থাই সেনাপ্রধানের সমন প্রত্যাখ্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ০০:০৪
থাইল্যান্ডের ক্ষমতা দখল করার পরদিন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল প্রায়ুথ চ্যান-ওচা শীর্ষ রাজনীতিকদের প্রতি সমন জারি করেছিলেন। সেই সমনে সাড়া দিয়ে হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা ও তার সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রী। কিন্তু এই সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন ইংলাক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চারুপং রুয়াংসুয়াং। তাকে অনুসরণ করেছেন আরো বেশ কয়েকজন নেতা। সেনাপ্রধান সমন জারি করার পর তা করতে প্রত্যাখ্যান করেন পুয়া থাই পার্টির নেতা ও সেনা অভ্যুত্থানে উত্খাত হওয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রুয়াংসুয়াং। এত ‘দুঃসাহস’ দেখানোয় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কিন্তু গতকাল বিবৃতির মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করবেন না বলে ঘোষণা দেন। তিনি সেনাবাহিনীকে ‘বিদ্রোহী’ উল্লেখ করে বলেন, তাদের সাথে কোনো আপোষ হবে না। তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি, সেনাবাহিনীর কাছে নতিস্বীকার করব না। একদল বিদ্রোহী (সেনাবাহিনী) তাদের সাথে দেখা করার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ডেকে পাঠিয়েছে। তারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে উত্খাত করেছে। আমি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। জনগণ ভোট দিয়ে আমাকে পার্লামেন্টে বসার সুযোগ করে দিয়েছে এবং তাদের ভোটের প্রতি সম্মান জানাতে আমার সরকার আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছিল আমাকে ভোট দেয়া মানুষগুলোর সেবা করার জন্য। কিন্তু নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই সব ধরনের বিদ্রোহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে আমি প্রস্তুত। আমি নিরাপদে আছি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থান করছি।’ ক্যু-বিরোধী বিক্ষোভ: এদিকে, গতকালও থাইল্যান্ডে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। সেনাবাহিনীকে দিনভর বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। বিকালের দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সেনাবাহিনী অ্যাকশনে যায়। তারা কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ব্যারাকে নিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। ইংলাকের মন্ত্রীরা আটক:থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সময়কার বেশিরভাগ মন্ত্রী সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। ক্ষমতা দখল করার পর সেনাবাহিনী ১৫৪ জন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে সমন জারি করার পর হাজিরা দিতে গেলে এদের আটক করা হয়। তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। যাদের শারিরীক অসুস্থতা আছে কেবল তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।