নিষ্পত্তির ফাইল লাপাত্তা

আপডেট : ২২ মে ২০১৪, ২৩:২১
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও নির্বাচনের অনিশ্চয়তা কাটছে না। কারণ সংশ্লিষ্ট ফাইল (নথি) কোথায় তা কেউ জানে না। কেউ বলছেন সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের তৈরি করা নথি আটকে আছে আইন মন্ত্রণালয়ে, আর কেউ বলছেন, এটি রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ফাইলটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত শাখা থেকে ইত্তেফাককে বলা হয়েছে, তারা ফাইলটি গত জানুয়ারি মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ফেরত দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এমন কোনো নথি তাদের নজরেই আসেনি। সর্বশেষ গত বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন জানান, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন করা না করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে গতকাল তিনিও বলতে পারলেন না ফাইলটি কোথায়। উল্লেখ করা যেতে পারে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী সীমানা বিরোধ না থাকলে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন করার দিকেই যেতে হবে। কিন্তু তার আগে শুধু ‘বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে’—এই কথাটুকু ইসিকে জানিয়ে দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৩ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঢাকার জেলা প্রশাসককে প্রধান সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা এবং উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) সহকারী সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করে। গত জানুয়ারি মাসে বিরোধ নিষ্পত্তি করে ওই কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত নথি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান। নিয়ম অনুযায়ী এই নথি বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেয়ার কথা। এই মতামত নিতেই নাকি ফাইল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা আর আসেনি-এই দাবি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। যদিও তা অস্বীকার করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর পুরনো ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভেঙ্গে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণ নামে দুটি সিটি করপোরেশন করা হয়। তখন থেকে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ দুটি সংস্থার নির্বাচন করা যায়নি। যদিও স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তর জনপ্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হওয়ার উচ্চ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। নির্বাচনের বিধান রয়েছে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনেও। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) ২০০৯ সালের আইন সংশোধন করে ঢাকায় দুটি সিটি করপোরেশন করা হয়। আর এই আইনের নির্ধারিত বিধান মতে, পদ হারান মেয়র খোকাসহ অন্য কাউন্সিলররা। এই আইনের ২৫(১) ধারার বিধান অনুযায়ী প্রশাসক নিযুক্ত হন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত পদস্থ কর্মকর্তারা। আইনের ২৫-১(খ) ধারায় প্রশাসকের মেয়াদ প্রথমে ৯০ দিন করা হয় পরে আইনে আবার সংশোধনী এনে তা ১৮০ দিন করা হয়। এভাবেই গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রশাসক অদল-বদল করে চলছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ২০১২ সালের ২৪ মে দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও আদালতের নির্দেশে আটকে যায় নির্বাচন। ২০১৩ সালের ১৩ মে আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলেও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে অপারগতা প্রকাশ করে। ইসি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চিঠিও দেয়।