ছায়াসঙ্গী হয়ে থেকো মা

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ১৯:৫২
মা। জীবনের প্রতিটি ধাপে তুমি ছিলে আমার পাশে ছায়ার মত ছায়াসঙ্গী হয়ে। ছোট্ট মেয়েটি যেদিন তোমার জন্ম নিল, সেই হতে আজঅবধি তোমার অন্তহীন পথচলা আমার সাথে। এমনকি আমার কোলজুড়ে যখন এলো আরেকটি শিশু, তখনও তোমার অবিরাম শ্রম দেয়ার ক্ষেত্রে এতোটুকুও বিরতি ঘটেনি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তুমি আগলে রেখেছ আমায় অতি যতনে। চেতন কিংবা অচেতন মনে তুমিই একমাত্র, যে কিনা আমায় শক্তি জোগাও সামনে এগিয়ে যাবার। আর সেজন্য প্রতিদিনই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই, এমন একজন মায়ের সন্তান হিসেবে আমায় পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য। তোমার মত আদর্শ মা হতে পারব কিনা জানি না, কিন্তু আজ তোমায় জানাতে চাই, মা হবার প্রতিটি মুহর্তে তুমি কিভাবে আমার ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিলে! সময়টা ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি সকাল ৭.৩০ মিনিট। হাসপাতালের কেবিন থেকে নেমে এলাম অপারেশন থিয়েটারের দিকে। ওটিতে যাবার আগে বসার রুম আছে, সেখানে বসে আছি তোমার একটি হাত ধরে। এই হাত যে জীবনে কতবার কত কারণে এভাবে ধরেছি, তার হিসেব করার চেষ্টা করছি। সংখ্যার বিচারে অসংখ্যবার। তাই হিসেব করার ব্যর্থ চেষ্টার মধ্যদিয়ে আসলে সময়কে যেতে দিচ্ছি। এটা ভয় দূর করার জন্য নিজের উদ্ভাবিত একটা টেকনিক বলা যায়। কিন্তু নাহ, আজ কেন যেন টেকনিকটা ঠিকমত কাজ করছে না। আর তুমি বরাবরের মতই কখনো জোরে জোরে, কখনো বিড়বিড় করে দোয়া পড়েছ আর আমার চেয়েও অনেক শক্ত করে আমায় ধরে রেখেছ। যেন পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাকে তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে না পারে। মাগো, এখন ভাবি, জীবনের কত বড় শিক্ষকই না ছিলে তুমি আমাদের। কত দেশ ঘুরি, রাস্তাঘাটে যখনি কোনো শ্রমিকদের দেখি, রোদে কাজ করছে, মুহূর্তেই তোমার সেই কথাটি মনে পড়ে। আর মনে মনে ভাবি, মার্ক্সবাদ তো আমার শৈশবেই পড়া হয়ে গেছে তোমার কল্যাণে। হঠাত্ ডাক্তার আমার কানের কাছে এসে বলল, অভিনন্দন! আমি যেন ফিরে এলাম মর্ত্যলোকে। ২ জন সিস্টার আমাকে ওটি হতে বের করে নিয়ে গেল ভিজিটিং রুমের দিকে। পাশে আমার কন্যাসন্তান একজন সিস্টারের কোলে। আমাকে দেখেই তুমি কেঁদে দিলে। মেয়েটিকে ভাইয়া কোলে নিয়ে কেঁদে ফেলল। আমি এতক্ষণ পাওয়ার আনন্দে হাসিমুখে থাকলেও তোমাদেরকে দেখে কেঁদে দিলাম। নাজমুল আমার হাত ধরে আছে। প্রথম প্রশ্ন, কোনো সমস্যা হইনি তো? আমি হাসি দিয়ে বললাম, না! তারপর ও ওর মেয়ের দিকে গভীর মমতা নিয়ে তাকালো। —থাইল্যান্ড থেকে