বিশ্বব্যাপী লাখো শ্রোতা-দর্শকের হূদয়ে ঝড় তুলতে এই গানের মিউজিক ভিডিওতে শাকিরার সঙ্গে আছেন তার পার্টনার ও বার্সেলোনা তারকা জেরার্ড পিকে, নেইমার, সেস ফ্যাব্রেগাস ও লিওনেল মেসিও। আছেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা এরিক আবিদালও। আছেন শাকিরা-পিকে জুটির একমাত্র সন্তান মিলানও। বার্সেলোনার বাইরের তারকাদের মধ্যে আছেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো, র্যাদামেল ফ্যালকাও
ওয়াকা ওয়াকার কথা মনে আছে? ফুটবল ভক্ত থেকে শুরু করে সঙ্গীত পিপাসু; সবার মধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করা দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই গানের পর এবার ব্রাজিল মাতাতে আসছেন শাকিরা। কলম্বিয়ায় জন্ম নেয়া এই শিল্পী বিশ্বকাপ নিয়ে গাওয়া তার নতুন গান লা লা লা দিয়ে এরই মধ্যে ঝড় তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে। আগামী মাসের ১২ তারিখ ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। আর ফুটবলের সঙ্গেই যার নিত্য উঠা বসা সেই শাকিরা কি এই উপলক্ষ্যে তার ভক্তদের নতুন কিছু উপহার না দিয়ে পারেন? ওয়াকা ওয়াকা গানের ভিডিও করতে গিয়েই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের সঙ্গে মন দেয়া নেয়ার শুরু এবং পরবর্তীতে পিকেকেই জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নেয়া শাকিরা তাই এবার এসেছেন ‘লা লা লা’ নিয়ে। নিজের নতুন অ্যালবাম ‘শাকিরা’র পাশাপাশি গানটি থাকছে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে মুক্তি পেতে যাওয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অফিসিয়াল অ্যালবামেও।
বিশ্বব্যাপী লাখো শ্রোতা-দর্শকের হূদয়ে ঝড় তুলতে এই গানের মিউজিক ভিডিওতে শাকিরার সঙ্গে আছেন তার পার্টনার ও বার্সেলোনা তারকা জেরার্ড পিকে, নেইমার, সেস ফ্যাব্রেগাস ও লিওনেল মেসিও। আছেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা এরিক আবিদালও। আছেন শাকিরা-পিকে জুটির একমাত্র সন্তান মিলানও। বার্সেলোনার বাইরের তারকাদের মধ্যে আছেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো, র্যাদামেল ফ্যালকাও। ব্রাজিল বিশ্বকাপের গানে সাম্বা থাকবে না তাই কি হয়? ভিডিওতে সাম্বার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিল তারকা ক্যারলিনহোস ব্রাউন। কলম্বিয়ার বারানকিলাতে ১৯৭৭ সালে জন্ম নেয়া শাকিরার এই সংগীত প্রতিভার স্ফুরনটা ঘটেছিল স্কুল জীবনেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠান সরাসরি (লাইভ) উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রতিভার প্রকাশ ঘটাতে শুরু করেন। পাশাপাশি ছিল বেলি ড্যান্সিং-এর সাথে স্বার্থকভাবে রক অ্যান্ড রোল, ল্যাটিন, পূর্ব মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গীতের মিশ্রন ঘটানো। অনর্গল ইংরেজি, পর্তুগিজ এবং ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে সক্ষম শাকিরা স্থানীয় প্রযোজকদের সহায়তায সঙ্গীত জীবনের প্রথম দুইটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। কিন্তু সেগুলো কলম্বিয়ার বাইরে খুব একটা পরিচিতি পায়নি। ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় শাকিরা পরবর্তীতে নিজেই নিজের অ্যালবাম প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৫ সালে তাঁর নিজস্ব প্রযোজনায় প্রথম অ্যালবাম বাজারে আসে। যা তাঁকে লাতিন আমেরিকা ও স্পেনে খ্যাতি এনে দেয়, এবং তাঁকে একজন রহস্যময় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে দোন্দে এস্তান লোস লাদ্রোনেস অ্যালবামটি শিল্পী হিসেবে তাঁর গুরুত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এই অ্যালবামটির জন্য তিনি রোলিং স্টোন, অল মিউজিক গাইড, এবং বিলবোর্ড ম্যাগাজিনের সঙ্গীত সমালোচকদের কাছ থেকে উত্সাহব্যাঞ্জক সাড়া পান। বর্তমানে বার্সেলোনায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করা এই শিল্পী দুইবার গ্র্যামি পুরস্কার, সাতবার ল্যাটিন গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন।
শাকিরা ১৯৯৫ সালে কলম্বিয়ান টেলিনোভেলা এল ওয়াসিস-এ লুইসা মারিয়া চরিত্রে অভিনয় করে ছোটপর্দায় তার যাত্রা করেন। যদিও, একমাত্র মিউজিক ভিডিও বাদে ভিডিও মাধ্যমে শাকিরা ইসাবেল মোবারক পূর্ণ নামের এই শিল্পীর উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ে না।
— উইকিপিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে
