গণতন্ত্র ফেরত চাই

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২৩:১৩
থাইল্যান্ডে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আকার ক্রমশই বড় হচ্ছে। সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পরদিন রাস্তায় গোটা বিশেক লোক বিক্ষোভ করেছিল যারা একটি গণতান্ত্রিক সংগঠনের কর্মী। কিন্তু গতকাল সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা কয়েকশ’ তে পৌছে যায়। তাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে তর্কযুদ্ধেও লিপ্ত হতে দেখা যায়। সবার হাতে হাতে ছিল ব্যানার ও প্লাকার্ড। মুখে ছিল শ্লোগান -গণতন্ত্র ফেরত চাই। তারা সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চ্যান-ওচার বিরুদ্ধেও নানা শ্লোগান দিতে থাকে। এদিকে, সেনাবাহিনী প্রথম দুই দিন কিছুটা সহনীয় আচরণ করলেও গতকাল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তাদের ঘরে ফিরে যেতে নির্দেশ নিয়ে বলেছে, অমান্য করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিক্ষোভকারীদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে জানায় সেনাবাহিনী। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলছে তারা সেনাবাহিনীর হুমকিকে ভয় পায় না। তারা গণতন্ত্র ভালোবাসে। সেজন্য সেনাবাহিনীর অস্ত্রের মুখোমুখি হতেও আপত্তি নেই তাদের। রাটসাপ্রাসংয়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দলকে সেনারা ধমক দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলে তাদের ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ জনতা। নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে সেনাবাহিনী বিক্ষোভ ‘দর্শন’ করতে থাকে। এসব কারণে সেনাবাহিনী গতকাল বলেছে তারা আর জরুরি অবস্থার লংঘন সহ্য করবে না। কোনো ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশ দেখলেই অ্যাকশনে যাবে। তারা বলেছে, বিক্ষোভরত অবস্থায় কাউকে আটক করলে তাদের দু/এক দিন বন্দি রাখা হবে। কিন্তু তারা যদি ছাড়া পেয়ে আবার বিক্ষোভে অংশ নেয় তাহলে দুই/এক বছর কারাদন্ড দেয়া হবে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লে. জে. আপিরাত কংসোমপং গতকাল বলেন, আমরা বিক্ষোভকারীদের আজকেই শেষ সুযোগ দিচ্ছি। কিন্তু তারা যদি পাত্তা না দেয় তবে কঠোর অবস্থানে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, আমরা ভয় পাই না। সেনাবাহিনীর মুখের উপর তারা ‘সেনা সরকার বিদায় হও’, ‘অভ্যুত্থানকে না বল’, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও’ ইত্যাদি শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার দোলাতে থাকে। একজন বিক্ষোভকারীকে সেনারা সরিয়ে নিয়ে যাবার সময় তিনি চিত্কার করে বলতে থাকেন, তোমরা সেনাবাহিনীকে যত ভয় পাবে তারা তত গায়ের উপর উঠবে। তাদের মুখোমুখি হও। ওরা ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাবে।