ব্যক্তি মালিকানাধীন আড়তদারদের দাপটে প্রায় মাছ শূন্য হতে বসেছে বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের আওতাধীন খুলনার মত্স্য অবতরণ ও পাইকারি মত্স্য বাজার। গত এক দশক ধরে সরকারি এ আড়তে মাছ কেনাবেচা হচ্ছে খুবই কম। মাসিক রাজস্ব আদায় কম গেছে। সরকারের বেশি টাকা খরচ হয় কর্মচারীদের বেতন-ভাতায়। এক সময়ের জমজমাট এ কেন্দ্র থেকে দিনে প্রায় ২৫ হাজার টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হতো। এখন দিনে ৫ হাজার টাকাও আদায় হয় না বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। এখানকার ২৬ আড়তদারের কাছে রাজস্ব বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নগরীর ৫ নম্বর কাস্টমস ঘাট এলাকায় অবস্থিত মত্স্য অবতরণ ও পাইকারি মত্স্য বাজারটি এখন চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সরকারি এ দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও মাছের অভাবে এখানে লোকসমাগম হয় খুবই কম। এখানে মাছ না আসার কারণ হিসাবে সুন্দরবনে জলদস্যুদের প্রভাব, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় আড়ত প্রতিষ্ঠা এবং বাজার সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা। ১০ বছর আগেও এখান থেকে দিনে ২৫-৩০ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হতো। জেলেরা না আসায় এখন ৫ হাজার টাকাও আদায় হয় না বলে জানিয়েছেন এখানকার কর্মকর্তারা।
মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার খোয়াজ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় নতুন আড়ত্ স্থাপন করা হয়েছে। যার কারণে জেলেরা এখানে মাছ নিয়ে আসে কম। আড়তদাররাও ওই সব এলাকায় নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমপ্রসারিত করেছেন। যে কারণে মাছ কেনাবেচার সরকারি এ মোকামটি তার জৌলুস হারাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে মাছের আমদানি কিছুটা বাড়লেও প্রায় সারাবছর শূন্য থাকে আড়তটি। তিনি বলেন, এখানে ১৬ জন আড়তদার রয়েছেন। আড়তদারদের নিকট থেকে শতকরা ১.২৫ টাকা হারে সরকারি রেট অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা হয়। তাদের নিকট প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।
সমপ্রতি এ দপ্তরে গিয়ে দেখা গেছে, শূন্য আড়তঘরে ১৬টি কাটা (দাঁড়িপাল্লা) রয়েছে। কয়েকটি ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি রাখা। দোতলায় বসে কাজ করছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি এ দপ্তরে ম্যানেজার, অফিস সহকারী, হিসাব রক্ষক, উচ্চতর অফিস সহকারী, সহকারী মার্কেটিং অফিসার, ঝাড়ুদার, সুইপারসহ ১৮টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ম্যানেজার ও সহকারী মার্কেটিং অফিসার পদ দু’টি শূন্য। সারা মাসে যে পরিমাণ রাজস্ব এ দপ্তর থেকে আদায় হয় তার থেকেও বেশি যায় কর্মকর্তাদের বেতনে। বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে গড়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, মার্চে ৬৮ হাজার টাকা ও এপ্রিল মাসে ৫৮ হাজার টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৩৩ লাখ টাকা এবং ২০১১-১২অর্থবছরে ১৯ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়, ১৯৬৬-৬৭ সালে তত্কালীন পাকিস্তান আমলে নগরীর ৫ নম্বর কাস্টমস ঘাট এলাকায় সরকারি তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয় মত্স্য অবতরণ ও পাইকারি মত্স্য আড়ত।
