২০ লাখ অসম্পূর্ণ ভোটার নিবন্ধন ফরম দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই বৃহত্ কর্মযজ্ঞে তাড়াহুড়ো করে অসমপূর্ণ ভোটার নিবন্ধন ফরম উপজেলাগুলোতে প্রেরণ করায় বিপাকে পড়েছে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীরা। এ পরিস্থিতিতে প্রথম ধাপের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরো ৪ দিন বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীদের হাতে লিখে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ২০১২ সালের ভোটার নিবন্ধন ফরম সংশোধন করে নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরম করতে গিয়ে একটি লাইন বাদ পড়েছে। নিবন্ধন ফরমে পাড়া-মহল্লা বাদ পড়ায় তথ্য সংগ্রহকারীদের হাতে লিখে সংশ্লিষ্ট তথ্য নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে বিষয়টি সংশোধন করা হবে।
সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শুরু হয়। এরপর ২০০৯ ও ২০১২ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে ইসি। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন ১৫ মে থেকে তিন ধাপে দেশের সবকটি থানা ও উপজেলায় ভোটার নিবন্ধন কাজ শুরুর ঘোষণা দেয়। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার আগে ভোটার তালিকা নিবন্ধন বিধিমালায় কয়েকটি সংশোধনীর প্রস্তাব আনে। এ সংক্রান্ত ফাইল আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে মন্ত্রণালয় বিধিগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা দাবি করে পুনরায় ফাইলটি কমিশনে ফেরত পাঠায়। পরে নিবন্ধন শুরুর মাত্র ২ দিন আগে বিষয়টি সুরাহা হয়। ফলে মাত্র ১ দিনে নিবন্ধন ফরম মুদ্রণ করে তা উপজেলা গুলোতে প্রেরণ করতে হিমশিম খায় কমিশন। আর্মি প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রথম ধাপের জন্য ২০ লাখ ভোটার নিবন্ধন ফরম ছাপানো হয়। দ্রুত ফরম ছাপিয়ে প্রেরণ করতে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন ফরমের ২নং এর ২৪ নম্বর ক্রমিকে ভোটারদের ঠিকানার জায়গায় মৌজা, গ্রাম/মহল্লা/রাস্তার নম্বর লেখার জায়গা ছাড়াই নিবন্ধন ফরম ছাপানো হয়।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী কয়েকজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ভোটার তালিকা নিবন্ধন ফরমে ভোটারের মৌজা নম্বর, গ্রাম, মহল্লা বা রাস্তার নাম ও নম্বর লেখার জন্য কোনো কলাম রাখা হয়নি। এতে ভোটারদের ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে সমস্যা হচ্ছে। এতো অল্প সময়ে ভোটাদের তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন।
প্রথম ধাপে ১৮১ উপজেলায় গত ১৫ মে থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহ চলার কথা ২৪ মে পর্যন্ত। ২৬ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধন কেন্দ্রে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কিন্তু অস্পূর্ণ ভোটার নিবন্ধন ফরম নিয়ে তথ্য সংগ্রহকারীরা বিপাকে পড়ায় সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ জন্য ২৪মের পরিবর্তে আগামী ২৮মে পর্যন্ত প্রথম ধাপে ভোটারের তথ্যসংগ্রহ করা হবে। তবে কমিশন বলছে, প্রচারণার ঘাটতি থাকায় ৪ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মাদারীপুর সদর ও শেরপুরের নকলা উপজেলার ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম তৃতীয় ধাপে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় ধাপে এখন ২১৭ উপজেলায় ১৫ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ আর ১৮ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। শেষ ধাপে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৫ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। নিবন্ধন করা হবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। সারাদেশে এবার ৪৬ লাখ নতুন ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার টার্গেট করা হয়েছে। তিন ধাপের প্রতি ধাপে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার জন ভোটারকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। যাদের বয়স ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ১৮ বছর পূর্ণ হবে তারাই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন।
ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়সূচিসহ যে কোন তথ্য অফিস চলাকালীন ফোন করে জানা যাবে। গতকাল কমিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিভাগের জন্য ০১৭৬২৬৮২৩৬১, চট্টগ্রাম ও সিলেট ০১৭৬২৬৮২৩৬২, খুলনা ও বরিশাল ০১৭৬২৬৮২৩৬৩, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জন্য ০১৭৬২৬৮২৩৬৭ নম্বরে ফোন করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন ভোটারযোগ্যরা।
