আসছে বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে আনার মাধ্যমে সাদা করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকছে। অর্থাত্ আবাসন খাতে নির্ধারিত মূল্যে ফ্ল্যাট কেনার মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। এর বাইরে প্রযোজ্য হারে কর এবং ওই করের উপর ১০ শতাংশ জরিমানায় যে কোন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অবশ্য অর্থমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে না। গতকাল অর্থমন্ত্রী বাজেটের সারসংক্ষেপ অনুমোদন দিয়েছেন বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।
বিগত তিন অর্থবছরেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এতে কাঙ্খিত সাড়া মেলেনি। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দেশের অর্থনীর ৫০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছায়া অর্থনীতি বা অপ্রদর্শিত অর্থ রয়েছে। অথচ এনবিআর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ২০৫ জন ব্যক্তি ২৩৪ কোটি অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এতে সরকার ১৮ কোটি টাকা কর পেয়েছে। আর বিশেষ সুযোগে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ২ হাজার ৫শ’ জন এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। এতে সরকার ২৬ কোটি টাকা কর পেয়েছে।
এছাড়া বিগত দুই অর্থ বছরে কেবলমাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও এ খাতেও প্রত্যাশিত অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূল স্রোতে আসেনি। ২০১১-১২ অর্থবছরে মাত্র ৮২ জন ব্যাক্তি এই সুযেগ নিয়ে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ করেছেন। তখন এই খাতে ৩৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে এনবিআর ৩৮ কোটি টাকা কর আদায় করেছে। আর বিগত ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই পন্থায় অর্থ বৈধ করার চিত্র ছিল আরো হতাশাজনক। আলোচ্য সময়ে ২৫ জন ব্যক্তি এই খাতে ৩৮ কোটি টাকা বৈধ করেছেন।
অবশ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য সংস্থার ভয়ে এসব অর্থের মালিকরা কালো টাকা বিনিয়োগে আনতে সাহস পাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই সুযোগে এসব টাকা মালয়েশিয়া ও কানাডায় চলে যাচ্ছে বলেও অনেকেরই অভিযোগ।
