শাহজিয়া ইসলাম অন্তন

স্থাপত্যে সুর দেন যিনি

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ১৯:৫৩
একটি জীবন শুধুই একার নয়, শুধুই স্বার্থমগ্নতার নয়... শুধুই পার্থিব বিলাসিতার নয়... অহংকারের মলিনতার নয়...। এমনই এক অনন্য জীবনের রূপকার স্থপতি শাহজিয়া ইসলাম অন্তন। স্থাপত্যকলা বিভাগের কৃতি ছাত্রী। রবীন্দ্র সঙ্গীত, অতুলপ্রসাদ তার কণ্ঠে অমিত সম্ভাবনার ছিল। সুরের মগ্নতাও ছিল অপার। দীর্ঘদিন মগ্ন থাকতে হয়েছে স্থাপত্যকলা নিয়ে, যা এখনো অটুট। জীবনের পরম বন্ধু হিসেবে পেয়েছেন বরেণ্য স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশকে। একই সঙ্গে পড়ালেখা শেষ করে জীবনের সূচনালগ্ন মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। প্রবল স্ট্রগলের মধ্য দিয়ে পেরোতে হয়েছে অনেকগুলো বছর। দুটি সৃজনশীল মানুষের একসাথে পথ চলা। শুরুর দিকে শাহজিয়া ইসলাম একাই চাকরি করেছেন দীর্ঘদিন। স্বামী মুস্তাফা খালিদ পলাশ, সৃজনশীল গুণী স্থপতি। একদিকে নিজের চাকরি, প্রথম সন্তান নৈঋতের জন্ম এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠান ভিসতারা আর্কিটেকস’। ভিসতারা আর্কিটেকসকে প্রতিষ্ঠিত করতে শাহজিয়া ইসলাম অন্তনকে নিরন্তর কাজ করতে হয়েছে। তার স্বামী মুস্তাফা খালিদ পলাশ নন্দিত স্থপতি, পেয়েছেন অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। দুজন মিলে তারা ভিসতারা আর্কিটেকসকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নিয়ে গেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। সফলতার সঙ্গে তারা করেছেন গ্রামীণ ভবন, ব্যাংক এশিয়া ভবন, বিটিআই ল্যান্ডমার্ক ইষ্টার্ন ব্যাংক লি., র্যাডিসন বে ভিউ হোটেল (চট্টগ্রাম), শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ার, র্যাংগস ব্যাবিলোনিয়া, বসুন্ধরা সিটি, সিটি ব্যাংক হেড কোয়ার্টার। এমন অজস্র স্বনামধন্য স্থাপত্যশিল্প। দুজন মিলে শুরু করেছিলেন ছোট্ট প্রতিষ্ঠান। আজ ৩০ জন আর্কিটেক্ট সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন ভিসতারা আর্কিটেক্টস-এ। পুরো প্রতিষ্ঠানের চালিকা প্রধান শাহজিয়া ইসলাম। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো একটি প্রতিষ্ঠান ডেলভিসটা ফাউন্ডেশন। ডেলভিসটা ফাউন্ডেশন সংস্কৃতি চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন এক ভিন্ন ধারার প্রতিষ্ঠান। একটি প্রতিষ্ঠানকে শাহজিয়া ইসলাম অন্তন ও মুস্তাফা খালিদ পলাশ একটি সফল পারিবারিক রূপ দিতে স্বার্থক হয়েছেন। শাহজিয়া ইসলাম অন্তন ও মুস্তাফা খালিদ পলাশ দুজনই গান করেন। ইতিমধ্যেই তাদের সিডি প্রকাশ হয়েছে। মননশীল সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে ডেলভিসতা ফাউন্ডেশন। আবৃত্তি, সেতার, রবীন্দ্র সঙ্গীত, অতুল প্রসাদ, ডিএল রায়, নজরুল সঙ্গীত-এর উপর দেশের ও দেশ ছাপিয়ে ভারতের শিল্পীদের সিডিও প্রকাশ হয়েছে ডেলভিসতা ফাউন্ডেশন থেকে। দিনভর স্থাপত্যের কাজ। বিকেল পাঁচটা থেকে সুর সাধনা, সুরের আড্ডা, সুরের সম্মিলন। নির্মল মাধুর্যে মেতে ওঠেন তারা। স্থাপত্য চর্চা ছাড়াও স্থপতিরা নানা গুণে গুণান্বিত থাকেন। কিন্তু দেখা যায় অনেকেই হারিয়ে যান শুধু প্রফেশনাল কাজের অতলে। ডেলভিসতা ফাউন্ডেশন প্রাণ জাগান সেইসব ঘুমিয়ে থাকা প্রতিভার। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে অবদান রাখছে ডেলভিসতা ফাউন্ডেশন। শাহজিয়া ইসলাম অন্তন জীবনকে দেখেন একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। তিনি বলছিলেন, জীবন শুধুই নিজের জন্য নয়। অন্যকে উপলব্ধি করা, ভালোবাসা ও সম্মান করাও। তাদের পঁচিশ বছরের আলোকিত দাম্পত্য। পরিবার, বন্ধু-স্বজন এমনকি অফিসের সহকর্মীরাও তাদের পারিবারিক সদস্য। প্রত্যেককে ঘিরে থাকেন তারা। সম্প্রতি কোলকাতায় তার স্বামী মুস্তাফা খালিদ পলাশের স্থাপত্য নকশার বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী হয়, প্রদর্শনীটিতে পরিবার, অফিস, বন্ধুজন মিলে বাংলাদেশ থেকে ৫০ জনের একটি দল সেখানে গিয়েছিলেন। দুই সন্তান নৈঋত ও ঈষান। নিরন্তর ছুটে চলা জীবন। তবুও সেখানে আছে পারিবারিক মূল্যবোধ, সুর, ভালোবাসা ও প্রতিষ্ঠানের সফলতা। বলিষ্ঠভাবে দুহাতে সামলাচ্ছেন শাহজিয়া ইসলাম প্রতিষ্ঠান, পরিবার, সঙ্গীত চর্চা ও প্রবল আন্তরিকতার বন্ধু-সুলভতাও। তাই বিয়েটা তাদের জীবনের এক অদ্ভুত স্থাপনার মতন। সৃজন, সার্থকতা ও ভালোবাসার মিলিত রূপ। একে অন্যকে জীবনের প্রতিটি কাজে এগিয়ে দেয়া, এগিয়ে চলা, আবার সন্ধ্যে হলেই সুরের কাছে জীবনের অমিত সমর্পন।