সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ে নিলেন থাই সেনাপ্রধান

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২৩:১৫
থাইল্যান্ডে অভ্যুত্থানের পর দেশটির সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল প্রায়ুথ চ্যান-ওচা। তিনি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। পুলিশ প্রধানকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে একজন জেনারেলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এদিকে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা গতকাল মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এবং ইংলাকের একটি ঘনিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ব্যাংকক পোস্ট ও সিএনএন’র। থাইল্যান্ডের সিনেট বিলুপ্ত করার অর্থ হলো সমস্ত ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ এখন সেনাপ্রধানের হাতে। জাতীয় শান্তি ও শৃঙ্খলা তত্ত্বাবধান কাউন্সিলের (এনসিপিও) প্রধান তিনি। জেনারেল প্রাইউথ চান-ওচা ঘোষনা দিয়েছেন, তিনি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ এবং উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রন নিয়েছেন। কারন কোনো বিষয়ে পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হলে সেটা নেওয়া যাবে। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ প্রধান জেনারেল আদুল সেনগিংকেউকে প্রধানমন্ত্রী অফিসে বদলি করা হয়েছে এবং ওএসডি করা হয়েছে। এছাড়া ওএসডি করা হয়েছে বিশেষ তদন্ত বিভাগের প্রধান তারিত পেংদিত এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব নিপাত থংলেককে। তারা দুজন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা এবং তার ভাই থাকসিনের অনুগত বলে জানা গেছে। পুলিশের উপ-প্রধান জেনারেল ওয়াচারপল প্রছারনারাজকিতকে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ তদন্ত বিভাগে চাতচাওয়াল সুকসোমিতকে এবং জেনারেল সুরাসাক কানজানারাকেতকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারে কেবল পরিবর্তনই নয়, দেশটির শিক্ষাবিদ এবং ভাষ্যকরদেরও সেনাবাহিনী তলব করেছে। যারা আসছেন না তাদের নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে । অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী ১৫৫ জনকে তলব করেছিল যাদের মধ্যে ১শ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগই রাজনীতিবিদ। সেনাবাহিনী জানিয়েছেন, তারা ভাল আছেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। কেবল রাজনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদই নয়। তলব এবং আটকের তালিকায় আছেন সাংবাদিকরাও। সেনাবাহিনী গতকাল ১৮জন জ্যেষ্ঠ সম্পাদককে তলব করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ চ্যানেলগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। অনেক কমিউনিটি চ্যানেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। বিবিসি, সিএনএন, সিএনবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যানেলকে এখনো কেন সমপ্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়নি সেই সম্পর্কে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, এসব চ্যানেল চালু করতে কিছু কারিগরি সমস্যা আছে।