কুষ্ঠ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন দেশের চা-শিল্প শ্রমিকরা। চিকিত্সকদের মতে, ঘনবসতি ও নোংরা পরিবেশে বসবাস, পুষ্টির অভাব, একই ঘরে মানুষ ও পশুপাখির বসবাস এবং সর্বোপরি অসচেতনতার কারণে চা শ্রমিকদের মধ্যে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ‘হীড বাংলাদেশ’ এর কুষ্ঠ রোগ নির্মূলকরণে ‘কুষ্ঠ সমম্বয় প্রকল্পে’র এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংস্থার উপজেলা অফিসে অনুষ্ঠিত ওই সভায় লেপ্রসী ইন্টিগ্রেশন প্রজেক্ট এর কো-অর্ডিনেটর পরেশ দেবনাথ জানান, কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন বের হয়নি। ১৯৯৮ সালে কুষ্ঠ রোগ নির্মূলের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে জরিপ চালিয়ে কুষ্ঠ রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশের চা বাগানসমূহে গড়ে একশ’ জনের মধ্যে দুইজন কুষ্ঠ রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায় কুষ্ঠ রোগ নির্মূলকরণের লক্ষ্যে ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সভায় সংস্থাটির চিকিত্সকরা জানান, পূর্বেকার সময়ে কুষ্ঠকে অভিশপ্ত রোগ বলে ধারণা করা হতো। সিলেটের ৭০ ভাগ লোক মনে করেন চিকিত্সায় এ রোগ ভাল হয় না। অথচ নিয়মিত চিকিত্সায় এ রোগ সম্পূর্ণরূপে ভাল হয়। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় ১৩ হাজার ৭শ’ জন কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগে ‘হীড বাংলাদেশে’র অধীনে চিকিত্সাধীন ১০৩ জন কুষ্ঠ রোগীর মধ্যে ১৭ জনই সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, চা বাগানে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ রোগ সংক্রমণের প্রবণতা অনেক বেশি। অনেকে অসচেতন, তাই উন্নত চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। চা বাগান এলাকায় ঘনবসতি ও স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে বসবাস করার জন্য এসব রোগের সংক্রমণ বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
