খরায় চিংড়ি চাষিদের ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট : ২৩ মে ২০১৪, ২১:০৫
বৈরি আবহাওয়ার কারণে খুলনার অন্তত ২০ হাজার বাগদা চিংড়ি চাষি দারুণ দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। দক্ষিণ উপকূলীয় এই জনপদে প্রায় তিন মাস ধরে টানা খরা চলছে। এ কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে চিংড়ির (বাগদা ও বাগদা জাতীয়) শারীরিক বৃদ্ধি হচ্ছে না। জেলায় প্রায় ৩শ’ হেক্টর জমির চিংড়িতে কমবেশি মড়ক লেগেছে। খামারে চিংড়ির প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণও কমে গেছে। গত বছর এই সময় বাগদা চিংড়ি বাজারজাত করা শুরু হয়েছিল। কিন্তু নানাবিধ কারণে এ মৌসুমে স্বাভাবিক উত্পাদন বিঘ্নিত হওয়ায় বাগদা বাজারজাত করা এখনো শুরু হয়নি। বৈরি আবহাওয়ার কবলে পড়ে ইতিমধ্যে চাষিদের অন্তত ৮০ কোটি টাকার উত্পাদন ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানান, এ বছরের শুরুতে ৯ ফেব্রুয়ারি জেলায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর মাঝে এপ্রিল ও মে মাসে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অতিসামান্য বৃষ্টিতে খরার ধকল কাটেনি। খুলনা এলাকায় সর্বনিম্ন ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি থেকে সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা উঠানামা করে। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার সরকার জানান, খরতাপে খামারে পানি কমে যাওয়ায় চিংড়ির বৃদ্ধি ও উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ঘেরে মড়ক দেখা দিচ্ছে। টানা খরায় তাপমাত্রা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মাসে ৩২-৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ায় লবণাক্ততা বাড়ছে। বর্তমানে পাইকগাছা উপজেলায় ২২ এবং কয়রা উপজেলার পানিতে ৩০-৩৫ পিপিটি লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। বাগদা চিংড়ি সাধারণত ২৫ পিপিটি পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। কয়রা উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা রণধীর সরকার জানান, উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী, বাগালী, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়ছে। মে মাসে এই উপজেলার লবণাক্ততার পরিমাণ ছিল গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ পিপিটি। উপজেলার প্রায় ২শ’ একর চিংড়ি ঘেরে ইতিমধ্যে মড়ক লেগেছে। উপজেলার ৪ হাজার ২শ’ চাষি ৬ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে চলতি মওসুমে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্য মে পর্যন্ত তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কমপক্ষে ৮০ কোটি টাকার চিংড়ি উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে বলে চাষিদের দেয়া হিসাব থেকে জানা গেছে। মৌসুমের শুরুতেই বাগদা চাষিরা যে ক্ষতির মুখে পড়লো তা কাটিয়ে ওঠা মুশকিল হবে বলে ভুক্তভোগীদের অভিমত। গত বছর এই উপজেলায় ১ হাজার ৯শ’ মেট্রিকটন বাগদা উত্পাদন হয়েছিল। ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রি জানান, শোভনা, আটলিয়া ও মাগুরখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘেরের পানি কমে যাওয়ায় বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। এ উপজেলার ২৫ একর জমির চিংড়িতে কমবেশি মড়ক লেগেছে। পাইকগাছা উপজেলার খিরল গ্রামের চাষি আহম্মদ আলী সরদার জানান, তিনি ১০ ও ১৫ বিঘা জমির ওপর দু’টি পৃথক প্লটে দু’ মাস আগে চিংড়ির পোনা ছেড়েছিলেন। এদিকে জেলায় চিংড়ি চাষের পরিমাণ কমে আসছে। পুঁজির অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোনা সংকটের কারণে মূলত এবার চিংড়ি চাষের পরিধি কমেছে বলে চাষিরা জানায়।