নানা কারণে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামার কাজটি যাদের করতে হয় তারা বেশ ভালো করেই জানেন যে এ কাজটিতে শরীরের ওপর দিয়ে কতটা ধকল যায়। তবে সম্প্রতি এ ধরনের কষ্টের অন্তত অর্ধেকটা আনন্দদায়ক করে তুলেছেন আমেরিকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এক মা। মূলত তার সন্তানদের আনন্দের কথা মাথায় রেখেই তিনি ভাজ করা যায় এমন এক ধরনের স্লাইডিং তৈরি করেছেন যেটি দিয়ে অনায়াসেই সিঁড়ির ধাপগুলো পিছল খেয়ে নামা যাবে। এ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এতে বাড়তি সতর্কতাও অবলম্বন করেছেন সৌখিন এই উদ্ভাবক। ত্রিশা ক্লেভারল্যান্ড নামের এই মহিলার বানানো স্লাইড রাইডার নামের এই মজার সিঁড়িটি ইতোমধ্যে বেশ আলোচনারও জন্ম দিয়েছে উদ্ভাবকদের একাধিক অনলাইন ফোরামে। এ ছাড়া এ ধরনের মজার আবিষ্কার নিয়ে কাজ করা একটি ওয়েবসাইট কোয়ার্কি ডট কমের সহায়তায় এখন এ ধরনের পিছল খেয়ে নামার সিঁড়ি বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদনের চিন্তাও করছেন ত্রিশা। মূলত ভাজ করা যায় এমন কিছু ম্যাট দিয়ে এ ধরনের একটি সিঁড়ি তৈরির চিন্তাটি ত্রিশার মাথায় আসে আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে। সে সময় তার ছোট ছেলে-মেয়ের জন্য খানিকটা আনন্দের খোড়াক যোগাতে এমন কিছু করার বুদ্ধি মাথায় এলেও বিষয়টি বড়দের জন্যও মজার একটি অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। আর নিজের এই উদ্ভাবনের ধারণাটি বিচিত্র সব আবিষ্কার নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট কোয়ার্কি ডট কমে শেয়ার করার পর মানুষের অভাবনীয় সাড়াও পেতে থাকেন ত্রিশা। ডিজাইনে ছোটখাটো পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ত্রিশার বানানো স্লাইডরাইডারের নাম কী হবে বা এটিতে কোন কোন রঙ ব্যবহার করা হবে তার সবকিছুই পরামর্শ আকারে এসেছে সাইটটির ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে। বর্তমানে ত্রিশা পরীক্ষামূলকভাবে যে স্লাইড রাইডারটি তৈরি করেছেন সেটি’তে শিশুদের নিরাপত্তায় দু’পাশের নরম রেলিং ছাড়াও পিছল সিঁড়ির একেবারে নিচের প্রান্তে আঘাত প্রতিরোধক কুশন প্যাড সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে মাত্র এক মিনিট সময়ে স্থাপন উপযোগী এই পিছল সিঁড়ি যেন মানুষের স্বাভাবিক ওঠা-নামাকে ব্যাহত না করে সেজন্য সিঁড়ির একটি অংশ স্বাভাবিক অবস্থাতেই রাখা হয়েছে। এদিকে জনপ্রিয় প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন সি-নেট জানিয়েছে শুনতে মজার শোনালেও আগামীতে অনেক স্থানেই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে স্লাইডরাইডার নামের পিছল সিঁড়ির এই উদ্ভাবনটি।
