সাহিত্য বিশ্ব

আপডেট : ২২ মে ২০১৪, ১৯:৫৪
রাজনীতিবিদ কবি নরেন্দ্র মোদি ভারতের নবনির্বাচিত সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন কবি। ২০১৪ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে তাঁর একটি নির্বাচিত কবিতার বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ ‘অ্যা জার্নি; পয়েম বাই নরেন্দ্র মোদি’ প্রকাশিত হয়। মোদি অনেক বছর ধরেই কবিতা লিখছেন। ২০০৭ সালে গুজরাটে প্রকাশিত তাঁর বইয়ের নাম ‘আমাদের আশীর্বাদপুষ্ট চোখ’। তখন তিনি তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গুজরাটি ভাষায় রচিত এই কবিতার বইটি আছে। আর তিনি প্রায়ই নির্বাচনী বক্তব্যে নিজের কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিতেন। সমালোচকরা বলেন—মোদির কবিতা সাহিত্যের মানদণ্ডে অটল বিহারি বাজপেয়ির তুলনায় অনেক উন্নত। বিমূর্ত চিন্তা, স্মরণীয় রাজনৈতিক সংঘর্ষের বাস্তবতা ও দেশপ্রেমনির্ভর কবিতা এতে সংযোজিত হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর কারগিল নিয়ে কবিতা পাঠ করলে যেকোনো আক্রমণাত্মক ভারতীয় যোদ্ধার মন কোমল হতে বাধ্য। কবিতার বইটির ভূমিকায় মোদি তাঁর কবিতাকে ‘চিন্তার স্রোত’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে তার বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্মিলন ঘটেছে। তাঁর কবিতার কিয়দাংশ পাঠকদের জন্য উদ্ধৃত হলো— ‘আনন্দিত হলে আমরা যেন আকাশে উঠে পড়ি/ অথবা যেন সমুদ্রের গভীর শীতলতায় ভ্রমণ করি/ আমরা যেন পাহাড় চূড়ায় উদিত সূর্যের মতো হই/ অথবা নিশ্চুপ তারার মতো জ্বলে ওঠি।’ রাশিয়ান সাহিত্যের পুনরুত্থান রাশিয়াকে একসময় সাহিত্যের সর্বোচ্চ চর্চাকেন্দ্র ভাবা হতো। এমনকি উইলিয়াম ফকনারের মতো সাহিত্যিকও বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিকদের বলতেন—দস্তয়ভস্কি, অ্যানা কারনিনাকে। আর অর্জনের দিক থেকে বিশ্বসাহিত্যে রাশিয়ার অবস্থান শীর্ষেই থাকত। কারণ তলস্তয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’, আন্তন চেখভ-এর গল্প পশ্চিমের শেকসিপয়র, মার্ক টুয়েন ও জর্জ এলিয়টের সাথে তুলনা করা হতো। সেই সাথে পুশকিন, দস্তয়েভস্কি, পস্তারনায়েক যেন তলস্তয়ের আধ্যাত্মিক শক্তির মতো পুরো বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক শাসনামলে তাদের এই সাহিত্যচর্চার পরিমণ্ডল কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে রাশিয়ান সাহিত্যের নতুন বিপ্লব যেন আবার শুরু হয়েছে নবীন ও তরুণ লেখকদের হাত ধরে। যাদের মধ্যে মিখাইল সিসস্কিন, লুইদমিলা আলিত্সকা, জাখার প্রিলেফিন উল্লেখযোগ্য। তরুণ সাহিত্যিক মিখাইলকে চেখভের মতো সাহিত্যিকদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রথম নারী হিসেবে লুইদমিলা আলিত্সকা রাশিয়ান বুকার পুরস্কার জয় করেছে কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। আর তরুণ জাখার প্রিলেফিন রচিত ‘সিন’ উপন্যাস ২০০৭ সালে প্রকাশিত হলেও ‘দ্য বুক অব দ্য ডিকেইড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় অনেক পরে এবং এর ইংরেজি অনুবাদ বাজারে আসে ২০১২ সালে। তাই সমালোচকরা মনে করেন, অনুবাদে মনোযোগী হলে রাশিয়ান সাহিত্য পুনরায় তার হূত গৌরব ফিরে পাবে। অনলাইনে ব্রিটিশ লাইব্রেরির সাহিত্যকর্ম ব্রিটিশ লাইব্রেরি তাদের শতবছরের সংরক্ষিত সাহিত্যকর্মগুলো অনলাইনে প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২৩ মে শুক্রবার লাইব্রেরির নতুন ওয়েবসাইটে ১২,০০০ বইয়ের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি, ডায়েরি, চিঠি—রোমান্টিক সাহিত্যযুগ থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ান যুগের লেখক যেমন—চার্লস ডিকেন্স ওয়াডর্সওয়ার্থ ও জন অস্টিনের সহস্তলেখা সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করবে। এর মধ্যে ১,৮২৬টি ছোটগল্পের অলঙ্করণসহ চার্লট ব্রনটের বইও প্রকাশিত হবে। আর একই সাথে উইলিয়াম ব্লেকের নোটবুক, তাঁর চিত্রকর্ম, ও রাফখাতার কবিতা ‘দ্য টিগার’, ‘দ্য চিমনি সুইপার’ও প্রকাশিত হবে। প্রকাশিত হবে জন অস্টিনের কাছে লিখিত পাঠকের মূল্যায়ন ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’কে নিয়ে চিঠি। প্রকাশিত হবে সব মূলকপি। আর তাই ব্রিটিশ লাইব্রেরির এই চমত্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বিশ্বের অনেক সাহিত্যিক। গ্রন্থনা ও অনুবাদ : শামস আরেফিন