা’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ছায়াছবিতে নজরুল ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এতে বাধ সাধলে রবীন্দ্রনাথ তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নজরুলকে সঙ্গীত পরিচালনার স্বীকৃতি প্রদান করেন।
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নজরুলের সরাসরি দেখা হয়েছিল ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে শান্তিনিকেতনে। তখন নজরুলের বয়স ২২ বছর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে গিয়েছিলেন। বোলপুর স্টেশন থেকে কাজী নজরুল এবং ড. শহীদুল্লাহকে অভ্যর্থনা জানান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সচিব কবি সুধাকান্ত রায় চৌধুরী। নজরুল সেদিন রবীন্দ্রনাথের কাছে একটি কবিতার আবৃত্তি শুনতে চেয়েছিলেন। কবিগুরু বললেন, ‘সে কি? আমি যে তোমার গান ও আবৃত্তি শোনবার জন্যে প্রতীক্ষা করে আছি, তাড়াতাড়ি শুরু করে দাও।’ নজরুল আবৃত্তি করেছিলেন, অগ্নিবীণা’র ‘আগমনী’ কবিতাটি। এছাড়াও তিনি কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনান। নজরুলের অনুরোধে সেদিন রবীন্দ্রনাথ আবৃত্তি করে শোনান, ‘মাধবী হঠাত্ কোথা হতে, এল ফাগুন দিনের স্রোতে, এসে হেসেই বলে যাই যাই।’...
এর পর বেশ কয়েকবার রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নজরুলের সাক্ষাত্ হয়। ১৯২১-এর ডিসেম্বর মাসে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনা করে নজরুল সরাসরি চলে যান জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে। উচ্চ কণ্ঠে ‘দে গরুর গা ধুইয়ে’ গাইতে গাইতে নজরুল ঠাকুর বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকলেন, গুরুদেব আমি এসেছি। উচ্চ স্বরে আবৃত্তি করতে থাকেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি। এবং তিনি রবীন্দ্রনাথকে বলেন, ‘গুরুদেব, আমি আপনাকে খুন করবো’। রবীন্দ্রনাথ ‘বিদ্রোহী’ কবিতা শুনে কবিতার প্রশংসা করেন এবং নজরুলকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘সত্যিই তুই আমাকে খুন করেছিস’।
১৯২২-এর ২৫ জুন কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরিতে রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ওই স্মরণসভায় নজরুলকে ডেকে পাশে বসিয়েছিলেন। নজরুল আবৃত্তি করেছিলেন ‘সত্যকবি’ কবিতাটি। রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক নজরুলকে এভাবে স্নেহবন্ধনে আবদ্ধ করায় তখনও কবি-সাহিত্যিকরা ঈর্ষান্বিত হয়েছিলেন।
রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে, কিন্তু দুই কবির শ্রদ্ধা ও স্নেহের মৌলিক সম্পর্ক কখনো বিচলিত হয়নি। নজরুলের ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয় ১৯২২-এর ১১ আগস্ট (১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৪ শ্রাবণ)। রবীন্দ্রনাথ এই পত্রিকার আশীর্বাণী লিখে দেন। রবীন্দ্রনাথের হস্তলিপিতে প্রথম ৬টি সংখ্যার সম্পাদকীয় স্তম্ভের ওপর তা ছাপা হয়। ‘আয় চলে আয়, রে, ধূমকেতু,/ আধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,/ দুর্দিনের এই দুর্গশিরে/ উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।/ অলক্ষণের তিলক রেখা/ রাতের ভালে হোক না লেখা,/ জাগিয়ে দেরে চমক মেরে’/ আছে যারা অর্ধচেতন!’
