বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক ও রেলপথে দৈনন্দিন যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কাস্টমের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও এর রয়েছে নানান সমস্যা ও সঙ্কট। যাত্রীদের এখানে নিত্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বাংলাদেশের জয়নগর নামক স্থানে প্রতিষ্ঠিত এই কাস্টমস ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটি দর্শনা পৌর শহর থেকে সড়কপথে ৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। বর্তমানে প্রতিদিন এই চেকপোস্ট হয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন যাত্রী বাংলাদেশ ও ভারতে যাতায়াত করে থাকে। দর্শনা চেকপোস্ট প্রাঙ্গণ অথবা আশপাশ এলাকায় কোন ব্যাংক বুথ না থাকায় ভ্রমণকারীদের ৫ কিমি দূরবর্তী দর্শনায় গিয়ে ভ্রমণকর পরিশোধ করতে হয়। যা ভ্রমণকারীদের জন্য দুঃসহ দুর্ভোগের কারণ। বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে রেল ও সড়কপথে দর্শনায় পৌঁছানোর সুব্যবস্থা থাকলেও দর্শনা থেকে মাত্র ৫ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে চেকপোস্টে পৌঁছানো দুরূহ, কষ্টসাধ্য ও বিড়ম্বনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দর্শনা শহর থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত রাস্তায় কোন পরিবহন সার্ভিসের ব্যবস্থা নেই। ভাড়ায় মাইক্রোবাস অথবা কার সুবিধা মিললেও ভ্রমণকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য যাত্রীপ্রতি ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা ভাড়ার ভ্যান-রিক্সাই একমাত্র মাধ্যম।
স্বাধীনতার পর সীমান্ত সংলগ্ন এই জয়নগর নামক স্থানে কাস্টম বিভাগ নির্মিত সীমিত পরিসরের একতলা এই ভবনটিতে দর্শনা চেকপোস্টের কার্যক্রম শুরু হয়ে আজ অবধি চলমান রয়েছে। চেকপোস্ট সংলগ্ন ও আশপাশ এলাকায় কোন আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট না থাকায় ভ্রমণকারী যাত্রী সাধারণের বিশ্রাম গ্রহণ ও পান-আহারের ক্ষেত্রে খুবই দুর্ভোগে পড়তে হয়। চেকপোস্ট প্রাঙ্গণে কাস্টম অথবা ইমিগ্রেশন বিভাগের কোন বাথরুম না থাকায় প্রকৃতির ডাকে ভ্রমণকারী ভুক্তভোগী যাত্রীদেরকে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। স্থানীয় পৌরসভা কাস্টম চেকপোস্টে সাধারণ দু’টি বাথরুমের ব্যবস্থা করে দিলেও নোংরা ও ময়লা-দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার উপযোগী থাকে না। মালামাল ও ব্যাগ চেকিং, পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ শত শত যাত্রীকে চেকপোস্ট প্রাঙ্গণে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চেকপোস্ট প্রাঙ্গণে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার জন্য বিশ্রামাগার অথবা কোন বেঞ্চের ব্যবস্থা নেই। কাস্টম বিভাগের অতি পুরাতন ও জরাজীর্ণ সীমিত আয়তনের ঐ ভবনটিতে দৈনন্দিন চেকপোস্টের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে। ঐ ভবনের ৮ ফুট বাই ৭ ফুট আয়তনবিশিষ্ট একটি কক্ষে ২ জন কর্মকর্তাসহ ৮/১০ জন ইমিগ্রেশন স্টাফ ঠাসাঠাসি বসে যাত্রীদের পাসপোর্ট চেকিংয়ের কাজ সম্পাদন করে থাকেন। ২২ বছর আগে দর্শনা চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ভবন ও স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণের জন্য বর্তমান কাস্টম চেকপোস্ট ভবন সংলগ্ন এলাকায় ৪০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও আজ অবধি অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তির অভাবে অনুমোদন প্রাপ্ত ভবনটি নির্মিত হয়নি। এই চেকপোস্ট হয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রমণকারী যাত্রীদের নিত্যদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকারী ২ জন স্টাফ নিয়োজিত আছেন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষাকারী ঐ ২ জন স্টাফ চেকপোস্টের কাস্টম ভবনের বারান্দার বেঞ্চে বসেই যাত্রী সাধারণের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। যাত্রী সাধারণের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চেকপোস্টটিতে পরীক্ষাকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের নিকট কোন বিপি মেশিন সরবরাহ করা হয়নি। যাত্রীদের ব্যাগ-ব্যাগেজ ও মালামাল চেক করার জন্য কাস্টম পরিদর্শকদেরকে আজ পর্যন্ত কোন স্ক্যানিং মেশিন সরবরাহ করা হয়নি। অধিকাংশ সময়ে চেকিংরত কাস্টম পরিদর্শকের সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়ে থাকে।
