মাথার ওপরে প্রখর সূর্য। পায়ের নিচে ধবধবে বালুর প্রচণ্ড উত্তাপ। আর বাতাস? সেতো আগুনের ফুলকি। এরই মাঝে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলছে গোদাগাড়ীর চরাঞ্চলের মানুষের। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলেসিয়াস তাপমাত্রায় ওষ্ঠাগত চরাঞ্চলের মানুষের জীবন। আধুনিক এই যুগে সভ্যতা বিচ্ছিন্ন গোদাগাড়ীর চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে বিদ্যুত্ই নেই। নিজস্ব উদ্যোগে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলেও তা ব্যয়বহুল। সবার কপালে জোটেনি সৌর বিদ্যুতের আলো এবং সৌর বিদ্যুতে চালিত ছোট্ট পাখার একটু প্রশান্তির বাতাস। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলছিলেন, মাথার ওপরে প্রখর সূর্য আর পায়ের নিচে বালু থাকলে মাটির ওপর থেকে অন্তত ২০ গজ পর্যন্ত তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি হবে। যা রেকর্ড অঞ্চলের তাপমাত্রার থেকে স্বভাবতই ৩-৫ ডিগ্রি সেলিসিয়াস বেশি হবার কথা। প্রচণ্ড দাবদাহে ওই ইউনিয়নের কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। চর আষাঢ়িয়াদহ ইউপি মোড়ের স্কুল ছাত্রী ফাতেমা খাতুন তিন কিলোমিটারের ধু-ধু বালুচর পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন পদ্মার এপারে ভাটোপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ে আসত। এখন স্কুল ছুটি। তাই কিছুটা স্বস্তি। ফাতেমা জানায়, সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার- প্রতিদিন বালুচর পাড়ি দিয়ে ওপারে যাওয়া।
