দ্বিপাক্ষিক ও বহুজাতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রধান লক্ষ্য থাকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো। এতে চুক্তিবদ্ধ প্রতিটি দেশই উপকৃত হওয়ার সুযোগ থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেশগুলো সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। ২৭টি ইউরোপীয় দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে নিয়ে গড়া নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (নাফটা), দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসোর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের জোট আশিয়ান প্রভৃতি সফল বাণিজ্য চুক্তির উদাহরণ। চুক্তিভুক্ত এসব দেশ নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা করে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা একে অপরের সামর্থ্য ও সম্পদ আদান-প্রদানের মাধ্যমে এ সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও জোরদার করছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সাফল্যের বেশকিছু উদাহরণ আছে। যেমন, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি। ৩০ বছর আগে করা এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৮ শতাংশ করে বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এ চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগও বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া এখন নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ গন্তব্য। শুধু তাই নয়, এ সম্পর্কের ফলে উভয় দেশের প্রযুক্তি, প্রতিযোগিতা-সামর্থ্য, দেশীয় শিল্প কাঠামো প্রভৃতিতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তেমনিভাবে যুক্তরাষ্ট্র-সিঙ্গাপুর, চীন-পেরু প্রভৃতি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দেশগুলোর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ব্যাপক অবদান রাখছে। ফলে বিশ্বে এখন প্রায় আড়াইশ’র বেশি বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্রও আছে। দক্ষিণ এশিয়ার জোট সার্ক এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সার্ক সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে ১৯৯৩ সালে। আর সার্ক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হয়েছে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি। কিন্তু পারস্পরিক আস্থাহীনতা ও সামর্থ্যে বৈচিত্র্য না থাকায় আন্তঃসার্ক বাণিজ্য আজও সার্কের মোট বাণিজ্যের ৫ শতাংশের বেশি হয়নি। আন্তঃসার্ক বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও খারাপ।
বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ কূটনীতিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সেজন্যই তারা বিশ্বের সর্ববৃহত্ অর্থনীতি। আর তাদের প্রধান লক্ষ্য ব্যাপক সম্ভাবনাময় এশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়াদে পাঁচবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর করেছেন। এসব সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সম্ভাবনাময় এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো। এক দশক আগেও এমনটি ভাবা যেত না। গত এক দশক ধরে এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশই ভাল প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। আইএমএফ বলেছে, এশিয়া হচ্ছে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন। যার গতি দিনদিনই বাড়ছে। বিশ্বমন্দার সময়ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এশিয়া প্রমাণ করেছে যে তারা দুর্বার। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বিশ্ব অর্থনীতির এই পাওয়ারহাউস যে হারে এগোচ্ছে তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার মোট জিডিপি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র সম্মিলিত জিডিপি’র চেয়ে বড় হবে। তখন বিশ্ব জিডিপি’র ৪০ শতাংশের বেশি হবে এশিয়াতে। যা বর্তমানে ৩০ শতাংশ। আর তাই এশিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অর্থনীতিগুলো তাদের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। এশিয়ার প্রায় সব দেশের সাথেই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ চুক্তি আছে। তারপরও তারা কখনো চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করে, কখনো তাদেরকে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে রেখে এশিয়ায় নতুন নতুন চুক্তি করছে। এরই অংশ হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারি চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাপানসহ ১২টি দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতি মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুর, আছে ওসেনিয়া জোনের অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং উত্তর ও ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের কানাডা, মেক্সিকো, পেরু ও চিলি। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ন্যাফটাভুক্ত জোটের বাণিজ্য এশিয়া অঞ্চলে আরও বাড়ানো এবং জাপানকে এর সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এশিয়ায় চীনের একচেটিয়া বাণিজ্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়া। এদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনও বসে নেই। দেশটি আশিয়ান, চিলি, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সাথে সমানতালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়িয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই প্রেসিডেন্ট ওবামা গত মাসে জাপান সফর করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ট্রান্স-প্যাসিফিক চুক্তি সম্পাদনের চেয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ সফর থেকে তেমন সুবিধা আদায় করতে না পারলেও অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক প্রয়োজনেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে বার বার এশিয়ায় আসতে হবে। এজন্যই আশিয়ান+৬ এবং ইস্ট এশিয়া সামিটে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে।