ধূমকেতুর ১২শ সংখ্যায় (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২) প্রকাশিত নজরুলের ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামক একটি প্রতীকধর্মী কবিতা প্রকাশের পর নজরুলকে গ্রেফতার করে তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহ মামলা করা হয়। ১৯২৩-এর ১৬ জানুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহো মামলার রায় প্রদান করেন। এতে নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। এই বছরই ২২ ফেব্রুয়ারি কারাগারে থাকাবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি নজরুলকে উত্সর্গ করেন। রবীন্দ্রনাথ পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়কে জোড়াসাঁকোর বাড়িতে ডেকে বলেন, ‘জাতীর জীবনের বসন্ত এনেছে নজরুল। তাই আমার সদ্য প্রকাশিত ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যখানি ওকেই উত্সর্গ করেছি। সেখানা নিজের হাতে তাকে দিতে পারলে আমি খুশি হতাম, কিন্তু আমি যখন নিজে গিয়ে দিয়ে আসতে পারছি না, ভেবে দেখলাম, তোমার হাত দিয়ে পাঠানোই সবচেয়ে ভালো, আমার হয়েই তুমি বইখানা ওকে দিও।’
এই বইটি নজরুলকে উত্সর্গ করায় রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী বেশ কয়েকজন কবি-সাহিত্যিক খুশি হতে পারেননি। তাই রবীন্দ্রনাথ তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নজরুলকে আমি ‘‘বসন্ত’’ গীতিনাট্য উত্সর্গ করেছি এবং উত্সর্গপত্রে তাকে ‘‘কবি’’ বলে অবিহিত করেছি। জানি তোমাদের মধ্যে কেউ এটা অনুমোদন করতে পারনি। আমার বিশ্বাস, তোমরা নজরুলের কবিতা না পড়েই এই মনোভাব পোষণ করেছ। আর পড়ে থাকলেও তার মধ্যে রূপ ও রসের সন্ধান করনি, অবজ্ঞাভরে চোখ বুলিয়েছ মাত্র।’ রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করেন, ‘নজরুলের কাব্যে অসির ঝনঝনানি আছে। আমি যদি তরুণ হতাম তা হলে আমার কলমেও ওই একই ঝংকার বাজতো।’
রবীন্দ্রনাথ পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে বইটি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ আরও বলেছিলেন, ‘নজরুলকে বলো, আমি নিজের হাতে তাকে দিতে পারলাম না বলে সে যেন দুঃখ না করে। আমি তাকে সমগ্র অন্তর দিয়ে অকুণ্ঠ আশীর্বাদ জানাচ্ছি। আর বলো, কবিতা লেখা যেন কোন কারণেই সে বন্ধ না করে। সৈনিক অনেক মিলবে কিন্তু যুদ্ধে প্রেরণা জোগাবার কবিও তো চাই।’
নজরুল বইটি পেয়েই বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এ প্রসঙ্গে নজরুল লিখেছেন, ‘এ সময়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘‘বসন্ত’’ নাটক আমায় উত্সর্গ করেন। তাঁর এই আশীর্বাদ-মালা পেয়ে আমি জেলের সর্বজ্বালা, যন্ত্রণা ক্লেশ ভুলে যাই।’ নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথকে উত্সর্গ করেন।
১৯২৩-এর ১৪ এপ্রিল হুগলি জেলে নজরুল অনশন করেন। নজরুল ইসলামকে প্রেসিডেন্সি জেলের ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথ অনশন ভঙ্গ করার জন্য টেলিগ্রাম পাঠান। তাতে লেখেন, Give up hunger strike, our literature claims you. জেল কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামটি ফেরত পাঠায়। কারণ, নজরুল তখন ছিলেন হুগলি জেলে।
নজরুল ১৯৩৫-এর জুন মাসে ‘নাগরিক’ পত্রিকার জন্য রবীন্দ্রনাথের কাছে লেখা চেয়ে চিঠি পাঠান। তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ৭৫ বছর। বেশ অসুস্থ। এর উত্তরে রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৬-এর ১ সেপ্টেম্বর চিঠির উত্তরে লিখেছিলেন, ‘...তুমি তরুণ কবি, এই প্রাচীন কবি তোমার কাছে আর কিছু না হোক করুণা দাবি করতে পারে। শুনেছি বর্ধমান অঞ্চলে তোমার জন্ম। আমরা থাকি পাশের জিলায় (বীরভূমের বোলপুরে)। কখনো যদি ঐ সীমানা পেরিয়ে আমাদের এদিকে আসতে পারো খুশি হব।’ উক্ত চিঠির জবাবে নজরুল ‘নাগরিক’ পত্রিকায় লেখেন, কবিতা—‘হে কবি, হে ঋষি অন্তর্যামী আমারে করিও ক্ষমা।/ পর্বত-সম শত দোষত্রুটি ও চরণে হল জমা।.../ তুমি স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ বিস্ময়-/ তব গুণে-গানে ভাষা-সুর যেন সব হয়ে যায় লয়।.../ প্রার্থনা মোর, যদি আরবার জন্মি এ ধরণীতে,/ আসি যেন শুধু গাহন করিতে তোমার কাব্য-গীতে।’
