বিমানের ‘ল্যান্ডিং’ চায় সিপিএম!

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২২:০২
ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচনে বামেরা যে এমন শোচনীয় ফল ভোগ করবে তা বুঝতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর তাই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদকের পদ থেকে দাপুটে নেতা বিমান বসুকে নামিয়ে আনার দাবি উঠেছে দলে। আর দেরি নয়, জুনের প্রথম সপ্তাহেই রাজ্য কমিটির বৈঠকে অবিলম্বে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী ভেঙে দেয়া এবং বিমানকে পদচ্যুত করার দাবি তুলবে জেলা নেতারা। সিপিএম ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর দিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম। জুনের ২ ও ৩ তারিখ বৈঠকে বসছে সিপিএমের রাজ্য কমিটি। সেই বৈঠকেই সিপিএমের সর্বস্তরে পরিবর্তনের দাবিতে জোরালোভাবে সরব হতে চলেছে সাত থেকে আট জেলা নেতৃত্ব। প্রকাশ কারাটের একের পর এক কৌশলগত ভুল এবং আলিমুদ্দিন নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই দলের আজ এই করুণ অবস্থা বলে মনে করেন সিপিএমের ডাকসাইটে কয়েকজন জেলা নেতা। তাদের বক্তব্য, ২০১১’র বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরই রাজ্য কমিটির তত্কালীন সদস্য তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ দে বৈঠকে বলেছিলেন, আমি রাজ্য কমিটি থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। আমাকে অব্যাহতি দিন এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী অবিলম্বে ভেঙে দেয়া হোক। কিন্তু তার কথা তো মানা হয়নি, বরং তারপর ২০১২’র রাজ্য সম্মেলনেও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে বা নেতৃত্বে বিশেষ কোনও রদবদল হয়নি। সিপিএমের একাধিক জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য, তখনই যদি পার্থর কথা মেনে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে রদবদল করা হতো, তাহলে আজ এই বিপর্যয় হতো না। সিপিএমের একাধিক জেলা নেতার মতে, লোকসভা ভোটের প্রচার কৌশল থেকে রাজনৈতিক লাইন ঠিক করা সবখানেই ভুল হয়েছে। লড়াইটা যখন মোদী বনাম মমতায় পরিণত হয়েছিল, তখনও সিপিএম মোদী অপেক্ষা মমতাকেই বেশি আক্রমণ করায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভুল বার্তা গিয়েছিল। যার জেরে মোদীকে আটকাতে তারা মমতার পাশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী রাজ্য সম্মেলন পর্যন্ত বিমান বসুরা কীভাবে বিদ্রোহ ঠেকান, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।