একটি ‘পেক’ গ্রহণ করে বিপদে পড়েছেন ইরানের প্রখ্যাত অভিনেত্রী লেইলা হাতামি। সম্প্রতি ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উত্সবে লেইলার গালে একটি ‘পেক’ দেন উত্সব উদযাপন কমিটির প্রেসিডেন্ট গিলিস জ্যাকব। তা নিয়ে ইরানে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। লেইলাকে দেশে ফেরার পর দোররা মারার এবং কারাদণ্ড দেয়ার দাবি উঠেছে। পাশ্চাত্যে ‘পেক’ হচ্ছে হাতে হাতে মিলিয়ে করমর্দন করার মতোই মুখের একপাশে মুখ ছুঁইয়ে অভ্যর্থনার একটি রীতি। চুম্বনের সাথে মানসিক আবেগ এবং অনুভূতি জড়িত। কিন্তু ‘পেক’ পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে স্রেফ একটি অনুভূতি-বিবর্জিত শুভেচ্ছা বিনিময়। কিন্তু ইরানের মানুষ বলছে, জ্যাকবের পেকের জবাবে মুখ বাড়িয়ে না দিয়ে সরিয়ে নিয়ে বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলতে পারতেন। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্কের ঝড়। জ্যাকব তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, লেইলার সংস্কৃতি ও ধর্মকে অপমান করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। এটা ছিল অনুভূতিহীন একটি সম্ভাষণ। কিন্তু দেশটির গণমাধ্যম জ্যাকবের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হোসেন নুশাবাদি বলেছেন, ‘এটা অশোভন। লেইলা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন।’ হিজবুল্লাহ ছাত্র সংগঠন ইরানের রেভ্যুলিশন গার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত। এই ছাত্র সংগঠন ইরানের সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন। তারা লেইলার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা বিবৃতি দিয়ে লেইলার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন। আসগার ফারহাদির ‘আ সেপারেশন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত পরিবারে জন্ম নেয়া লেইলা। ছবিটি ২০১২ সালে শ্রেষ্ঠ বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার জিতেছিল। কিন্তু গণমাধ্যম বলছে, এসব কৃতিত্বের আলো ছাপিয়ে তার সামনে অপেক্ষা করছে ঘোর অন্ধকার। তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি না কিংবা ফিরলে কি পরিণতি ভোগ করতে হবে তা নিয়ে চিন্তিত তার পরিবার।
