মানুষের মানবাধিকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
সি এম মিরাজুল ইসলাম
প্রভাষক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
মানবাধিকার
প্রশ্ন-ক: মানবাধিকার কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অধিকারগুলোকে মানবাধিকার বলে। যেমন– স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও মতামত প্রকাশের অধিকার।
প্রশ্ন-খ: মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা লেখ।
উত্তর: মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অধিকারগুলোকে মানবাধিকার বলে। মানব জীবনে মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তাগুলি হচ্ছে–
মানুষের জীবনকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে মানবাধিকারগুলো সাহায্য করে।
মানবাধিকার মানুষকে লেখাপড়া শিখে যোগ্যতা ও মর্যাদার সাথে সমাজে বসবাসের সুযোগ করে দেয়।
মানবাধিকার মানুষের ভালো গুণগুলোকে বিকশিত হতে সাহায্য করে।
মানবাধিকার বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সমপ্রীতি তৈরিতে সহায়তা করে।
মানবাধিকার সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে থাকে।
সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
প্রশ্ন-গ: নারী ও শিশু পাচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন কেন?
উত্তর: আমাদের দেশ থেকে প্রায়ই নারী ও শিশুদের বিদেশে পাচার করা হয়। ছোট ছেলে শিশুদের পাচার করে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদেরকে উটের দৌঁড় প্রতিযোগিতার জকি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কাজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
নারী ও শিশু পাচার বন্ধের প্রয়োজনীয়তা: নারী ও শিশু পাচার বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ–
নারী ও শিশু পাচার জঘন্যতম মানবধিকার বিরোধী কাজ।
অনেক ছোট শিশু কাজ করতে গিয়ে পঙ্গু হয় এবং মারাও যায়।
মেয়ে শিশু ও নারীদের বিদেশে কাজের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়।
শিশু ও নারীদের অনেক সময় অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়।
শিশু ও নারীদের শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা হয়।
উপরোক্ত কারণে নারী ও শিশু পাচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
প্রশ্ন-ঘ: আমরা বাড়িতে কীভাবে মানবাধিকার চর্চা করতে পারি?
উত্তর: মানুষের মানবাধিকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাজ থেকে আমরা মানবাধিকার পেয়ে থাকি। মানবাধিকার চর্চার প্রথম স্তর হচ্ছে পরিবার।
বাড়িতে মানবাধিকার চর্চার উপায়: বাড়িতে মানবাধিকার চর্চার উপায়গুলি হচ্ছে–
বাড়িতে কেউ যদি মানবাধিকার বিরোধী কোন কাজ করে, তাকে এ বিষয়ে সচেতন করব। প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করব।
আমরা বড়দের সম্মান করব এবং ছোটদের স্নেহ করব।
আমরা বাড়িতে কাউকে নির্যাতন ও অত্যাচার করব না।
অন্যের অধিকার নষ্ট হয় এ ধরনের কোনো কাজ করব না।
বাড়ির কাজের লোকদের প্রয়োজনীয় খাবার, পোশাক ও চিকিত্সা দিব।
বাড়িতে মানবাধিকার চর্চার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
