কারণ ছাড়াই গ্রাহকদের একাউন্ট বন্ধ করছে এইচএসবিসি!

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২৩:১৫
আয় কম হয়-এমন অজুহাতে ব্যক্তি ও কর্পোরেট ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিচ্ছে এইচএসবিসি! বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ব্যবসা করলেও হংকং সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি) কোন কারণ না দেখিয়েই গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, কিছু ‘ক্রাইটেরিয়া’ মেনে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সেই ‘ক্রাইটেরিয়া’ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাচ্ছে না গ্রাহকদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য ব্যাংকের মতই বিদেশি এই ব্যাংকটি এদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে মুনাফা নিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় অর্থনীতির স্বার্থে তাদের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রেও তারা গড়িমসি করে থাকে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলেও বিস্ময়ের শেষ নেই । সম্প্রতি বিদেশি এসব ব্যাংকের বিষয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও। তিনি বলেছেন, এসব ব্যাংক শুধু তাদের স্বার্থে ব্যবসা করে যাচ্ছে, অর্থনীতিতে কোন ভূমিকা রাখছে না। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরাও বলে আসছেন, দেশে কার্যত বিদেশি ব্যাংকগুলো এদেশের অর্থনীতিতে কোন ভূমিকা রাখছে না। ব্যবসা করে মুনাফা তুলে নেয়াই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তারা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তোয়াক্কা করছে না। হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যাংকের গ্রাহকরাও। অথচ দেশের অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে বিদেশি এসব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা বেশি ভোগ করে। কিন্তু গ্রাহক সেবার দিকে তাদের তেমন মনোযোগ নেই। গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেয় কারণে-অকারণে। জানা গেছে, বাংলাদেশে কাজ শুরু করার পর থেকে এইচএসবিসি ব্যাংক উচ্চ মুনাফা করছে। এখন সে আয় আরো বাড়াতে যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে আয় কম হচ্ছে সেসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে তারা। ধীরে ধীরে তাদের রিটেইল ব্যাংকিংও বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলেও শোনা গেছে। এ ব্যাংকের সেবা নিতে অন্য যেকোন বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি চার্জ পরিশোধ করলেও ব্যাংকের এই বিরূপ আচরণে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক বলেন, বিদেশি ও দেশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা থাকা বাঞ্ছনীয়। দেশি ব্যাংকের মুনাফা দেশেই বিনিয়োগ হয়। কিন্তুু বিদেশি ব্যাংক মুনাফা নিয়ে যায়। আয় কম হয় বলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে সেটি সমীচীন হবে না। তবে আশার কথা যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, বিদেশি ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে বাধ্য করার জন্য কঠোর নীতিমালা করতে হবে। সূত্রমতে, দেশের বেশিরভাগ শিল্প ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের। এসব খাতে বিনিয়োগ করলে দেশ বেশি উপকৃত হয়। কিন্তু এ খাতে লাভ কম বলে ঋণ দিতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কম। এদিকে অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে এইচএসবিসি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নিয়ম-কানুন মেনেই ব্যাংকিং করছি আমরা। এর বাইরে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।