রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধযন্ত্র বসিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। গতকাল বেলা ১১টায় পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার রাজধানীর হেয়ার রোডে পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষ এ যন্ত্রটি বসিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, শুধু ট্রাফিক আইন কার্যকরী করার জন্য নয়, সড়ক দুর্ঘটনারোধ ও জনগণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা নগরীর সবকটি প্রধান সড়কে বসানো হবে। তবে জরুরি অবস্থা ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রচণ্ড যানজটে আটকে পড়া অনেক চালক দুর্ভোগ থেকে পার পেতে বিকল্পপথ খোঁজেন। বেছে নেন উল্টোপথ। এতে দুর্ঘটনা যেমন ঘটে, তেমনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগকেও হিমশিম খেতে হয়। ‘প্রতিরোধ’ নামে আধুনিক এই যন্ত্রে রয়েছে ধারালো ধাতব কাঁটা, যা উল্টোদিক দিয়ে প্রবেশ করা গাড়ির চাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুটো করে দেবে।
ডিএমপি’র ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-কমিশনার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর রমনা পার্কের পাশে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে একটি ভিভাইস বসানো হয়েছে। এক মাস প্রচারপত্র বিলি করে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা চালানো হবে। ডিভাইসটি সফলভাবে কাজ করলে সিটি করপোরেশনের সহায়তায় শহরের অন্যান্য সড়কেও তা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেউ গাড়ি থেকে নেমে প্রতিরোধকের কাঁটাগুলো নামানোর চেষ্টা করলেও সফল হবে না। বৃষ্টির পানিতে বা ধুলোয় কাঁটাগুলোতে মরচেও পড়বে না। কাঁটাগুলো কখনও অকেজো হবে না।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে জাপানি এসএস স্টিল ও কতগুলো স্প্রিংয়ের সমন্বয়ে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার জাহান-ই-আলম জানান, একটি ডিভাইস তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। সময় লাগে ৩০-৪০ দিনের মতো। আর এটি রাস্তায় স্থাপন করতে সময় লাগে তিন দিন।
যেভাবে কাজ করে ডিভাইসটি : প্রতিরোধ ডিভাইসটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা উল্টোদিক থেকে আসা গাড়ি ডিভাইসের ওপর চাপ দিলেই ডিভাইসের ধারালো কাঁটার সূচালো মাথা চাকার ভেতর ঢুকে টায়ার ও টিউব অকেজো করে দেবে। এমনটি ঘটলে চাকা ফুটো হওয়া গাড়ি নিয়ে রাজপথেই বসে থাকতে হবে চালককে। এসময় সার্জেন্ট এসে চালকের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করবেন। প্রতিরোধ যন্ত্রের প্রতিটি কাঁটা আলাদা আলাদাভাবে বসানো হয়েছে। প্রতিটি কাঁটাকে নিচু করতে ৮ থেকে ১০ কেজি চাপের প্রয়োজন হবে। প্রতিরোধক যন্ত্রে ৪৫ মিলিমিটার পর পর বসানো কাঁটাগুলো সব সময় রাস্তায় তিন ইঞ্চি উঁচু হয়ে থাকবে। প্রতিরোধক এই যন্ত্রটি রাস্তার ওপর গতিরোধকের মতো কাজ করবে। প্রাথমিক ধাপে এ প্রতিরোধ ডিভাইস হোটেল রূপসী বাংলা থেকে কাকরাইল মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় রমনা পার্কের অরুণোদয় গেটের উল্টোদিকে ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার পর এবং যমুনার সামনে (বর্তমানে ফরেন সার্ভিস একাডেমি) বসানো হয়েছে।