জাপান তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। বাজেটে সহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার সাথে সাথে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ চুক্তি করা প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সরকারের তৃতীয় লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে জাপান আশিয়ান, সুইজারল্যান্ড, পেরু, মেক্সিকো, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। সংস্কারকে টেকসই করার লক্ষ্যে জাপান-চীন-দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বছরই ইইউ’র সাথে চুক্তি হতে পারে। ইইউ এবং জাপান মিলে বিশ্ব জিডিপি’র এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্জন করে। জাপান ইইউ’র সপ্তম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। গত বছর ইইউ পণ্য রপ্তানি করে জাপান থেকে প্রায় ৫২ বিলিয়ন ইয়োরো অর্জন করেছে। অপরদিকে ইইউ জাপানের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। দেশটি গত বছর ৫৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য ইইউতে রপ্তানি করেছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইইউকে প্রাধান্য দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক অটুট রাখতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে শিনজো আবে প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক। ফলে জাপান ও চীনের মধ্যে ইস্ট চায়না সি তে দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধে চীনকে সংযত রাখতে জাপান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে। সাউথ চায়না সি তে সীমানা বিতর্কে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনসের সাথে মাঝে-মধ্যেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে চীন। এ বিশাল জলরাশিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সব প্রতিপক্ষকে সমর্থন করছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপক বাণিজ্য সম্ভাবনা থাকায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকা অঞ্চলই নয়, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়াসহ সব অঞ্চলের দেশগুলোই এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ব্যবসার প্রয়োজনে একসময়ের শত্রুকেও মিত্রে পরিণত করছে। শত্রু-মিত্র চেনার ব্যাপারে বাংলাদেশ বরাবরই অনাগ্রহী। বাণিজ্য-স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনীতিকে ব্যবহার করার ব্যাপারেও উদাসীন। সম্ভাবনাময় দেশগুলোর প্রতি নমনীয় নীতি গ্রহণ এবং মানসিক দ্বন্দ্বকে পিছনে ফেলে ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। তাই সম্ভাবনাময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথেই বাংলাদেশের রপ্তানি সম্পর্ক সবচেয়ে দুর্বল। অথচ আমদানির ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোই বাংলাদেশের প্রধান উত্স। শীর্ষ আমদানি উত্স চীন। আর জাপান হচ্ছে পঞ্চম বৃহত্তম আমদানি উত্স। মাঝে আছে ভারত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। এশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানো এবং এশিয়ার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দেশ হচ্ছে চীন ও জাপান। সারণী-১ এ দেশ দুটির সাথে আমদানি-রপ্তানির চিত্র দেখানো হয়েছে।
সারণী-১ থেকে দেখা যায়, বিগত পাঁচ বছর ধরে জাপান ও চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ক্রমাগত বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে জাপানে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে বলে আশা করা যাচ্ছে। যা খুবই আশাব্যঞ্জক। চীনে রপ্তানি সে হারে বাড়ছে না। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন থেকে আমদানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সারণী-২ অনুযায়ী ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। চলতি অর্থবছর তা ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশের সাথে কোনো দেশের দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। সার্ক, বিমসটেক, আটটি মুসলিম দেশের জোট ডিভালাপিং-এইট প্রভৃতি বহুপাক্ষিক বাণিজ্য জোট থাকলেও এসব চুক্তি থেকে বাংলাদেশ তেমন কোনো সাফল্য ঘরে তুলতে পারেনি। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল তাও শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে। ইইউ ছাড়া আর সব উন্নত ও অধিক উন্নয়নশীল দেশই শর্তসাপেক্ষে কিছু সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ আছে। তবে এসব অঙ্গীকার ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক অনেক। অশুল্কগত বাধাই মূল নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে। এসব বাধা অপসারণ করতে হলে দেশভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জাপান ও চীনে প্রধানত তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়। এসব পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর সাথে সাথে নতুন নতুন পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ আছে। উভয় দেশই কিছু শর্তসাপেক্ষে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা সীমিত পরিসরে ভোগ করতে শুরু করেছে। এই সুযোগ ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে আদায় করতে হলে বাংলাদেশকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে। রপ্তানি-সামর্থ্য বাড়াতে হবে। পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। ঘোষিত বাণিজ্য সুবিধা ভোগে অন্তরায়গুলো জানতে হবে। কী কারণে আরও বেশি বিনিয়োগ আসছে না তা বুঝতে হবে। এজন্য যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাদের নীতি-কাঠামোর সাথে পরিচিত হতে হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিদল বিনিময় করতে হবে যাতে একে অপরকে চিনতে ও বুঝতে পারে। সরকারি উদ্যোগও শাণিত করতে হবে। যৌথভাবে কাজ করতে হবে। সার্বক্ষণিক গবেষণা করতে হবে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এমনি প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ দুটিতে সরকারি সফরে যাচ্ছেন। সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি তিনি জাপানী ও চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সাথেও মত বিনিময় করবেন। বাংলাদেশের সামর্থ্যের কথা তুলে ধরবেন। তাদেরকে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন। এতে দেশ দুটির সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্কের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে, এমনটাই আশা করে দেশবাসী।
সারণী-১: জাপান ও চীনের সাথে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি-রপ্তানি চিত্র (মিলিয়ন ডলারে)
অর্থবছর ২০০৯-১০ ২০১০-১১ ২০১১-১২ ২০১২-১৩ ২০১৩-১৪ (জু.-ডি.)
বাণিজ্য আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি
জাপান ১০৪৭ ৩৩১ ১৩০৮ ৪৩৪ ১৪৫৬ ৬০১ ১১৮০ ৭৫০ ৬১৫ ৪৪৫
চীন ৩৮১৯ ১৭৯ ৫৯১৮ ৩২০ ৬৪৫৫ ৪০২ ৬৩২৪ ৪৫৮ ৩৭৬৫ ৩২৯
সারণী-২: বাংলাদেশের সাথে জাপান ও চীনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের শতকরা হার (%)
অর্থবছর ২০০৯-১০ ২০১০-১১ ২০১১-১২ ২০১২-১৩ ২০১৩-১৪ (জু.-ডি.)
বাণিজ্য আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি আমদানি রপ্তানি
জাপান ৪.৪ ২.০ ৩.৯ ১.৪ ৪.১ ১.৭ ৩.৫ ১.৭ ৩.৩ ২.২
চীন ১৬.১ ১.১ ১৭.৬ ১.৯ ১৮.২ ২.৫ ১৮.৬ ২.৮ ২০.২ ৩.০
