মূলত ক্রিকেটেই খ্যাতি পাকিস্তানের এবং ফিফার বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১৫৯তম স্থানে আছে দেশটি। তাতে অবশ্য ব্রাজিল বিশ্বকাপে বল জোগানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই পাকিস্তানের। তবে খুব বেশি মানুষ এটা জানেন না যে ব্রাজিল বিশ্বকাপের বল যাচ্ছে পাকিস্তান থেকে।
দেশটি অবশ্য এই প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে বল পাঠাচ্ছে না। মাঝে মাঝেই পাকিস্তানের ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতের জন্য বিখ্যাত শহর শিয়ালকোর্ট এ কৃতিত্বের অধিকারী হয়ে থাকে। তবে এবারের ঘটনাটি ভিন্ন। বিশ্বকাপের চীনা সরবরাহকারী অ্যাডিডাস রিও ডি জেনিরোর প্রত্যাশানুযায়ী বল পাঠাতে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগে শিয়ালকোর্টের এক বল উত্পাদনকারী এগিয়ে আসে এবং অনুমোদন পায়।
পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, শিয়ালকোর্টের প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠান বল তৈরিতে এগিয়ে আসে এবং বিশ্বকাপে কাজ করার অনুমোদন পায়। এই প্রতিষ্ঠানটি জার্মান বুন্দেসলিগা, ফ্রেঞ্চ লিগ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য বল সরবরাহ করে থাকে। এর মালিক খাজা আখতার প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ইতিহাসে অংশ হতে পেরে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত।
এ সম্পর্কে আখতার বলেন, ‘২০০৬ বিশ্বকাপের সময় আমি এর আবহ বুঝতে পেরেছিলাম। তখন থেকেই আমি বিশ্বের সবচাইতে বড় টুর্নামেন্টটির বল তৈরির ব্যাপারে নিজের একটা লক্ষ্য ঠিক করে স্বপ্ন দেখছিলাম। আমার চারদিকে লোকজন চিত্কার করছিল। আমি স্রেফ ভেবেছিলাম, এটাই আসল ব্যাপার। আমিও দর্শকদের অংশ ছিলাম। আমার আগে কখনো এই অনুভূতি হয়নি।’
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর শিয়ালকোর্ট ছিল একসময় বিশ্বের বল উত্পাদনকারীদের রাজধানী। সেটা হলো নব্বইয়ের দশকের আগের ঘটনা। তখন তারা বছরে তিন কোটি বল রপ্তানি করতো। ধারণা করা হতো, এটা ছিল সারা বিশ্বের উত্পাদিত বলের ৪০ শতাংশ। তবে চীন ও ভারত সম্প্রতি এতে ভাগ বসিয়েছে।
ব্রাজিল গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের সর্বশেষ ফুটবল বল ‘ব্রাজুকা’ উন্মোচন করে। ফিফা বিশ্বকাপের ওয়েবসাইটে ব্রাজুকার ছবি প্রকাশ করা হয়। নতুন নকশার এই বলটিতে নতুন প্যানেল সিস্টেম রয়েছে। ছয়টি আলাদা অংশ মিলিয়ে বলটির বাহিরের সিনথেটিক অংশ গড়ে উঠেছে। আর্দ্রতা নিরোধক ব্যবস্থাও রয়েছে এতে।
ব্রাজিলে ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া এবারের মাসব্যাপী বিশ্বকাপে ৩০০০ ব্রাজুকা বল ব্যবহূত হবে। যদিও অ্যাডিডাস ও অন্যান্য কোম্পানি মিলে সারা দুনিয়ায় লাখ লাখ বল তৈরি করে থাকে। তবে পাকিস্তানী এই কোম্পানি এবার বিভিন্ন মানের ২০ লাখ ব্রাজুকা বল বানাবে। বাসস
