টানা ৭২ ঘন্টা জ্বলার পর শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে লাগা আগুন নিভে গেছে। বুধবার বিকালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ও আমুরবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের মাঝামাঝি ছিলা এলাকার গহীন অরণ্যে আগুন লাগে। এদিকে আগুন লাগার ঘটনায় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনও তাদের কাজ শুরু করেনি। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার ২/১ দিনের মধ্যে এ কমিটি কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে। এছাড়া এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে শরণখোলা থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থাকা মোরেলগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক ফোনে জানান, আগুনে সুন্দরবনের ৮/৯ একর বন পুড়ে গেছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) আমীর হোসাইন চৌধুরী মোবাইল ফোনে বলেন, আগুনে বনের ঐ এলাকায় কিছু বলাগাছ জাতীয় গুল্ম পুড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, আগুন নিভে যাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও বনবিভাগের অভিযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় বনপ্রহরীদের সতর্কতাবস্থায় রাখা হয়েছে।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বনভূমির উত্তর ও উত্তর পূর্বাংশে কিছু নিচু এলাকায় প্রায় প্রতি বছর বসন্তের শেষে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে তীব্র বাতাস ও তাপদাহের সময় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এসব নিচু এলাকায় বর্ষার পানি জমে, শীতকালে শুকিয়ে যায়। সারা বছর গাছের পাতা ঝরে পানিতে পড়ে আধা পচা পাতার স্তর তৈরি হয়। শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে ঝরা পাতার এই স্তরের ভাঁজে মিথেন গ্যাস জমে যাতে সহজেই আগুন ধরে যায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দরবন ও উড টেকনলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহামুদ হোসেন জানান, যে কোন ধরনের আগুন সুন্দরবনের জন্য ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বনে আগুন লাগলে দ্রুত ওই আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। বনের যে এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে ওই এলাকায় জোয়ার-ভাটা না থাকলে নতুন করে ম্যানগ্রোভ জম্মাতে সময় লেগে যাবে।
আগুনে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ একর বনভূমির সুন্দরীসহ বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ পুড়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আগুন নিভানোর কাজে নিয়োজিত মোড়েলগঞ্জ দমকল স্টেশন কর্মকর্তা আরিফুল হক। বনের ওই অংশে বন্যপ্রাণীর চলাচল তেমন না থাকায় বন্যপ্রাণীর কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বহু কীটপতঙ্গ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
