কিডনির জটিল সমস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পা শহরের বাসিন্দা রবার্ট বারবার। আর অপেক্ষা করছিলেন সেই দিনটির জন্য যেদিন তার কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সবকিছু মিলিয়ে যোগ্য একজন দাতা বা ঠিকঠাক ম্যাচ করা কিডনির সন্ধান মিলবে। অবশেষে প্রায় ১২ বছরের প্রতীক্ষা শেষে এলো সেই দিন। চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম দিকেই তাকে ফোন করে জানানো হলো যে অবশেষে সন্ধান মিলেছে সেই কাঙ্ক্ষিত কিডনির যেটি প্রতিস্থাপন করা যাবে রবার্টের শরীরে। এজন্য ১২ মার্চ সকাল ছয়টায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সম্ভাব্য সময়ও ঠিক করা হলো। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে অনেকটা তীরে এসে তরী ডোবার মতো অবস্থার মুখেই পড়লেন রবার্ট ও তার সাথে টাম্পা জেনারেল হাসপতালে রওনা করা বান্ধবৗ আর্নেট জার্মান। নিজের বাড়ি ব্রাডেনটন থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে পথেই সব সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা তৈরি হলো। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঠিক সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত হতে না পারলে যে শেষতক অপারেশনটাই আর করা হয়ে উঠবে না সেটা বেশ ভালো করেই জানতেন রবার্ট ও তার সঙ্গীরা। আর তাই চাকা পাংচার হওয়া স্বত্তেও এ অবস্থাতেই গাড়িটিকে চালিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছিলেন তারা। তবে ততক্ষণে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। ঘড়ির কাটা বলছে আর মিনিট পনেরো’র মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছুতে না পারলে বারো বছরের অপেক্ষাটাও হয়তো আরও দীর্ঘায়িত হবে। এ অবস্থায় অনেকটা উপায়ন্তর না দেখেই পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করে পুরো ঘটনাটির বিস্তারিত জানান রবার্টের বান্ধবী জার্মান। আর তাদের এই ফোন পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জ্যাসন ডিরোকো এবং জর্জ বয়ড নামের দুই তরুণ পুলিশ অফিসার। পুরো বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুলিশের গাড়িতে অনেকটা পুলিশী প্রহরাতেই ঝড়ের বেগে রবার্ট ও তার সঙ্গীদের পৌঁছে দেন হাসপাতালে। এমনকি তাদের এগিয়ে দিয়ে আসে অপারেশন থিয়েটারের করিডোর অবদিও। তবে মজার বিষয় হলো, নিজেদের এই মহানুভবতার কথা কখনোই কোনো সহকর্মী বা অন্য কাউকে জানাননি ডিরোকো আর বয়ড নামের ঐ দুই পুলিশ অফিসার। তবে সম্প্রতি নতুন কিডনি পেয়ে অনেকটাই সুস্থ রবার্ট তার কৃতজ্ঞতার কথা জানাতে টাম্পা পুলিশ দপ্তরে গিয়ে হাজির হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ সময় স্থানীয় পুলিশ বিভাগের প্রধান জেন ক্যাস্টর তাদের ভূয়সী প্রশংসা করলেও ডিরোকো ও বয়ড ছিলেন অবিচল। আর পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডিরোকো পরে বলেন, ‘রবার্ট ও তার সঙ্গীদের পৌঁছে দেওয়ার পর গাড়ির ভেতরের ভিডিওচিত্রে তাদের যে হাসিটুকু আমরা দেখেছি তার কোনো মূল্য হয় না এবং এ ধরনের অনুভূতিকে কোনো কিছু দিয়েই মাপা সম্ভব নয়।’
