গতকাল দুপুর পৌনে ১টা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘটনার উত্তেজনা মাত্র থেমেছে। সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় তখনো মানুষের চেয়ে পুলিশই বেশি। এরমধ্যেই হাইকোর্ট মাজারে এলেন ফেনীর আলোচিত জয়নাল হাজারী। গায়ে ফুলহাতা লাল শার্ট, বুকের বোতাম খোলা। পরনে সাদা প্যান্ট ও সাদা জুতা, মাথায় সাদা রঙ্গের গোল টুপি। আর সঙ্গে চার-পাঁচজন যুবক। মূল গেটে গাড়ি রেখে হেঁটে সোজা গেলেন হাইকোর্ট মাজারের ভেতরে। মাজার জিয়ারতশেষে আবার গাড়িতে উঠে চলে গেলেন।
মাজার জিয়ারত করার পর গেটের বাইরে আসতে আসতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় জয়নাল হাজারীর। কেমন আছেন? জানতে চাইলে সোজা জবাব- ‘ভালো আছি, আপনারা কেমন’। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান (একরামুল হক) হত্যার ঘটনায় তো আপনার নামও আসছে, স্থানীয় এমপি নিজাম হাজারীও আপনাকে দায়ী করেছেন- এসব কথার উত্তরে হাজারী বললেন ‘এসব বলায় আমার বরং ভালো হচ্ছে’। একরাম খুনের দিনই আপনার পত্রিকায় (হাজারিকা প্রতিদিন) ছাপা হয়েছিল যে, ফেনীতে গুম-খুনের পরিকল্পনা হচ্ছে, এজন্যই আপনাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এবার তিনি বললেন, ‘সাংবাদিকরা নানা সূত্র থেকে ধারণা করে রিপোর্ট লিখতেই পারেন, তাই বলে সাংবাদিকরা কী খুনের সঙ্গে জড়িত থাকেন? যেমন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সময় একবার আমি বলেছিলাম- ফ্রান্স জিতবে, ঠিকই সেবার ফ্রান্স জিতেছিল। আরেকবার বলেছিলাম- এবার স্পেন চ্যাম্পিয়ন হবে, তখনো আমার কথা সত্য হয়েছিল। এটা তো আমি অনুমান থেকে বলেছি। তাই বলে আমি কি ফ্রান্স ও স্পেনকে জিতিয়ে দিয়েছি? এটা কোনো কথা, বলেন।’
এরপর গেটের বাইরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদকর্মীরা ঘিরে ধরেন জয়নাল হাজারীকে। প্রশ্ন ছিলঃ আপনি কোথায় এসেছেন, কোনো আইনজীবীর কাছে? হাজারীর উত্তর ‘না, কোনো উকিলের কাছে আসিনি। আমি প্রত্যেক শুক্রবার মাজারে আসি, একদিনও মিস্ করিনি। গতকাল (শুক্রবার) আসতে পারিনি, তাই আজ (শনিবার) আসলাম।’ একরাম খুনের ঘটনায় তো আপনার নাম আসছে- এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘আমি বহু বছর ধরে ঢাকায় থাকছি। রাজনীতিতে নেই, কিছুতেই আমি নেই। ভিডিও ফুটেজেই তো প্রমাণ হচ্ছে, কারা খুনি। সুতরাং এসব বলে লাভ হবে না। যারা একরামকে গুলি করেছে, তাদের একজন তো তার (এমপি নিজাম হাজারীর) মামাতো ভাই।’ আরেকজন প্রশ্ন করলেন ‘এতক্ষণ এখানে কাউকে পুলিশ ঢুকতে দেয়নি; কিন্তু আপনাকে পুলিশ ভেতরে যেতে বাধা দিল না’। হাজারীর জবাব ‘আমি তো কাউকে কিছু বলিনি, ওরাও (পুলিশ) কিছু বলেনি। কেন আমাকে বাধা দিল না, এটা তো আমার কাছেও রহস্য।’ এরপর গাড়িতে উঠে নিজ গন্তব্যে চলে যান ফের আলোচনায় আসা জয়নাল হাজারী।