কবি নজরুল ছিলেন, তারুণ্যের কবি। যৌবনের দীপ্ত অহংকার তাঁর কবিতায় ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বলা যেতে পারে, বাংলা কাব্যে তিনিই এই ধারার পথিকৃত্। তাঁর কাব্য নির্মাণকাল ছিল একেবারেই আলাদা। তাঁর কবিতার বিপ্লবী ধারা বাংলা এবং বিশ্বের নানা উত্স থেকে আহূত। রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা ও নাটকেও কোথাও বৈপ্লবিক চেতনার একটি প্রত্নরূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। তাঁর ‘রথের রশি’, ‘ওরা কাজ করে’, ‘বাঁধ ভেঙে দাও’ ‘তাসের দেশ’ বা ‘রক্ত করবী’তে বিপ্লবীর বাণী তো আছেই। নজরুল এ থেকেও কিছুটা হলেও অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন—এমন তো ভাবাই যায়।
মানুষ, মানবতা নিয়ে দুজনের ভাবনায় কোনো প্রভেদ নেই। রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ’। বলেন, মানবিক ধর্মের কথা যা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ঊর্ধ্বে। একইভাবে নজরুল বলেছেন, ‘আমি আজও মানুষের প্রতি আস্থা হারাইনি। মানুষকে আমি শ্রদ্ধা করি, ভালবাসি। স্রষ্টাকে আমি দেখেনি, কিন্তু মানুষকে আমি দেখেছি। এই ধূলিমাখা, অসহায়, দুঃখী মানুষই একদিন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করবে।’
রবীন্দ্রনাথ বিদ্রোহী কবি নজরুলকে বরণ করে নিয়েছিলেন শুধু তাঁর ‘বসন্ত’ নাটক উত্সর্গের মাধ্যমেই নয়, যেমন নজরুলের প্রতি ব্যক্তিগত আচরণে, তেমনি তাঁদের মানব ভাবনার অন্তর্গত ঐক্যে। দুজনই পুরোহিততন্ত্র ও মোল্লাতন্ত্রের বিরোধী ছিলেন। একারণেই তাঁরা দুজনই যতটা নন্দিত ততটা নিন্দিত।
কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গুরু বলে মান্য করতেন। নজরুল নিজের কাব্যচর্চা থেকে অন্যত্র মনোনিবেশ করায় রবীন্দ্রনাথ কাজী নজরুলকে বলেছিলেন, ‘তুমি নাকি এখন তরোয়াল দিয়ে দাড়ি চাছো?’ নজরুল উত্তরে লিখেছিলেন, ‘গুরু কন আমি নাকি তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাছি...’।
রবীন্দ্রনাথের বয়স আশি বছর পূর্তি হয় ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে। তখন কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে লিখেছেন ‘অশ্রুপুষ্পাঞ্জলি’। ১৯২০ থেকে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের পূর্বকাল পর্যন্ত রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক স্নেহ ও শ্রদ্ধার। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে নজরুল যে গভীরভাবে শোকাভিভূত হয়েছিলেন তার পরিচয় রবীন্দ্রনাথের পরলোকগমনে তাত্ক্ষণিকভাবে রচিত নজরুলের বিভিন্ন কবিতা ও গানে পাওয়া যায়। এই দিন (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) কাজী নজরুল ইসলাম আকাশবাণী বেতারকেন্দ্র থেকে ধারাবর্ণনা প্রচার করেন। তিনি আবৃত্তি করেন ‘রবিহারা’ কবিতা এবং রচনা করেন ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’। এ ছাড়াও ‘সালাম অস্তরবি’ এবং ‘মৃত্যুহীন রবীন্দ্র’ নামে আরও দুটি কবিতা রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর এক বছর পরেই নজরুল চিরতরে অসুস্থ এবং ক্রমান্বয়ে সম্বিতহারা ও নির্বাক হয়ে যান। বাংলার দুই মহান কবির কণ্ঠ প্রায় একই সময়ে নীরব হয়ে যায়।
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল বাংলা ও বাঙালির দুই আদর্শ। তাঁদের মহত্ব বাঙালির গর্বের ধন। একজন আমাদের দেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা, অপরজন আমাদের ‘জাতীয় কবি’।
