দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি আংশিক বেকারত্ব, যুব বেকারত্ব ও মোট শ্রমশক্তিতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাসের হার কমে যাওয়ার প্রবণতা মোকাবেলার জন্য শ্রম নিবিড় উত্পাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এসব কথা বলা হয়েছে।
২০০০ থেকে ২০১০ সালের বার্ষিক বেকারত্ব বৃদ্ধির গড় হার ৫ দশমিক ২৯ শতাংশকে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি প্রক্ষেপণ করছে যে, বেকারত্ব কমাতে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়া হলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা ৩৩ লাখ হতে পারে। সর্বশেষ শ্রম জরিপ অনুযায়ী ২০০০ সালের ১৭ লক্ষ বেকার থেকে ২০১০ সালে বেকার জনসংখ্যা বেড়ে ২৬ লক্ষে দাঁড়ায়। এদিকে জরিপ অনুযায়ী ২০১০ সালে ১ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার লোক আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করে। এই সংখ্যা মোট কর্মজীবী শ্রমশক্তির ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। আংশিক কর্মসংস্থান বলতে কোন ব্যক্তি যদি সপ্তাহে ৩৫ ঘন্টার কম কাজ করে তাকে আংশিক কর্মসংস্থান বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ও নারী শ্রমিকদের মাঝে আংশিক কর্মসংস্থানের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গ্রামাঞ্চলে আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারীর সংখ্যা মোট শ্রমশক্তির ২২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এই জনসংখ্যার পরিমাণ ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। মোট আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী ৪৭ শতাংশই নারী শ্রমিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সালে যেখানে অনানুষ্ঠানিক খাতে মোট ২ কোটি ৯৩ লাখ কর্মজীবী ছিল, তা গড়ে বার্ষিক ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১০ সালে ৪ কোটি ৭৩ লাখে উপনীত হয়েছে। ২০১০ সালে মোট বেকার জনসংখ্যার ৬১.৫৪ শতাংশ যুব শ্রমশক্তি। বেকারত্ব বৃদ্ধির এই প্রবণতার সাথে কম মজুরির কারণে দেশে দারিদ্র্যের প্রবণতা বৃদ্ধি করে বলে মত প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য হ্রাসের হার ২০০০-২০০৫ এর তুলনায় ২০০৫-২০১০ সময়ে কমে গেছে। ২০০০-২০০৫ সাল সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসের হার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ পরিলক্ষিত হয় যা ২০০৫-২০১০ সময়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে যায়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি একটি সৃজনশীল সামাজিক নীতি গ্রহণের আহবান জানিয়েছে যা অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের অবমূল্যায়ন, শ্রমিক স্থানান্তর ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিক আধিক্যের মত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বেকারত্বের হার কমাবে।
